ফিটনেস টেস্টে আটকে যাওয়া, গোলগাল শারীরিক গড়নের জন্য ‘বডি শেমিংয়ে’র চিমটি সহ্য করা, ‘খেলেন ভাল, কিন্তু রিফ্লেক্স খারাপ’—জাতীয় সমালোচনা শুনে চলা—এসবই যেন অতীত। আইপিএল শেষ হতেই রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ধরা দিয়েছেন নয়া অবতারে।

রোহিত শর্মা
শেষ আপডেট: 8 September 2025 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফিটনেস টেস্টে আটকে যাওয়া, গোলগাল শারীরিক গড়নের জন্য ‘বডি শেমিংয়ে’র চিমটি সহ্য করা, ‘খেলেন ভাল, কিন্তু রিফ্লেক্স খারাপ’—জাতীয় সমালোচনা শুনে চলা—এসবই যেন অতীত। আইপিএল (IPL) মরশুম শেষ হতেই রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ধরা দিয়েছেন নয়া অবতারে। ঝরিয়েছেন আট কেজি ওজন। পেরিয়েছেন বিসিসিআইয়ের (BCCI) কঠিনতম পরীক্ষা—ইয়ো-ইয়ো টেস্টের (Yo-Yo Test) হার্ডল। এইটুকু তথ্যই বলে দিচ্ছে, ভারতের ওয়ান ডে টিমের অধিনায়ক, যিনি টেকনিকের দিক দিয়ে এতদিন কুর্নিশ কুড়িয়েছেন, এবার ফিটনেসেও রবরবা দেখাতে প্রস্তুত!
আড়ালের রহস্য কী? ‘জাদু-ট্যাবলেট’? সাম্প্রতিক সময়ে ওজন কমানোর ‘ফ্যাশনেবল শর্টকাট’ হিসেবে নাম ছড়িয়েছে যে ওষুধের (GLP-1, যেমন: ওজেম্পিক), তা সেবন করেছেন বুঝি? মার্কিন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস (Serena Williams) সন্তান জন্মানোর পর ব্যবহার করায় বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ওজেম্পিক। যদিও সেলিব্রিটি নিউট্রিশনিস্ট রায়ান ফার্নান্ডো (Ryan Fernando) স্পষ্ট জানিয়েছেন, সেরেনা চিকিৎসকের পরামর্শে ক্লিনিক্যাল সাপোর্ট হিসেবে সেই ওষুধ খান, কোনও ‘ভ্যানিটি ড্রাগ’ হিসেবে নয়।
রোহিতের ক্ষেত্রে কিন্তু ছবিটা একেবারেই আলাদা। ফার্নান্ডোই তাঁর ডায়েট সামলেছেন। তিনি বলছেন, ‘রোহিত অসাধারণ কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস দেখিয়েছে। ইয়ো-ইয়ো টেস্টে সর্বোচ্চ লেভেল পেরিয়েছে। এই টেস্ট আসলে পরিমাপ করে স্ট্যামিনা, ক্ষিপ্রতা আর ম্যাচ ফিটনেস। ওজন বা গড়ন যাই হোক না কেন, রেজাল্টই আসল। তাই ওর শরীর নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা খুবই অন্যায়!’ আরও যোগ করেন, ‘রোহিতের বাড়তি ওজন আসলে শক্তি আর পাওয়ারের উৎস। খেলার পারফরম্যান্সে সেটা দেখা যায়। তাই বাইরে থেকে শুধু গড়ন দেখে বিচার করা ঠিক নয়!’
একইভাবে ভোল বদলে সাফল্য পেয়েছিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার যুবরাজ সিং (Yuvraj Singh)। ক্যানসার-যুদ্ধ জিতে ফিরে আসার পর তিনি ভরসা রাখেন জেনেটিক টেস্টিং, মাইক্রোবায়োম অ্যানালিসিস আর পার্সোনালাইজড নিউট্রিশনে। প্রিয় পরোটা ছাড়তে হয়নি, শুধু ব্যক্তিগত চাহিদা মেপে ডায়েটে বানিয়ে ফেলেছেন। ফার্নান্ডোর ভাষায়, ‘এটাই ভবিষ্যতের নিউট্রিশন। ব্যক্তি বিশেষে আলাদা আলাদা পরিকল্পনা!’
পাশপাশি GLP-1 ওষুধ নিয়ে তাঁর সতর্কবার্তা স্পষ্ট। বলেন, ‘এগুলো কোনও ফ্যাশন পিল নয়। যদি ফ্যাশনের জন্য ওজন কমাতে চান, তবে ট্রেডমিলে উঠুন, ভাল জিমের পোশাক কিনুন, সঠিক খাবার খান। অন্তত এক থেকে তিন বছর সময় দিন।’ওষুধের অপপ্রয়োগে, ফার্নান্ডোর আশঙ্কা, ভয়ঙ্কর ক্ষতি ঘনিয়ে আসতে পারে। পেশি কমে যাওয়া, পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক বৈকল্য যার অন্যতম। ফার্নান্ডো জানান, ভারতে নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির কারণে অনেকেই অযথা এই ওষুধের ব্যবহার শুরু করছেন। এক জিম ট্রেনার ক্লায়েন্টকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওজেম্পিক আনার ফরমায়েশ দিয়েছেন—এমন খবরও নাকি তাঁর কানে এসেছে!
খেলাধুলায় এর প্রয়োগ নিয়ে অবস্থান আরও কড়া। ফার্নাল্ডো বলেন, ‘আমি আমার কোনও অ্যাথলিটকে ওজেম্পিক দেব না। এতে পেশি শুকিয়ে যায়, পারফরম্যান্স দুর্বল হয়। এখনও ওয়াডার (WADA) নিষিদ্ধ তালিকায় নেই ঠিকই, কিন্তু খেলাধুলায় এর ব্যবহার একেবারেই অনৈতিক।’
অ্যাথলিটদের নিয়ে শারীরিক বিদ্রূপ সমাজমাধ্যমে ট্রোলিংয়ের অন্যতম বিষয়। এই নিয়ে ফার্নান্ডোর আর্জি, ‘অ্যাথলিটরাও সংবেদনশীল। শরীর তাঁদের অস্ত্র। তা নিয়ে ট্রোল করা নিষ্ঠুরতা। সমর্থন করুন, উৎসাহ দিন!’ স্বাস্থ্য মানে শুধু রোগমুক্ত থাকা নয়, বরং ফার্নান্ডোর কথায় ‘নিজের শরীরকে চেনা’। রক্ত পরীক্ষা, জেনেটিক নকশা, মাইক্রোবায়োম বোঝা—এসবই ফিট থাকার আধুনিকতম হাতিয়ার। ফার্নান্ডো বলেন, ‘আপনার শরীরকে ভাড়াটে ভেবে থাকবেন না, মালিকের মতো থাকুন। ভাড়াটে হলে ওষুধ লাগবেই, মালিক হলে প্রয়োজন পড়বে না।’