এখন প্রশ্ন উঠছে—চলতি পারফরম্যান্সে নয়, ‘ম্যানেজমেন্টের মর্জিমাফিক’-ই কি নির্বাচিত হচ্ছেন খেলোয়াড়রা? হর্ষিতের নামের পাশে যতই ‘প্রতিশ্রুতিমান পেসারে’-র তকমা লেখা থাক না কেন, বিতর্ক কিছুতেই কমছে না।

গৌতম গম্ভীর ও হর্ষিত রানা
শেষ আপডেট: 5 October 2025 11:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক বিতর্কে জর্জরিত ভারতীয় ক্রিকেট নির্বাচনী নীতি। তার মধ্যেই আরও একবার সরাসরি তির ছুড়লেন কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত (Kris Srikkanth)। একদা নির্বাচক প্রধানের চেয়ার সামলানো এই প্রাক্তন তারকা এবার নিশানা করলেন নতুন কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্টকে। কারণ একটাই—অস্ট্রেলিয়া সফরের (Australia Tour) ওয়ানডে দলে হর্ষিত রানার (Harshit Rana) জায়গা পাওয়া। শ্রীকান্তের মতে, পারফরম্যান্সে নয়, নির্বাচনের কারণ বিলকুল আলাদা। এর সঙ্গে ক্রিকেটের সম্পর্কই নেই। শ্রীকান্ত বলেন, ‘গম্ভীরের (Gautam Gambhir) ইয়েস-ম্যান বলেই আজ ও দলে!’
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন ব্যাটার। এক নিঃশ্বাসে বলেছেন, ‘এভাবে দল বাছলে খেলোয়াড়রাই বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। আজ কার নাম আছে, কাল কে বাদ—এই অনিশ্চয়তা আত্মবিশ্বাস গিলে খাচ্ছে। একমাত্র স্থায়ী সদস্য এখন হর্ষিত রানা। কেউ জানে না কেন ও দলে রয়েছে!’ এখানেই থামেননি। তোপ দেগে শ্রীকান্ত জুড়ে দিয়েছেন, ‘কিছু খেলোয়াড় ভালো খেললেও সুযোগ পায় না, কারও আবার খারাপ খেলেও জায়গা জোটে! মনে হচ্ছে, নির্বাচনে পারফরম্যান্স নয়, ‘পছন্দ-অপছন্দ’-ই আসল মাপকাঠি। হর্ষিতের মতো হলে সবচেয়ে ভালো—সবসময় গম্ভীরের সঙ্গে ‘হ্যাঁ-হ্যাঁ’ করলে টিমে জায়গা পাকা!’ কটাক্ষ এখানেই থেমে থাকেনি। শ্রীকান্তের সোজা মন্তব্য—‘যদি হর্ষিত রানা আর নীতীশ কুমার রেড্ডিকে (Nitish Kumar Reddy) নিয়ে বিশ্বকাপের (World Cup 2027) পরিকল্পনা শুরু করো, তাহলে এখনই ট্রফিকে বিদায় দাও!’
এটা যে সরাসরি গম্ভীরের দিকেই নিশানা, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বিশেষত, এখন যখন গৌতিই ভারতীয় দলের প্রধান কোচ। এশিয়া কাপজয়ী (Asia Cup 2025) স্কোয়াডের অংশ ছিলেন হর্ষিত, কিন্তু পারফরম্যান্স একেবারেই গড়পড়তা—দুটি ম্যাচে মাত্র দু’উইকেট। ৭৯ রান খরচ করেছেন। তবু অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ঘোষিত চার বিশেষজ্ঞ পেসারের তালিকায় তাঁরই নাম উঠেছে।
প্রসঙ্গত, দিল্লির (Delhi) পেসার হর্ষিত আইপিএল থেকেই (IPL) নজর কাড়েন, কিন্তু সঙ্গে ছিল ‘অতিরিক্ত নাটকীয়তা’-র অভিযোগও। আগেও শ্রীকান্ত তাঁর আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বলেছিলেন, ‘ও খুব ফিল্মি রিঅ্যাকশন দেয়! বোলিংয়ে গুরুত্ব কম, বাড়তি নাটক বেশি। ম্যাচে মনোযোগ না দিলে, শাস্তি পেতেই হবে!’
যে কারণে এখন প্রশ্ন উঠছে—চলতি পারফরম্যান্সে নয়, ‘ম্যানেজমেন্টের মর্জিমাফিক’-ই কি নির্বাচিত হচ্ছেন খেলোয়াড়রা? হর্ষিতের নামের পাশে যতই ‘প্রতিশ্রুতিমান পেসারে’-র তকমা লেখা থাক না কেন, বিতর্ক কিছুতেই কমছে না। শ্রীকান্তের তির্যক সংলাপই যেন ক্রিকেট মহলে প্রতিধ্বনিত হয়ে চলেছে।