২০২০ সালে সঞ্জয় ডিজনি ও স্টার ইন্ডিয়ার স্পোর্টস বিভাগের সিইও পদে বসেন। কেবল শহরেই নয়, ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও খেলাকে পৌঁছে দিতে চান। তাই তাঁর নেতৃত্বেই উঠে আসে স্লোগান: ‘স্পোর্টস ফর অল’!

সঞ্জয় গুপ্তা
শেষ আপডেট: 7 July 2025 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর নতুন মুখ সঞ্জয় গুপ্তা। আজই নয়া সিইও হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার জিওফ অ্যালেডাইস সরে দাঁড়ানোর পর তাঁর জায়গায় এলেন সঞ্জয়। যিনি দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত।
উল্লেখ্য, অ্যালেডাইস চার বছর সিইওর দায়িত্ব সামলান। চলতি বছর জানুয়ারিতে ব্যক্তিগত কারণে পদ ছেড়ে দেন। এরপর শুরু হয় নতুন মুখ খোঁজার পালা।
কে সঞ্জয় গুপ্তা?
ভারতের ক্রীড়া সম্প্রচার মহলের পরিচিত নাম। শুরুটা সাংবাদিকতা দিয়ে— দিল্লির ‘দ্য ট্রিবিউন’ পত্রিকায়। সেখানে থেকেই মিডিয়া জগৎ ও দর্শকদের গল্পের রসদ জোগানোর হাতেখড়ি। ২০০২ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইকোনমিক্সে স্নাতক ডিগ্রি (অনার্স)। ২০১০ সালে স্টার ইন্ডিয়ায় যোগ দেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। এরপর একে একে কনটেন্ট, সম্প্রচার, বিপণন স্ট্র্যাটেজি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব সামলেছেন।
২০২০ সালে সঞ্জয় ডিজনি ও স্টার ইন্ডিয়ার স্পোর্টস বিভাগের সিইও পদে বসেন। কেবল শহরেই নয়, ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও খেলাকে পৌঁছে দিতে চান। তাই তাঁর নেতৃত্বেই উঠে আসে স্লোগান: ‘স্পোর্টস ফর অল’!
২০২৪ সালের নভেম্বরে ভায়াকম ১৮ (Viacom 18) ও ডিজনি স্টার (Disney Star) মিলেমিশে গড়ে ওঠে জিওস্টার (JioStar)। সঞ্জয় সেখানে স্পোর্টস অ্যান্ড লাইভ এক্সপিয়িয়েন্সেস বিভাগের সিইও হন। এরপর আগে-পরে আইপিএলের জনপ্রিয়তা বাড়ানো, আইসিসি ইভেন্টের সম্প্রচারে নতুনত্ব আনা, প্রো কাবাডি লিগ (PKL)-এর উত্থান, ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL)-এর প্রতিষ্ঠা, উইম্বলডন ও ভারতে প্রিমিয়ার লিগ-এর মত আন্তর্জাতিক ইভেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর এবং ক্রীড়া সম্প্রচারের পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন সঞ্জয় গুপ্তা।
নিয়োগের প্রক্রিয়া
আইসিসির বক্তব্য, ২৫টি দেশ থেকে ২,৫০০-র বেশি আবেদন এসেছিল। তার মধ্যে থেকে ১২ জনকে বেছে নেওয়া হয়। মনোনয়ন কমিটিতে ছিলেন—ইমরান খাজা (আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান), রিচার্ড থম্পসন (ইংল্যান্ড বোর্ড চেয়ারম্যান), শাম্মি সিলভা (শ্রীলঙ্কা বোর্ড প্রেসিডেন্ট), দেবজিৎ সাইকিয়া (বিসিসিআই সেক্রেটারি)। তাঁরাই সম্মিলিতভাবে সঞ্জয়ের নাম সুপারিশ করেন। শেষমেশ যা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের অনুমোদন পায়।
আইসিসির সরকারি বিবৃতিতে বলেছে, “ভারত এবং বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া সম্প্রচারে বদল আনার কারিগর সঞ্জয়। আইসিসি, আইপিএল, দেশীয় লিগ, প্রিমিয়ার লিগ বা উইম্বলডন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব রয়েছে। প্রযুক্তি, কনটেন্ট ও বাণিজ্যিকতায় দারুণ দক্ষতা।” জয় শাহের কথায়, “খেলা নিয়ে সঞ্জয়ের দৃষ্টিভঙ্গি ভীষণ গভীর। খেলার বাজার ও বাণিজ্য বোঝেন। প্রযুক্তি ও দর্শকের সংযোগ কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা আছে। এই গুণগুলোই আইসিসির ভবিষ্যৎ দিক ঠিক করে দেবে।”
প্রসঙ্গত, আইসিসির ইতিহাসে সঞ্জয় গুপ্তা হলেন সপ্তম সিইও। এর আগে চেয়ারে ছিলেন: ১. ডেভ রিচার্ডস ২. ম্যালকম স্পিড ৩. হারুন লরগাট ৪. ডেভিড রিচার্ডসন ৫. মনু সাহনি ৬. জিওফ অ্যালারডিস। এই তালিকায় প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুখ সঞ্জয় গুপ্তা। তাঁর নিয়োগ ক্রিকেট প্রশাসনে ভারতের একচ্ছত্র প্রভাব আরও একবার স্পষ্ট করল।