সঙ্গী না থাকলে দায়িত্বটাই বদল ঘটায়। ভারমুক্তি নয়, দায়িত্বের চাপ ভেতর থেকে সেরা পারফরম্যান্স টেনে আনে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নিজের ভেতরে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পান।

সিরাজ ও বুমরাহ
শেষ আপডেট: 26 August 2025 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ড সফরে (England Series) ভারতের সেরা বোলার তিনিই। ২৩টি উইকেট তুলে নিয়ে সিরিজের শেষ পর্যন্ত আলোচনায় ছিলেন মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj)। আরও বড় বিষয়, যে ম্যাচগুলোয় জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) খেলেননি, সেখানেই যেন উত্তুঙ্গ আগ্রাসন, বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে বল করেছেন। কিন্তু কেন? কীভাবে? এবার নিজেই খোলসা করলেন সেই রহস্য।
সিরাজ স্পষ্ট জানালেন, চাপই তাঁকে চাগাড় দিয়ে তোলে। দায়িত্ব কাঁধে নিলেই ভেতরের আগুন জ্বলে ওঠে দ্বিগুণ। ইংল্যান্ড সফরের ওভাল টেস্টের প্রসঙ্গ উঠতে তিনি বলেন, ‘যখনই দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পাই, এমনকি যদি সেটা খুব সাধারণ কোনও সিরিজও হয়, আমার পারফরম্যান্সের গ্রাফ উপরে ওঠে। দায়িত্ব অন্য রকম আনন্দ দেয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এজবাস্টনে সবাই আমায় নিয়ে কথা বলছিল। এবার সেই সব আলোচনা বন্ধ করার সময় এসেছে। আমি নিজেই জানি, আমি কী করছি। বাইরের কথায় কান দিই না। কারণ মানুষ আমার লড়াই বুঝবে না। তা সত্ত্বেও মনে হয়েছিল, এবার এই চর্চা, এই গুঞ্জন থামাতে হবে। কারণ সবকিছুই খুব বেড়ে যাচ্ছিল!’
ইংল্যান্ড সফরে বুমরাহকে গোড়া থেকেই সীমিত ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সিরিজ শুরুর আগেই প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকর জানিয়ে দেন, দলের অভিজ্ঞ পেসার সর্বাধিক তিনটি টেস্টে ময়দানে নামবেন। এর বেশি নয়। ফলে বাধ্যত দলের দায়িত্ব বুঝে নেন সিরাজ। বিশেষ করে ওভাল টেস্টে বুমরাহ না থাকায় একাই ভার টানতে হয় তাঁকে। সেই ম্যাচেই দাপট দেখিয়ে ভারতকে জেতান। সিরিজ শেষ হয় ২-২ সমতায়।
তাহলে বুমরাহ না থাকলেই সেরা পারফরম্যান্স? সপাটে উত্তর দিলেন সিরাজ। বললেন, ‘জসসি ভাই (জসপ্রীত বুমরাহ) চোট আর ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে দলে না থাকায় আমি চেষ্টা করেছি বোলিং ইউনিটের মধ্যে ইতিবাচকতা ধরে রাখতে। আকাশ দীপ আর অন্য সতীর্থদের বলতাম, বিশ্বাস রাখো। আমরা আগেও যা করেছি, আবারও সেটা করে দেখাতে পারব!’
অর্থাৎ, সঙ্গী না থাকলে দায়িত্বটাই বদল ঘটায়। ভারমুক্তি নয়, দায়িত্বের চাপ ভেতর থেকে সেরা পারফরম্যান্স টেনে আনে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নিজের ভেতরে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পান। যা উইকেট শিকার আর দুর্দান্ত স্পেল হয়ে বাইশ গজে ঠিকরে পড়ে। ২৩ বার ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের বিদায় দিয়ে সিরাজ প্রমাণ করেছেন—বুমরাহ থাকুন-না থাকুন, তিনি দলের পেস ইউনিটকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।