প্রচুর প্রশ্নের জবাব মেলা এখনও বাকি। এখনও বোঝা যাচ্ছে না, পাঁচ পেসার সুস্থ থাকা অবস্থায় ওভালে কারা জায়গা পাবেন? বুমরাহ খেলবেন? নম্বর তিনে কে?

ইংল্যান্ড বনাম ভারত
শেষ আপডেট: 28 July 2025 10:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনের শুরুতেই চূড়ান্ত ফলাফলের দুটো সম্ভাবনা স্থির হয়ে গেছিল। এক, ইংল্যান্ড জিতবে আর সেই সুবাদে সিরিজ পকেটে পুরবে।
দুই, ভারত কোনওমতে হার ঠেকিয়ে টেস্ট ড্র করবে। কিন্তু এটা হওয়া-না হওয়া পুরোপুরি ঘুরপাক খাবে দুজনের উপর—কেএল রাহুল (KL Rahul) এবং শুভমান গিল (Shubhman Gill)। চতুর্থ দিনের শেষে সেঞ্চুরির নাগালে পৌঁছনো দুই ব্যাটসম্যান যদি ইডেনে রাহুল দ্রাবিড়-ভিভিএস লক্ষ্মণের (Rahul Dravid-VVS Laxman) প্রাণান্তকর লড়াইয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারেন, তবেই ভারত পরাজয় ঠেকাবে। নচেৎ নয়।
দিনের শুরুর এই অঙ্ক আর একগুচ্ছ শর্ত বদলে দিলেন দুই ভারতীয়। কিন্তু তাঁরা রাহুল কিংবা শুভমান নন। রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja) ও ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar)। খাতায়-কলমে অলরাউন্ডার। আরও স্পষ্ট করে বললে, ‘বোলার অলরাউন্ডার’। যাকে কেন্দ্র করে গতকাল পর্যন্ত সমালোচনা-বিতর্ক কোচ গৌতম গম্ভীরকে (Gautam Gambhir) তাড়া করে বেরিয়েছে। কেন কুলদীপকে বসিয়ে রেখে জাদেজাকে খেলানো হল? ওয়াশিংটন কি বোলার বনাম ব্যাটারের আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছেন না?—এমনতর সওয়াল যখন চোখা তির হয়ে বিঁধেই চলেছে, তখন মাঠে নেমে যোগ্য জবাব দিলেন দুজন। শেষ হাসি গম্ভীর হাসলেন কি না, সেটা পঞ্চম তথা অন্তিম টেস্টের আগে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু শুভমান ও রাহুল আউট হওয়ার পর যখন মনে হচ্ছিল স্বভাবোচিত কায়দায় লোয়ার অর্ডার হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে, টিম ইন্ডিয়ার ট্র্যাডিশনাল ব্যাটিং ধস নামা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা—তখন সংশয়ীদের মুখে ছাই ঘষে প্রাচীর হয়ে ওঠে জাড্ডু-সুন্দর জুটি।
পঞ্চম দিনে শুধু যে দুটো উইকেটই ফেলতে পারলেন স্টোকসরা—এই তথ্যকে ছাপিয়ে গিয়েছে ইংরেজ বাহিনীর রণে ভঙ্গ দেওয়ার কায়দা। বারো ওভার বাকি তখনও। ক্রিজে দাঁড়ানো দুই ব্যাটসম্যানই ইংল্যান্ডে প্রথম শতরানের নজির গড়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই সময় মুখে ড্রয়ের আবদার নিয়ে সমঝোতার হ্যান্ডশেক (Handshake Controversy) বাড়িয়ে দেন বেন স্টোকস!
ভাবা যায়! দেশের তামাম ক্রিকেট অনুরাগী দিনের শুরুতে ‘দল যেন নব্বই ওভার টিকে যায়’—কামনায় ইষ্টনাম জপছিলেন। অথচ ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে বিরোধী শিবিরের অধিনায়ক, যাঁদের বাজবলের তত্ত্ব ‘ড্র নয়, স্রেফ জেতা-হারা’র শর্ত মানতে শিখিয়েছে, তারাই কি ল্যাজ গুটিয়ে পালা চোকানোর আর্জি নিয়ে হাজির!
ম্যাঞ্চেস্টারের পাঁচ নম্বর দিন পঞ্চাঙ্ক থ্রিলারের সমস্ত বারুদ নিয়ে হাজির হয়েছিল। যার অন্তিম গর্ভাঙ্কের ভবিতব্যে ধরা ছিল পদানত, নতশির, হতবীর্য ভারতীয় ক্রিকেটের মলিন মুখশ্রীর ছবি। কিন্তু লোয়ার মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান ভাঙতে থাকা পিচে যেভাবে দৃঢ়তা দেখিয়ে বাঘের ডেরায় ঢুকে চক্কর কেটে ঘাম ঝরিয়ে ঢ্যাংঢ্যাং করে সেঞ্চুরি সম্পূর্ণ করে তারপর করমর্দন সেরে মাঠ ছাড়লেন, তাকে স্রেফ নৈতিক জয় বলাটা ভুল। বস্তুত, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি-উত্তর ভারতীয় ক্রিকেটের ডিএনএ, একটা স্পষ্ট রূপরেখা বুনে দিলেন জাদেজা, ওয়াশিংটন এবং অবশ্যই রাহুল-শুভমান। ‘হারার আগে হারব না’, ‘শেষ দেখে ছাড়ব’—অসম যুদ্ধে নেমে এই স্পিরিট অনেক দিন বাদে দেখাল টিম ইন্ডিয়া। পঞ্চম টেস্টে নামার আগে যা অবশ্যই দলকে জ্বালানি জোগাবে। আত্মবিশ্বাস দেবে। সিরিজে ২-১-এ এগিয়ে ইংল্যান্ড। কিন্তু সিরিজ ফিনালে-তে অ্যাডভান্টেজ টিম ইন্ডিয়া। শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি।
প্রচুর প্রশ্নের জবাব মেলা এখনও বাকি। এখনও বোঝা যাচ্ছে না, পাঁচ পেসার সুস্থ থাকা অবস্থায় ওভালে কারা জায়গা পাবেন? বুমরাহ খেলবেন? নম্বর তিনে কে? কুলদীপ কি শেষ টেস্টেও বাইরে বসে থাকবেন? নাকি স্টোকসের ভ্যাবাচ্যাকা দিতে তাঁকে খেলানো হবে? ‘অলরাউন্ডার-অগ্রাধিকার’ মন্ত্র থেকে কি বেরোবেন না গম্ভীর?
অধরা সওয়াল যতই কুশের মতো বিঁধুক না কেন, হ্যান্ডশেক প্রত্যাখান ও জোড়া শতরানের ঔদ্ধত্য দুই শিবিরের ক্ষোভকে তুষের আগুনের মতো জ্বালিয়ে রাখবে। যা ওভাল টেস্টের উত্তেজনা কয়েক বাড়ানোর পক্ষে যথেষ্ট।