বিশ্বকাপ বয়কট মানে শুধু এক টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের অস্তিত্ব নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দেওয়া। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অবস্থান নেবে পিসিবি, নাকি ক্রিকেট বাস্তবতার সামনে পিছু হটবে।

মহসিন নকভি ও জয় শাহ
শেষ আপডেট: 25 January 2026 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) কাউন্টডাউন শুরু হতেই চরম উত্তেজনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতিতে। বাংলাদেশকে (Bangladesh) সমর্থন জানিয়ে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দেওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (Pakistan Cricket Board) সঙ্গে আইসিসি-র (International Cricket Council) সম্পর্ক কার্যত তলানিতে। সূত্রের খবর, এই হুমকি বাস্তব হলে পাকিস্তানের জন্য অপেক্ষা করছে নজিরবিহীন ‘আইসোলেশন প্যাকেজ’।
কোথা থেকে শুরু সংঘাত?
বিতর্কের সূত্রপাত পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) মন্তব্য থেকে। বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরানো না হওয়ায় আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তোলেন তিনি। দাবি, অতীতে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ‘হাইব্রিড মডেল’ মানা হলেও এবার বাংলাদেশের জন্য সেই সুবিধা দেওয়া হয়নি।
নকভি শুধু এখানেই থামেননি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) সঙ্গে ‘সংহতি’ দেখিয়ে পাকিস্তানও টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দেন। এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জেই ক্ষুব্ধ আইসিসি। এনডিটিভি সূত্রের দাবি, নকভির এই কড়া অবস্থান এবং রাজনৈতিক ভাষা ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
আইসিসির সম্ভাব্য শাস্তি কী কী?
সূত্রের খবর, পাকিস্তান সত্যিই বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করলে আইসিসি কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। সেই তালিকায় রয়েছে—
দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সম্পূর্ণ বন্ধ: পাকিস্তান কোনও দেশকেই আর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে নাও পারে।
এশিয়া কাপ থেকে বাদ: এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (Asia Cup) মঞ্চ থেকেও ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
পিএসএল-এ ‘নো এনওসি’ নীতি: আইসিসি সদস্য বোর্ডগুলিকে একযোগে নির্দেশ দেওয়া হতে পারে, যাতে কোনও বিদেশি ক্রিকেটার পাকিস্তান সুপার লিগে (Pakistan Super League) খেলতে এনওসি না পান।
আর্থিক বিপর্যয়: দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও পিএসএল—এই দুই স্তম্ভই পিসিবি-র আয়ের প্রধান উৎস। সেগুলো বন্ধ হলে বোর্ড কার্যত দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, আইসিসি ইভেন্ট ছাড়া পাকিস্তান জাতীয় দল কার্যত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে—এমনটাই আশঙ্কা।
নকভির বক্তব্য ও শেষ সিদ্ধান্ত কার হাতে?
যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ বয়কট করেনি পাকিস্তান। নকভি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)। তবে তাঁর মন্তব্য যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী। নকভির ভাষায়, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। এক দেশের জন্য নিয়ম একরকম, অন্য দেশের জন্য আরেকরকম—এটা হতে পারে না!’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আইসিসির পূর্ণ সদস্য। পাকিস্তান বা ভারতের মতো সুবিধা যদি দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হওয়া উচিত।’
এই বক্তব্যই আইসিসিকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে বলে সূত্রের দাবি। ক্রিকেট প্রশাসনের অন্দরমহলে স্পষ্ট বার্তা—বিশ্বকাপ বয়কট মানে শুধু এক টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের অস্তিত্ব নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দেওয়া। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অবস্থান নেবে পিসিবি, নাকি ক্রিকেট বাস্তবতার সামনে পিছু হটবে। কারণ আইসিসির কড়া বার্তা একটাই—নিয়ম ভাঙলে মাশুল গুনতেই হবে।