গাভাসকর কপিল শর্মা শোতেও এই গল্পটি বলেছিলেন। সানি বলেছিলেন, মিয়াঁদাদ ম্যাচের মাঝখানে একটি শট খেলতেন এবং তারপর দিলীপের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করতেন, 'অ্যায় দিলীপ তেলা তাঁত নম্বর কেয়া হ্যায়' (আরে দিলীপ তোমার রুম নম্বর কত)।

জাভেদ মিয়াদাঁদ ও দিলীপ দোশী
শেষ আপডেট: 24 June 2025 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবারভারতের কিংবদন্তি বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিনার দিলীপ দোশী (Dilip Doshi) ৭৭ বছর বয়সে লন্ডনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। গুজরাতের রাজকোটে জন্ম হলেও তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের বেশির ভাগ সময়ই খেলেছিলেন বাংলার হয়ে। দোশী ভারতের হয়ে ৩৩টি টেস্ট ম্যাচ এবং ১৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। টেস্টে তিনি ১১৪টি উইকেট এবং ওয়ানডেতে ২২টি উইকেট নিয়েছেন।
দিলীপকে মনে করা হতো, তিনি একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান বোলার। গ্রেট গ্যারি সোবার্সও তাঁর বোলিংয়ে মুগ্ধ ছিলেন। সুনীল গাভাস্কার সর্বদা দোশীকে একজন শীর্ষ-শ্রেণির স্পিনার হিসাবে বর্ণনা করতেন।
১৯৭৯ সালে ৩২ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়। এই ম্যাচে তিনি এক ইনিংসে ১০৩ রান দিয়ে ছয় উইকেট নেন। সেই টেস্টে তিনি মোট আট উইকেট নেন। দেশের নয়জন বোলারের মধ্যে তিনি একজন, যাঁরা অভিষেক টেস্টের এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন। ১৯৮৩ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন দোশী। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি ৮৯৮ উইকেট নিয়েছিলেন।
বাইশ গজ ও তার বাইরে আদ্যপান্ত একজন ভদ্রলোক বলে পরিচিতি ছিল দোশীর। চরিত্রে দৃঢ়তা থাকলেও তাঁকে সাধারণত উত্তেজিত হতে দেখা যেত না। তবে পাকিস্তানের এক ক্রিকেটারের সঙ্গে তাঁর দ্বৈরথ সেই সময় ছিল দেখার মতো। আর সেই পাক ক্রিকেটার হলেন জাভেদ মিয়াদাঁদ।
দোশী ও মিয়াঁদাদের সম্পর্ক নিয়ে একটি গল্প
অনেকেই বলে থাকেন দিলীপের অবসর গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন জাভেদ মিয়াদাঁদ। মাঠে দু’জনের মধ্যে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। তবে, মিয়াঁদাদ দোশীর বিরুদ্ধে প্রচুর রান করেছিলেন। তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি গল্প খুবই বিখ্যাত।
একবার ভারত-পাকিস্তান টেস্ট চলাকালীন মিয়াঁদাদ বারবার দোশীকে তাঁর রুম নম্বর জিজ্ঞাসা করে উত্যক্ত করা শুরু করেন। সুনীল গাভাসকর কপিল শর্মা শোতেও এই গল্পটি বলেছিলেন। সানি বলেছিলেন, মিয়াঁদাদ ম্যাচের মাঝখানে একটি শট খেলতেন এবং তারপর দিলীপের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করতেন, 'অ্যায় দিলীপ তেলা তাঁত নম্বর কেয়া হ্যায়' (আরে দিলীপ তোমার রুম নম্বর কত)।
'আমি তোমার ঘরে ছক্কা মারতে চাই...'
মিয়াঁদাদ এই একই কথা বারবার বলতেন। অনেকক্ষণ ধরে এই কাজটি করে যাচ্ছিলেন। গাভাসকর এবং উইকেটরক্ষক সৈয়দ কিরমানি দেখছেন বারবার মিয়াদাঁদ এসে দিলীপকে কিছু বলছেন। কিন্তু কী বলা হচ্ছে, সেটা গাভাসকর ও কিরমানি বুঝতে পারছিলেন না। দিলীপের ওভার চলাকালীন প্রতি দুই বলের পর একই কাজ করছিলেন মিয়াঁদাদ। শেষে দিলীপ রীতিমতো বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি আমার রুম নম্বর জানতে চাও কেন? ” উত্তরে মিয়াঁদাদ বলেন, “কারণ আমি তোমার ঘরে ছক্কা মারতে চাই।”
অবসর গ্রহণের পর দিলীপ লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে একজন সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি তাঁর বেশিরভাগ সময় লন্ডন, মুম্বই এবং রাজকোটে কাটিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাসকারী দিলীপ তাঁর স্ত্রী কালিঙ্গি, ছেলে নয়ন এবং মেয়ে বিশাখাকে রেখে গিয়েছেন। তাঁর ছেলে নয়ন দোশী সারে এবং সৌরাষ্ট্রের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন।