ভারতের ক্ষেত্রে এই টুর্নামেন্ট আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সিনিয়র দলে ঢোকার রাস্তা তুলনামূলকভাবে খোলা। অনূর্ধ্ব-১৯ টিমে পারফর্ম করলে জাতীয় নির্বাচকদের নেকনজরে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ‘এ’ দল, রঞ্জি, আইপিএল হয়ে সিনিয়র শিবিরে পথচলা।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 18 January 2026 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোটদের বড় মঞ্চ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে আমজনতা এই তকমায় বেঁধে ফেলতে উৎসুক৷ আজকাল বৈভব (Vaibhav Suryavanshi), আয়ুষ (Ayush Mhatre), অভিজ্ঞান (Abhigyan Kundu)। অতীতে বিরাট (Virat Kohli)। তারও আগে যুবরাজ (Yuvraj Singh)। পাঠশালা থেকে হাইস্কুলে চান্স পাওয়ার পার্সেন্টেজ নেহাত কম নয়৷
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: আসলে বড়দের দলে ঢোকার দরজা
ছোটদের এই বিশ্বকাপ কোনও প্রদর্শনী টুর্নামেন্ট নয়… আদতে এক ধরনের বাছাইপর্ব—যেখানে প্রতিভা নয়, প্রমাণ চাওয়া হয়। বয়স কম বলে ছাড় নেই। প্রতিপক্ষ অচেনা। কন্ডিশন নতুন। ক্যামেরা সর্বক্ষণ চোখ রাখছে। এই মঞ্চে টিকে থাকতে পারলেই বোঝা যায়, একজন ক্রিকেটার ভবিষ্যতের চাপ সামলাতে পারবেন কি না।
ভারতের ক্ষেত্রে এই টুর্নামেন্ট আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সিনিয়র দলে ঢোকার রাস্তা তুলনামূলকভাবে খোলা। অনূর্ধ্ব-১৯ টিমে পারফর্ম করলে জাতীয় নির্বাচকদের নেকনজরে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ‘এ’ দল, রঞ্জি, আইপিএল হয়ে সিনিয়র শিবিরে পথচলা।
অতীতের আয়নায় বর্তমান: কারা পেরিয়েছেন এই সেতু?
ইতিহাস প্রমাণ—অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নজরকাড়া পারফরম্যান্স মানেই নিশ্চিত সিনিয়র কেরিয়ার নয়। তবে দরজাটা কিছুটা হলেও খুলে যায়। যুবরাজ সিং (Yuvraj Singh, ২০০০) আর বিরাট কোহলি (Virat Kohli, ২০০৮)—এই দুই নাম ভারতীয় ক্রিকেটে ছোটদের বিশ্বকাপের গুরুত্ব বদলে দিয়েছে। যুবি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২৫ বলে ৫৮ করে দেখিয়ে দেন, ভয়ডরহীন ক্রিকেট কাকে বলে! বিরাট প্রমাণ করেন নেতৃত্ব, আগ্রাসন আর দায়বদ্ধতার প্রশ্নে তাঁর যোগ্যতা প্রশ্নাতীত।
এরপর লিস্ট লম্বা হয়েছে—রোহিত শর্মা (Rohit Sharma), শিখর ধাওয়ান (Shikhar Dhawan), রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja), কেএল রাহুল (KL Rahul), ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant) হয়ে শুভমান গিল (Shubman Gill)। কিন্তু এই উজ্জ্বল তালিকার আড়ালে এমন বহু নামও রয়েছে, যাঁরা এই মঞ্চে উজ্জ্বল হয়েও সিনিয়র স্তরে থিতু হতে ব্যর্থ! অর্থাৎ, এটা এতদিনে প্রমাণ্য সত্য: অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সুযোগ দেয়। গ্যারান্টি নয়।
দ্রাবিড় যুগ: ‘ট্রফি’র চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রক্রিয়া’
এই টুর্নামেন্টকে প্রকৃত অর্থে ‘ফিনিশিং স্কুল’ বানানোর কৃতিত্ব অনেকটাই রাহুল দ্রাবিড়ের (Rahul Dravid)। তিনি স্পষ্ট সুরে জানিয়ে দেন—লক্ষ্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতা নয়, আসল টার্গেট ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার তৈরি। এই ভাবনা থেকেই ধাপে ধাপে জন্ম নেয় ‘ওয়ান প্লেয়ার, ওয়ান ওয়ার্ল্ড কাপ’ নীতি। একই ক্রিকেটারকে বারবার অনূর্ধ্ব-১৯ খেলতে না দিয়ে, নতুনদের সুযোগ দেওয়া। ভাল হলে দ্রুত এগিয়ে দেওয়া—রঞ্জি, ভারত ‘এ’… তারপর সিনিয়র দলে।
এর ফল হাতেনাতে দেখা গিয়েছে। ২০১৬, ২০১৮, ২০২০ ব্যাচ থেকে একের পর এক ক্রিকেটার সিনিয়র টিমে জায়গা করে নিয়েছেন। বেঞ্চ স্ট্রেংথ এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে দ্বিতীয় সারির দল দিয়েও বিদেশে টেস্ট সিরিজ জেতা সম্ভব!
আজকের প্রশ্ন: বৈভব–আয়ুষরা কতদূর যাবেন?
২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi), আয়ুষ মাত্রের (Ayush Mhatre) মতো নামগুলো জোর আলোচনায়। রেকর্ড গড়ছেন। আইপিএল চুক্তি হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাইপ জমছে। কিন্তু ইতিহাস? অতীত কী বলছে? তারা সামনে টেনে আনছে একটাই সহজ কথা—এই মঞ্চে পারফর্ম করার অর্থ কেবল প্রথম ধাপ অতিক্রম। এর পরের লড়াই আরও কঠিন। লাল বলের ক্রিকেট। পাঁচ দিনের ধৈর্য। ব্যর্থতার সঙ্গে সহাবস্থান। ধারাবাহিকতা। মানসিক দৃঢ়তা।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ তাই আজ আর ‘ছোটদের বিশ্বকাপ’ নয়। এটা ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে নির্মম লড়াই। আলো যেমন তীব্র, ছায়াও ঠিক ততটাই গভীর। যাঁরা এই আলো সহ্য করতে পারেন, তাঁদের জন্য দরজা খোলে। বাকিদের জন্য এটা ফিকে স্মৃতি হয়ে থেকে যেতে পারে। অতীত এর সাক্ষী। আর বর্তমানও সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।