রবিনের মতে, পেসারদের ক্রস-সিমে বল করতে হবে, হিট দ্য ডেক বোলিং কাজে লাগবে। শর্ট বলও কার্যকরী হতে পারে। কিন্তু ইয়র্কার এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ ভেজা বলে নিখুঁতভাবে তা কাজে লাগানো প্রায় অসম্ভব।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম
শেষ আপডেট: 6 September 2025 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপে এবার টসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে দুই অদৃশ্য ফ্যাক্টর—শিশির আর ঘাস। দুবাই ও আবু ধাবির রাতের আবহাওয়া, সবুজ পিচ, ভেজা বাতাস মিলেমিশে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। ভারত কয়েক মাস আগেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল একই মাটিতে। তখন পিচ ছিল মন্থর, বল আসত ধীরে, স্পিনাররা আধিপত্য দেখাতে পারত। এবার ছবিটা পুরোপুরি উল্টে যাচ্ছে।
প্রাক্তন কিউরেটর টনি হেমিং স্পষ্ট জানাচ্ছেন—এখনকার উইকেটে ঘাসের আচ্ছাদন রাখা হয়েছে। তাতে বল সোজা ব্যাটে আসবে, কিপারের দস্তানায় ক্যারিও হবে স্বচ্ছন্দে। পেসাররা নতুন বলে বেশি সুবিধা পাবে। আর দিনের বেলা যাতে পিচ ফেটে না যায়, তার জন্য ঢাকা দিয়ে রাখা হবে। কভার সরালে ভেতরে জমা হয়ে থাকা আর্দ্রতা নতুন বলকে মুভ করাতে সাহায্য করে। এককথায়, প্রথমে নামা ব্যাটসম্যানদের সামলাতে হবে ঝাঁঝালো পরীক্ষা।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে শিশির। সেপ্টেম্বরে আরব আমিরশাহিতে আর্দ্রতা ৬০–৮০ শতাংশ। দিনে তাপমাত্রা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি, রাতে নামে ২৮ ডিগ্রিতে। এই দ্রুত পরিবর্তনেই জমতে থাকে শিশির। টস জিতে ব্যাটিং করলে দ্বিতীয় ইনিংসে তা-ই হয়ে উঠবে ভয়ঙ্কর শত্রু। বল ভিজে গেলে গ্রিপ করা কঠিন। বিশেষত স্পিনাররা কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেন। ইয়র্কার নিখুঁতভাবে কাজে লাগানো দুরূহ হয়ে যায়।
রবিন সিং, একসময়ের ইউএই কোচ, স্পষ্ট জানিয়েছেন—এই মরশুমে বল হাতে নামা নিরাপদ। তাঁর মতে, ‘শিশির ঝরবে নিশ্চিত। তাই যারা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করবে, তাদের কাছে ম্যাচ সহজ। যদি প্রথমে ব্যাট করতে হয়, তবে ১৫–২০ রান বাড়তি তোলা জরুরি। কারণ পরের ইনিংসে বল ব্যাটে নিখুঁতভাবে আসবে!’
পরিসংখ্যানও সেই কথা বলছে। ২০২১ সালে আইপিএল যখন এখানে ফের শুরু হয়, দুবাইতে খেলা ১৩ ম্যাচের মধ্যে মাত্র চারটিতে দল প্রথমে ব্যাট করে জয় পেয়েছিল। আবুধাবিতেও তাড়া করা দলই বেশিরভাগ ম্যাচে জিতে নেয়। বিশ্বকাপেও একই চিত্র। রাত বাড়লে ব্যাট করা দলই হেসেছিল শেষ হাসি। দুবাই স্টেডিয়াম চারদিক দিয়ে আটকানো। তাই ভেতরে জলীয় বাষ্প বেশি জমে, শিশিরও একই কারণে প্রকট। আবুধাবি কিছুটা খোলা, ফলে মাঝে মাঝে হাওয়া বয়। কিন্তু শিশির ঝরলে পড়লে তা ভারী হয়ে পড়ে।
তাহলে করণীয় কী? রবিনের মতে, পেসারদের ক্রস-সিমে বল করতে হবে, হিট দ্য ডেক বোলিং কাজে লাগবে। শর্ট বলও কার্যকরী হতে পারে। কিন্তু ইয়র্কার এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ ভেজা বলে নিখুঁতভাবে তা কাজে লাগানো প্রায় অসম্ভব। স্পিনারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রথমার্ধ। ম্যাচ এগোলে প্রভাব কমে যাবে। তাই দল গঠনেও ভারসাম্য জরুরি—তিনজন পেসার আর তিনজন স্পিনার থাকলে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্ল্যান বদলানো সম্ভব।
ভারতের অভিজ্ঞতা খারাপ নয়। ২০০৭-এ টি-২০ বিশ্বকাপে রবিন সিং ছিলেন সাপোর্ট স্টাফের অংশ। তখনই তিনি বুঝেছিলেন, টুর্নামেন্ট জয় শুধু খেলোয়াড়ের প্রতিভার উপর নয়, বরং পরিকল্পনা কতটা নিখুঁত, তার উপর নির্ভর করে। এখনকার ইউএই-পরিস্থিতি আবারও একই বার্তা দিচ্ছে।