গাভাসকরের নির্বাচিত কম্বিনেশনে তাই স্পষ্ট—অক্ষরের অলরাউন্ড সামর্থ্যই আপাতত দলে প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে দুবে বা রিঙ্কুকে অপেক্ষা করতেই হবে।

সুনীল গাভাসকর
শেষ আপডেট: 6 September 2025 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) কাউন্টডাউন শুরু। ১৫ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ভারত। তবে মাঠে নামতে পারবেন কেবল ১১ জন। আর চারজনকে বসতে হবে বেঞ্চে।
এই দলে আসা আর বাদ পড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে টিম ম্যানেজমেন্টের। যার মাথায় কোচ গৌতম গম্ভীর। মতামত দেবেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও। ইতিমধ্যে স্কোয়াড ঘোষণায় বিতর্ক ছড়িয়েছে। প্রথম একাদশে তা আরও বেড়ে যায় কিনা, সেটা বোঝা যাবে ম্যাচের দিন।
তার আগেই অবশ্য ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar) জানিয়ে দিলেন তাঁর রায়। পেশ করলেন ব্যক্তিগত পছন্দ তালিকা। যেখানে ঠাঁই পেলেন না পিঞ্চহিটার রিঙ্কু সিং (Rinku Singh) ও শিবম দুবে (Shivam Dube)।
প্রথম জন ফিনিশার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। দ্বিতীয় জন ব্যাট–বল দু’দিক সামলানোর ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু গাভাসকরের মতে, দলে বাঁ-হাতি বিকল্প হিসেবে অক্ষর প্যাটেলের (Axar Patel) জায়গা পাওয়াটা বাছাইয়ের অন্যতম ফ্যাক্টর হতে পারে। তিনি মুখ্যত বোলার। আবার ব্যাট হাতেও ইদানীং প্রায় সমান কার্যকরী। আর এ কারণেই রিঙ্কু বা দুবের কপাল পোড়ার জোরাল সম্ভাবনা। গাভাসকরের সাফ কথা, ‘অক্ষর প্যাটেলও যদি দলে বাঁ-হাতি হিসেবে খেলেন এবং ভালভাবে চার ওভার বল করেন, তাহলে রিঙ্কু আর দুবেকে হয়তো সুযোগের জন্য কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে!’
প্রাক্তন ওপেনারের মতে, স্পিন বিভাগের নেতৃত্বে থাকবেন অক্ষর প্যাটেল আর কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav)। পেস আক্রমণের আস্থা তরুণ হর্ষিত রানা (Harshit Rana)। লক্ষণীয়, সুনীল তাঁকে বেছেছেন মহম্মদ সামি (Mohammed Shami) কিংবা মহম্মদ সিরাজেরও (Mohammed Siraj) উপরে! গাভাসকরের ব্যাখ্যা: ‘আমার মনে হয় ব্যাটিং গভীরতা আট নম্বর পর্যন্ত যাবে না। হয়তো কুলদীপ আটে নামবে। তারপর ৯, ১০, ১১—তিন জোরে বোলার। তার মানে, হার্দিক পান্ডিয়াকে (Hardik Pandya) ধরলে মোট চার পেসার থাকবে। সঙ্গে দুই স্পিনার। মোট ছ’জন বোলার। এটা সবসময়ই ভাল কম্বিনেশন। কারণ কারও খারাপ দিন গেলে অন্য কেউ দায়িত্ব সামলাতে পারবে!’
এখন ভারতীয় ক্রিকেটের চালু প্রশ্ন—জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) কি একটানা খেলতে পারবেন? পেসারের ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তা লেগেই রয়েছে। যা সামাল দিতে দানা বাঁধছে নিত্যনূতন তত্ত্ব। ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ যার অন্যতম।
যদিও গাভাসকর এতশত ভাবতে নারাজ। তিনি বলেছেন, ‘এশিয়া কাপে তো মাত্র চার ওভার বোলিং করতে হবে। তাও আবার টানা নয়, দুই বা তিন স্পেলে ভাগ করে। তাই কোনও সমস্যাই হওয়ার কথা নয়!’ সেই সঙ্গে সংযোজন, ‘ওয়ার্কলোড নিয়ে প্রশ্ন নেই। ওকে কেবল চার ওভার বল করতে হবে। এতে কোনও অসুবিধে হবে না!’
গাভাসকরের নির্বাচিত কম্বিনেশনে তাই স্পষ্ট—অক্ষরের অলরাউন্ড সামর্থ্যই আপাতত দলে প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে দুবে বা রিঙ্কুকে অপেক্ষা করতেই হবে। বুমরাহর ফিটনেস নিয়ে আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। আর ছ’জন বোলারের সমন্বয়ে তৈরি হতে চলা ভারতীয় একাদশে দেখছেন শক্তিশালী ভারসাম্য।
টিম ইন্ডিয়ার প্রথম ম্যাচেই বোঝা যাবে, গাভাসকরের এই ভবিষ্যদ্বাণী কতটা অব্যর্থ!