গম্ভীর তিন ফরম্যাটে দায়িত্ব নিলে সমস্যা কোথায়—সেই প্রশ্নও তুলেছেন। উদাহরণ হিসেবে এসেছে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নাম, যিনি ইংল্যান্ডের সমস্ত ফরম্যাটেই কোচ হিসেবে সফলভাবে কাজ করে চলেছেন।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 27 November 2025 11:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশের পর যেভাবে গৌতম গম্ভীরকে (Gautam Gambhir) একঘরে করার চেষ্টা চলছে, তাতে সরাসরি আপত্তি জানালেন সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar)। প্রাক্তন ক্রিকেটারের বক্তব্য, দল জিতলে কেউ কোচকে কৃতিত্ব দেয় না, অথচ হারলেই সব দোষ তাঁর ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে—এমন যুক্তি খাটে না।
গুয়াহাটি টেস্টে ৪০৮ রানে ভারতের লজ্জাজনক হারের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘গম্ভীর হটাও’স্লোগান, মাঠের বাইরে ক্ষোভ—সব মিলিয়ে চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। এবার সেই বিতর্কে পাল্টা সওয়াল তুললেন গাভাসকর। ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে (India Today) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মনে করালেন, এই একই কোচের অধীনে ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (Champions Trophy) আর এশিয়া কাপ (Asia Cup) জিতেছে—তখন তো কেউ তাঁর প্রশংসায় গদগদ হয়নি!
গাভাসকর স্পষ্ট জানান, কোচের কাজ দলকে প্রস্তুত করা, পরিকল্পনা বোঝানো। কিন্তু ম্যাচে পারফরম্যান্স দিতে হয় খেলোয়াড়দেরই। তাই তাঁকে দায়ী করার আগে একবার ভাবা উচিত—ময়দানে নামা ক্রিকেটাররা নিজেদের দায়িত্ব কতটা পালন করেছেন!
গাভাসকর বলেন, ‘যাঁরা এখন কোচকে প্রশ্ন করছেন, তাঁদেরই জিজ্ঞেস করি—ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতার পর আপনারা কি বলেছিলেন কোচকে আজীবন চুক্তি দেওয়া হোক? বলেননি। তাহলে এখন হারলেই কেন তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে?’ সানির মতে, একই মানদণ্ডে বিচার করতে হলে জয়-পরাজয়ে কোচের প্রশংসা ও সমালোচনা, দুই-ই করা যেতে পারে। কিন্তু তাই বলে, শুধু পরাজয়ের সময়ে আঙুল তোলাটা ন্যায়সংগত নয়!
গম্ভীর তিন ফরম্যাটে দায়িত্ব নিলে সমস্যা কোথায়—সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে এসেছে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের (Brendon McCullum) নাম, যিনি ইংল্যান্ডের সমস্ত ফরম্যাটেই কোচ হিসেবে সফলভাবে কাজ করে চলেছেন।
যদিও গাভাসকর কোচকে পুরোপুরি ক্লিনচিট দেননি। তাঁর বক্তব্য, টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের বর্তমান সংকটে কোচ থেকে খেলোয়াড়—সবারই কিছু না কিছু দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু মাঠে যে ভুলগুলো হচ্ছে, তার জন্য মূলত ব্যাটার ও বোলারদের নিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত।
গম্ভীরের টেস্ট রেকর্ড অবশ্য প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—১৯ টেস্টে ৭ জয়, ১০ হার, ২ ড্র। বিশেষ করে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ০–৩ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ০–২—দুটি সিরিজই চুনকামের লজ্জা ভারতের ভাবমূর্তি বিলক্ষণ নষ্ট করেছে। তবে গাভাসকরের মতে, পরিসংখ্যান দেখে গম্ভীরকে সরানোর চাপ তৈরি করা ভুল—কারণ দলের অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং পরিবর্তনের সময়কালকে মাথায় রাখা জরুরি। তাঁর কথায়, ‘দল ট্রানজিশনে। অল্প অভিজ্ঞতায় টেস্ট ক্রিকেট সহজ নয়। তাই প্রথমে খেলোয়াড়দের নিজেদের পারফরম্যান্স উন্নত করতে হবে। সব দায় কোচের নয়!’