সরফরাজের প্রতি গাভাসকরের পরামর্শ, “নিজের জায়গাটা নিজেকেই করে নিতে হবে। দরজায় কড়া নাড়তে হবে। প্রয়োজনে দরজাটা ভেঙেও ফেলতে হবে।”

সুনীল গাভাসকর ও সরফরাজ খান
শেষ আপডেট: 25 May 2025 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমালোচকরা বলছেন, ভারতীয় ক্রিকেটে এখন ‘গম্ভীর যুগ’ চলছে। ইংল্যান্ড সফরের (England Tour) জন্য যে দল (Test Team) ঘোষণা করা হয়েছে, তা আদতে গৌতম গম্ভীরেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। আর তাতে তাল মিলিয়েছেন নির্বাচক প্রধান অজিত আগারকর। দল ঘোষণার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শ্রেয়স আইয়ার, মহম্মদ শামি বা সরফরাজ খানকে (Sarfaraz Khan) বাদ দেওয়া হল কেন?
শামি প্রসঙ্গে আগারকর জানিয়েছেন, তাঁর চোট রয়েছে। আর শ্রেয়স সম্পর্কে তাঁর অভিমত, খুব ভাল ক্রিকেটার হলেও তাঁকে দল সুযোগ দেওয়ার কোনও রাস্তা খোলা নেই। তবে সরফরাজ সম্পর্কে সেরকম কিছু বলতে শোনা যায়নি নির্বাচক প্রধানকে।
এদিকে ইংল্যান্ড সফরে নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া ছিলেন মুম্বইয়ের মিডল অর্ডার ব্যাটার সরফরাজ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠত ভারী শরীর ও ফিটনেস নিয়ে। তবে ইংল্যান্ড সফরকে সামনে রেখে নিজের ফিটনেস উন্নত করতে ১০ কেজি ওজনও কমিয়েছিলেন সরফরাজ। তবুও দলে জায়গা পেলেন না তিনি।
আসলে অনেকেই মনে করেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ঝুড়ি ঝুড়ি রান করা সরফরাজকে বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে। এই নিয়ে সরব হয়ে সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar) বলেছিলেন, আর কত রান করলে ও সুযোগ পাবে। এবারও সরফরাজের হয়ে ব্যাট ধরেছেন সানি। দিলেন বিশেষ পরামর্শও।
আসলে ভারতীয় ক্রিকেট এক নতুন যুগে ঢুকে গিয়েছে। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর অধিনায়ক হয়েছেন শুভমান গিল এবং সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। দলে ফিরেছেন করুণ নায়ার ও সাই সুদর্শন।
তবে সরফরাজের দলে জায়গা না হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, এটি তাঁর প্রতি অন্যায়। কারণ তিনি বহু বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল পারফর্ম করে এসেছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল সরফরাজের। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফির দলেও ছিলেন তিনি, তবে একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি। এরপরই বাদ পড়ে যান ইংল্যান্ড সফরের দল থেকে।
ভারতের কিংবদন্তি ওপেনার তথা প্রাক্তন জাতীয় অধিনায়ক সুনীল গাভাসকর এ বিষয়ে নিজের মনোভাব প্রকাশ করেছেন। সানি বলেছেন, “এটা খুবই কঠিন। তবে ক্রিকেট এমনই। যখন আপনি সুযোগ পাবেন, তখন জায়গাটা নিজের করে নিতে হয়। এমনকি যদি সেঞ্চুরিও করেন, তাহলে পরের ইনিংসে আপনি এটা ভেবে নামতে পারবেন না যে আগের ইনিংসে আপনি সেঞ্চুরি করেছিলেন। মনোযোগটা ক্রিকেটে দিয়ে আবারও রান করতে নেমে যেতে হবে। অন্য কাউকে আপনার জায়গা নেওয়ার সুযোওটাও দেওয়া যাবে না।”
সরফরাজের প্রতি গাভাসকরের পরামর্শ, “নিজের জায়গাটা নিজেকেই করে নিতে হবে। দরজায় কড়া নাড়তে হবে। প্রয়োজনে দরজাটা ভেঙেও ফেলতে হবে।”
তবে টেস্টে দশ হাজারি ক্লাবের প্রথম সদস্য গাভাসকর এটাও স্বীকার করেছেন যে, এটা ছিল কঠিন সিদ্ধান্ত। কারণ অস্ট্রেলিয়া সফরের পর আর কোনও লাল বলের ম্যাচ খেলেননি সরফরাজ। প্রবাদপ্রতিম ব্যাটার বলেন, “আমি মনে করি সিদ্ধান্তটা খুবই কঠিন ছিল। কারণ অস্ট্রেলিয়া সফরের পর আর সে লাল বলের ক্রিকেট খেলেনি। হ্যাঁ, রঞ্জি ট্রফি ছিল। কিন্তু সরফরাজ চোটের জন্য রঞ্জি খেলতে পারেনি। সে ফর্মে আছে কিনা সেটা দেখানোর সুযোগটাও পায়নি।”