এশিয়া কাপে তাঁর নাম ঘিরে ফের নতুন ঝড়। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতীয় বোর্ডের পরামর্শে নাকি পাইক্রফট হাত মেলানো বন্ধ করেন। ভারতীয় শিবির বলছে, সবকিছু একেবারে ডাহা মিথ্যে!

ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 16 September 2025 16:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপে (Asia Cup 2025) ভারত–পাকিস্তান (India vs Pakistan) ম্যাচের পর থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এক জন—ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট (Andy Pycroft)। সলমন আঘাদের অভিযোগ, টসের সময় নাকি তিনি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দুই অধিনায়ককে হাত না মেলানোর ‘উপদেশ’ দেন! পাক ক্রিকেট বোর্ড (PCB) তাই তাঁর বিরুদ্ধে আইসিসির (ICC) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। যা খারিজ হতে সময় নেয়নি। ভারতীয় শিবিরও পাকিস্তানের দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে।
কিন্তু কে এই পাইক্রফট? কেন বারবার তাঁকে ঘিরেই এমন বিতর্ক তৈরি হয়?
অভিজ্ঞ ম্যাচ রেফারি
২০০৯ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই একশোরও বেশি টেস্টে (Test Matches) ম্যাচ রেফারির ভূমিকায়। আপাতত আইসিসির অভিজ্ঞ রেফারিদের তালিকায় তাঁর নাম চার নম্বরে। খেলোয়াড়ি জীবনে জিম্বাবোয়ের (Zimbabwe) হয়ে নেমেছেন ৩টি টেস্ট ও ২০টি ওয়ানডেতে (ODI)। টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ভারতের বিরুদ্ধে, ১৯৯২ সালে হরারের মাঠে। তারও আগে ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলেন, যে ম্যাচে কপিল দেবের (Kapil Dev) ১৭৫ রানের দুরন্ত ইনিংস ক্রিকেটের লোককথায় জায়গা করে নিয়েছে।
বল–টেম্পারিং বিতর্ক
রেফারির জার্সিতে সবচেয়ে বড় বিতর্কের মঞ্চ কেপ টাউন টেস্ট (Cape Town Test)। সাল ২০১৮। ইস্যু: স্টিভ স্মিথ (Steve Smith), ডেভিড ওয়ার্নার (David Warner) ও ক্যামেরন ব্যানক্রফটের (Cameron Bancroft) বল–বিকৃতি। সেই ম্যাচে দায়িত্বে ছিলেন পাইক্রফট। তিনিই এক টেস্টের জন্য স্মিথকে নিষিদ্ধ করেন, কেটে নেন ম্যাচ ফি-র ১০০ শতাংশ। ব্যানক্রফটের জরিমানা ধার্য হয়। পরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আরও বড় শাস্তি ঘোষণা করে ঠিকই। কিন্তু প্রথম শাস্তিটা এসেছিল পাইক্রফটের হাত থেকেই। নিজের মুখে যিনি বলেছিলেন, ‘আমরা কিছুই জানতাম না। টিভিতেই প্রথম ধরা পড়ে। গত দশ বছরে যত বল–টেম্পারিং ধরা পড়েছে, প্রায় সবই ক্যামেরায় ধরা!’
কোহলি–কনস্টাস ‘ধাক্কাধাক্কি’
২০১৮ সালের বক্সিং ডে টেস্টে (Boxing Day Test) বিরাট কোহলি (Virat Kohli) অস্ট্রেলিয়ার স্যাম কনস্টাসকে (Sam Konstas) কাঁধ দিয়ে ধাক্কা মারেন। অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া ও প্রাক্তনরা অন্তত এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার আর্জি রাখেন। কিন্তু পাইক্রফট দেন লেভেল–ওয়ান শাস্তি। অর্থাৎ, নরম সাজা। কারণ ব্যাখ্যায় জানান, স্যান্ডপেপার–কাণ্ডের পর বেশ কিছু আইন বদলে গিয়েছে। শারীরিক সংস্পর্শ লেভেল–ওয়ান অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ফলে পরিবর্তিত নিয়ম মোতাবেকই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মার্লন স্যামুয়েলস বনাম বেন স্টোকস
২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ইংল্যান্ড টেস্ট। বেন স্টোকস (Ben Stokes) আউট হওয়ার পর মার্লন স্যামুয়েলস (Marlon Samuels) তাঁকে বিদ্রূপ করে স্যালুট জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু পাইক্রফট? বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে লঘু সুরে বলেন, ‘আমরা হাসছিলাম। শেষমেশ কিছু হয়নি। আইসিসি ফোন করেছিল। আমি জবাব দিই—আমরা এখনও হাসছি, শাস্তি দেব কেন?’
জস বাটলার–ফিল্যান্ডার বিতর্ক
২০২০ সালে ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট। স্টাম্প মাইকে ধরা পড়ে জস বাটলার (Jos Buttler) ভেরনন ফিল্যান্ডারকে (Vernon Philander) অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন। শুরুতে পাইক্রফট কিছু শুনতেই পাননি। পরে টিভিতে ক্লিপ ভাইরাল হলে উলটো পথে শাস্তির ব্যবস্থা করেন। তাঁর কথায়, ‘আমার কাজ বিচারকের। আম্পায়াররা রিপোর্ট না দিলে আমি একা পদক্ষেপ নিতে পারি না!’
আসলে পাইক্রফটের কেরিয়ার ভরা বিতর্কে। কখনও বল–টেম্পারিং, কখনও শারীরিক সংঘাত, কখনও মাঠে অশ্রাব্য ভাষা—সব ক্ষেত্রেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি অবশ্য নিজের দিক দিয়ে পরিষ্কার। বলেছেন, ‘আমার কাজ যা ঘটছে তার নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা দেওয়া!’
এশিয়া কাপে তাঁর নাম ঘিরে ফের নতুন ঝড়। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতীয় বোর্ডের পরামর্শে নাকি পাইক্রফট হাত মেলানো বন্ধ করেন। ভারতীয় শিবির বলছে, সবকিছু একেবারে ডাহা মিথ্যে! কার কথা সত্যি, কারটা বানানো—উত্তর লুকিয়ে সেই কূটনীতির আঁধারে।