এক যুগের ব্যবধানে গল্পটা এখন অন্যরকম। সাধারণ, আনকোড়া যুবকের জীবনের ফ্রেমে ঢুকে পড়েছে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের গরিমা।

সূর্যকুমার যাদব
শেষ আপডেট: 9 March 2026 10:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুটো ছবিকে পাশাপাশি রেখে দেখতে হবে। অনেকক্ষণ৷ দেখে যেতে হবে ততক্ষণ, যতক্ষণ না ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে আলতো হাসি৷ বারো বছরের শরীরী ভোলবদল, পোশাকি রূপান্তর যতটা না বিস্মিত করবে, তার চেয়েও তীব্রভাবে আবিষ্ট করবে স্বপ্নপূরণের নিত্যতা! মনের অতল থেকে জেগে উঠবে বোধ: ‘তাহলে এ-ও সম্ভব... সব-ই সম্ভব!'
গতরাতে বিশ্বজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের কাছে দুটো অপশন ছিল। এক, সাফল্যের রোশনাইয়ে বুঁদ হয়ে থাকা। ঝাঁ-চকচকে মোবাইলে চকমকে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেপে দেওয়া। দুই, ফিরে যাওয়া শিকেড়ে। মূলে। অস্তিত্বের গভীরে। যেখান থেকে উঠে এসেছেন তিনি, ধাপে ধাপে, সেই প্যাঁচানো ইমারতের মাঝের সিঁড়িতে। আজ থেকে ঠিক বারো বছর আগে৷ যখন জাতীয় দল ছিল না। প্রেস মিট ছিল না। মিডিয়া ছিল না৷ স্পটলাইট ছিল না৷ ছিল বলতে কাছের স্বজন, সরল-সহজ-অনাড়ম্বর জীবন আর নির্ভার কিছু সুখী মুহূর্ত৷ তেমনই একটি দিনে, খুব কাছের এক বন্ধুর পেট্রোল পাম্প উদ্বোধনে গেছিলেন সূর্য। তাঁর এই নতুন সাফল্যে যে খুশি তিনি, জানিয়েছিলেন পেট্রোল পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবিতে৷ আপলোডও করেছিলেন। নতুন কিন্তু সাদামাটা পোশাকে দাঁড়ানো সূর্যের সঙ্গে এখনকার ভারত অধিনায়কের গেট আপের মিল খুঁজতে বসলে তাজ্জব ঠেকতেই পারে৷ কিন্তু কাল বিশ্বকাপ জিতে টিম ইন্ডিয়ার দলনেতা নিজের অতীতকে ভুলে যাননি৷ থ্রো-ব্যাক মুহূর্তকে ফের একবার শেয়ার করেছেন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে!
টি–২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে (New Zealand cricket team) ৯৬ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ভারত (India cricket team)। সেই সঙ্গে একাধিক রেকর্ডও। যেমন, প্রথম দল হিসেবে টানা দু’বার টি–২০ বিশ্বকাপ জয়ের নজির। একই সঙ্গে তিনবার এই ট্রফি জেতা প্রথম টিম। উপরন্তু গতরাতে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাসও তৈরি হয়েছে আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে (Narendra Modi Stadium)।
So happy for this guy today 💙🇮🇳 https://t.co/EBjgkFqwWQ pic.twitter.com/SPSfoISWMZ
— Surya Kumar Yadav (@surya_14kumar) March 8, 2026
এই সাফল্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরনো ছবি শেয়ার করেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক। ছবিটি প্রায় বারো বছর আগের। তখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আলোয় আসেননি তিনি। ক্যাপশনে লেখা—বন্ধুর পেট্রোল পাম্প উদ্বোধনে এসেছেন, বন্ধুর সাফল্যে খুশি। বিশ্বকাপ হাতে তোলার রাতে সেই ছবির সঙ্গে জুড়ে দেন খেতাব জয়ের মুহূর্তও। দুই ছবির মাঝখানে বারো বছরের ব্যবধান। কিন্তু বার্তা সহজ, সুন্দর—সময় বদলায়, রাস্তা বদলায়, কিন্তু শিকড় ভোলা যায় না।
যে কারণে ম্যাচের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের পথচলার কথা তুলে ধরেন সূর্যকুমার। পাশাপাশি মেনে নেন, সমালোচনা খেলাধুলার অংশ। ভাল খেললে প্রশংসা হবে, না খেললে প্রশ্ন উঠবে—এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই এগনো উচিত।
সূর্যকুমারের মতে, ২০২৪ সালের টি–২০ বিশ্বকাপ ফাইনালের একটি মুহূর্ত তাঁর জীবন বদলে দিয়েছিল। তখন দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa cricket team) ব্যাটার ডেভিড মিলারকে (David Miller) আউট করার জন্য সীমানার কাছে অবিশ্বাস্য একটি ক্যাচ নিয়েছিলেন তিনি। লং-অফ থেকে দৌড়ে গিয়ে বল ধরেন, গতি সামলাতে গিয়ে সীমানার বাইরে যাওয়ার আগে বল আকাশে ছুড়ে দেন, আবার ভেতরে ঢুকে ক্যাচটি সম্পূর্ণ করেন। যা টানটান, রুদ্ধশ্বাস ফাইনালের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়কের কথায়, সেই ক্যাচের পরই সবকিছু বদলাতে শুরু করে। পরে যখন ভারতীয় দলের নেতৃত্ব তাঁর হাতে আসে, তখন তিনি জানতেন, দু’বছরের মধ্যে দেশে বিশ্বকাপ। আর সেই মঞ্চে দলের হয়ে ট্রফি জিততে হবে—একটাই লক্ষ্য।
রবিবার সেই টার্গেট পূরণ হয়েছে। আর সেই সাফল্যের মুহূর্তে ফিরে এসেছে এক সাদামাটা দিনের ছবি—বন্ধুর পেট্রোল পাম্প উদ্বোধনের দিন। এক যুগের ব্যবধানে গল্পটা এখন অন্যরকম। সাধারণ, আনকোড়া যুবকের জীবনের ফ্রেমে ঢুকে পড়েছে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের গরিমা।