এজবাস্টনে এর আগে কোনও দিন টিম ইন্ডিয়া শেষ হাসি হাসেনি। না কপিল, না ধোনি, না সৌরভ। কেউই জেতাতে পারেননি। কয়েক প্রজন্ম বাদে নয়া ইতিহাস লিখেছেন সেই শুভমান।

শুভমান গিল
শেষ আপডেট: 7 July 2025 11:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ড সফর শুরুর আগে তাঁকে শুধু ‘ঘরের মাঠের রাজা’ বলেছিলেন কৃষ্ণামাচারী শ্রীকান্তের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটার। আরও অনেকেই সন্দেহ তুলেছিলেন বাইরের মাঠে, বিশেষ করে ‘সেনা দেশে’র বিরুদ্ধে পারফরম্যান্স নিয়ে। ভারতের পাটা পিচে শুভমান গিল যতটা দক্ষ খেলুড়ে, বিদেশের জমিতেও কি ততটাই আগ্রাসী? গড়ের অনুপাতকে হাতিয়ার করে সমালোচকদের একটা বড় অংশ বুঝিয়ে দেন: এটাই সত্যি।
পাশাপাশি নেতৃত্ব দানের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে শুভমান কি পারবেন ইংল্যান্ড, যেখানে ভারতীয় দল ধারাবাহিকভাবে খারাপ খেলে এসেছে, সেখান থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে? তাও এমন পরিস্থিতিতে, যখন টিম ভাল ছন্দে নেই, বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার মতো ক্রিকেটার অবসর নিয়েছেন!
সমস্ত প্রশ্নের আংশিক জবাব মিলেছিল প্রথম টেস্টে। লিডস থেকে ভারতকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ব্যাট হাতে শতরান করে শুভমান বুঝিয়ে দেন, তিনি হিসেব মেটাতে এসেছেন।
সেই হিসেবের অনেকটা ফসয়ালা হল গতকাল। এজবাস্টনে এর আগে কোনও দিন টিম ইন্ডিয়া শেষ হাসি হাসেনি। না কপিল, না ধোনি, না সৌরভ। কেউই জেতাতে পারেননি। কয়েক প্রজন্ম বাদে নয়া ইতিহাস লিখেছেন সেই শুভমান। প্রথম ইনিংসে দ্বিশতরানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি। চার ইনিংস মিলিয়ে এখনই ছ’শোর গণ্ডি পেরিয়েছেন। এভাবে খেলতে থাকলে সিরিজ শেষে আরও কয়েক গন্ডা রেকর্ড ভাঙবেন টিম ইন্ডিয়ার নতুন অধিনায়ক।
যদিও অদ্ভুতভাবে এজবাস্টনে স্মরণীয় পারফরম্যান্সের পর ইংল্যান্ডের বলের গুণমান ও পিচের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শুভমান। যেখানে শয়ে শয়ে রান কুড়িয়েছেন তাকেই আতসকাচের নীচে ফেললেন। সাংবাদিক বৈঠকে ৩৩৬ রানে মহাকাব্যিক জয়ের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘এই বলে বল করা খুব কঠিন। উইকেট তো বটেই, বলও আকার বদলে ফেলছে দ্রুত। খুব তাড়াতাড়ি নরম হয়ে পড়ছে। আমি জানি না কারণ কী—উইকেট না বল! কিন্তু এই পরিস্থিতি, যেখানে কোথাও কোনও সাহায্য মিলছে না, সেখানে ব্যাটসম্যানদের আউট করাটা খুব কঠিন!’
প্রসঙ্গত, দীর্ঘসময় ধরে খেলা যায় আর সিম মুভমেন্ট ভাল থাকে বলে ডিউকস বলের কদর। সম্প্রতি কালি লেগেছে। দেখা যাচ্ছে, ৩০ ওভার খতম হতে না হতেই ডিউকস তার আকার ও কাঠিন্য হারাচ্ছে। শুধু শুভমান নন, আরও অনেকেই ইদানীং সওয়াল তুলেছেন।
ভোঁতা বল ও নির্বিষ যে দলের রণকৌশলেও বাধা দিচ্ছে—তারও উল্লেখ করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। বলেন, ‘যদি বল কিছুমাত্র কাজ করে, আমরা একটা নির্দিষ্ট দিকে পরিককল্পনা নিতে পারি। তখন ক্রিকেট খেলাটাও আনন্দময় ওঠে হয়ে! এর বদলে যদি সবকিছু প্রথম ২০ ওভারের বিষয় হয় এবং বাকি সময় জুড়ে স্রেফ ফিল্ডিং চলে—তাহলে টেস্টের সৌন্দর্যটাই মুছে যায়!’
লর্ডসও কি এজবাস্টন কিংবা লিডসের ধারা মেনে চলবে? মানতে নারাজ গিল। তাঁর অনুমান, ক্রিকেটের মক্কার পিচ পাটা হবে না। সেখানে বল অনেক বেশি সুইং খাবে, সিম মুভমেন্টও দেখা যাবে। জসপ্রীত বুমরাহর খেলার সম্ভাবনা প্রবল। এমন উইকেটে তিনিই হয়ে উঠতে পারেন ভারতের তুরুপের তাস।