জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে গত কয়েক বছরে ক্রিকেটের প্রতি প্রবল আগ্রহ দানা বেঁধেছে। ফুটবল, ক্রিকেট, কুস্তি—সবেতেই নতুন প্রতিভা উঠে আসছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উমরান মালিকের মতো পেসারের সাফল্য কাশ্মীরি যুবকদের প্রেরণা।

পুলওয়ামার স্টেডিয়াম
শেষ আপডেট: 28 August 2025 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একসময় ‘অশান্ত উপত্যকা’র প্রতীক আজ আলো ঝলমলে ক্রিকেটের মঞ্চ।
আগে যেখানে শুনশান রাতের বুক চিড়ে শোনা যেত গুলির শব্দ, সেখানে আজ ভয়-আতঙ্ক দূরে সরিয়ে সাধারণ জনতা বাইরে বেরিয়ে এসেছে। স্টেডিয়াম না মিলনমেলা? বোঝা দায়!
নাশকতা কি পুরোপুরি উবে গিয়েছে? উত্তর: না। দুর্যোগের ক্ষতও কি গিয়েছে মুছে? জবাব এবারও ‘না’-ই আসবে। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর, দুঃস্বপ্ন ভুলে এগিয়ে চলার যে-মন্ত্র জপতে শুরু করেছে পুলওয়ামা, সেটা পরিষ্কার হয়ে গেল কাল। যখন অকুতভয় খেলাপাগল জনতা পায়ে পা মিলিয়ে হাজির হল স্টেডিয়ামে। প্রতিযোগিতার নাম রয়্যাল প্রিমিয়ার লিগ (Royal Premier League)। মোট ১২টি দল। বুধবার উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি রয়্যাল গুডউইল এবং সুলতান স্প্রিংস বারামুল্লা। চাপা উত্তেজনার পাশপাশি ছিল প্রবল আবেগ। প্রথমবার ফ্লাডলাইটের আলোয় আয়োজিত ক্রিকেট ম্যাচ। বোমার গর্জন নয়, করতালিতে ভরে উঠল আকাশ। হইচই আর কোলাহলে উপত্যকার দিনবদলের নিশান বুনে দিল বুধবারের রাত!
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। পুলওয়ামায় মোতায়েন সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ৪০ জন। তবে থেকে রাজনীতির আবর্তে ঘুরপাক খেয়েছে এই অঞ্চল। ছড়িয়েছে আতঙ্ক। কমেছে জনসংযোগ। বুধবারের রাত, ফ্লাডলাইটের আলোয় আয়োজিত ম্যাচ বদলে দিয়েছে সমস্ত অঙ্ক।
পিডিপি বিধায়ক ওয়াহিদ পারা ম্যাচ শেষে বললেন, ‘প্রথমবার পুলওয়ামায় ফ্লাডলাইটের আলোয় ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজিত হচ্ছে। মানুষ বিপুল সংখ্যায় এসেছেন। এটাই কাশ্মীরের যুবসমাজের নতুন আশার সূচনা। বহু বছরের অশান্তির পর অবশেষে তাঁরা সুযোগ পাচ্ছেন। চেষ্টা করব, প্রতিটি জেলায় যেন এ ধরনের টুর্নামেন্ট হয়!’
তাঁর বক্তব্যের মধ্যে প্রতিধ্বনিত হয়েছে বৃহত্তর বার্তা। দীর্ঘ সময় ধরে উপত্যকার যুবসমাজ ‘অশান্তি’ আর ‘সংঘর্ষে’র মধ্যে বেড়ে উঠেছেন। কিন্তু এখন তাঁরা হাতে তুলছেন ক্রিকেট ব্যাট। খেলাই হয়ে উঠছে মুক্তির রাস্তা।
আসলে, জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে গত কয়েক বছরে ক্রিকেটের প্রতি প্রবল আগ্রহ দানা বেঁধেছে। ফুটবল, ক্রিকেট, কুস্তি—সবেতেই নতুন প্রতিভা উঠে আসছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উমরান মালিকের মতো পেসারের সাফল্য কাশ্মীরি যুবকদের প্রেরণা। উপত্যকার নানা জেলায় বসছে ছোট-বড় টুর্নামেন্টের আসর।
তারই ফসল এবার দেখা গেল পুলওয়ামায়। ম্যাচে গোলমাল কিংবা অশান্তি হয়নি। দর্শকরা এসেছিলেন সপরিবারে। বাচ্চাদের হাতে পতাকা, চোখে বিস্ময়। স্থানীয় দোকানপাটও জমে উঠেছিল। খেলা যে শুধু বিনোদন নয়, অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করে, পর্যটন, ছোট ব্যবসা, পরিষেবা সবতেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে—এরই নমুনা বুধবার রাতে মেলে ধরল পুলওয়ামা।