বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ মেনে নিয়েছে, যতই এডেন মার্করামের হাতে ম্যাচ সেরার খেতাব উঠুক না কেন, বাভুমাই প্রোটিয়াদের আসল কাণ্ডারী।

বাভুমা
শেষ আপডেট: 15 June 2025 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৭ বছর বাদে আইসিসি টুর্নামেন্ট জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষবার জিতেছিল মিনি বিশ্বকাপ (এখন যার নাম চ্যাম্পিয়নস ট্রফি)। তখন অধিনায়ক ছিলেন হ্যান্সি ক্রোনিয়ে।
তারপর থেকে যতগুলো টুর্নামেন্টে উঠেছে প্রোটিয়ারা, খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। কখনও সেমিফাইনাল, কখনও ফাইনাল। কখনও বাদ সাধে বৃষ্টি, কখনও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বালখিল্য মতিভ্রম! নিট ফল সেই এক—টুর্নামেন্টে ভাল খেলেও শেষতম সিঁড়িতে পৌঁছেই আকস্মিক বিপর্যয় ও অপ্রত্যাশিত পদস্খলন।
সেই থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ে ‘চোকার্স’ তকমাটা সেঁটে বসেছে। প্রজন্ম পাল্টেছে। বদলেছে তারকার মুখ। কিন্তু এবি ডিভিলিয়ার্স থেকে জ্যাক ক্যালিস—কেউ ভাগ্য ফেরাতে পারেননি।
ফেরালেন যিনি, তিনি একজন কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান। বেঁটেখাটো চেহারা। নম্র, পরিশীলিত। উচ্চকিত নন। দুঃখে-সুখে একই রকম বীগতস্পৃহ। গতকালও ক্রিকেটের সূতিকাগার লর্ডসে দলকে ইতিহাসের সাক্ষী করিয়ে লাগামছাড়া উৎসাহ ও উল্লাস দেখাননি টেম্বা বাভুমা। উৎসবে সামিল হয়েছেন ঠিকই। কিন্তু আতিশয্যের জাঁক এতটুকু ফুটে ওঠেনি।
অথচ বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ মেনে নিয়েছে, যতই এডেন মার্করামের হাতে ম্যাচ সেরার খেতাব উঠুক না কেন, বাভুমাই প্রোটিয়াদের আসল কাণ্ডারী। মাত্র ছ’রানের মাথায় যিনি হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পান (চলতি বছরে তৃতীয় বার) এবং তারপর অকথ্য যন্ত্রণা উপেক্ষা করে ১৩৪ বল টিকে থাকেন, খেলেন ৬৬ রানের ইনিংস, তাঁকে কুর্নিশ জানাতে কোনও সাধুবাদই যেন যথেষ্ট নয়!
যদিও এই যুক্তি মানতে নারাজ লোয়াজি ফাকাডে। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনের লাঙ্গা নামে যে শহরতলি থেকে উঠে এসেছেন বাভুমা, সেখানকার ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। জানিয়েছেন, ছোট্ট শহর উদ্দীপনার কাঁপছে। ঘরের ছেলে—যে কিনা এখন দেশের নায়কও বটে—তাকে সাদরে বরণ করে নেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে একগুচ্ছ পরিকল্পনা।
ফাকাডে বলেন, ‘লাঙ্গা আনন্দে ফুটছে, দক্ষিণ আফ্রিকা খুশিতে ভাসছে। আর গোটা দুনিয়া চোখ মেলে দেখছে আমাদের নিজেদের ছেলে—ঠান্ডা মাথার, অনমনীয় এবং ইতিহাস গড়ার কারিগর ‘অধিনায়ক’ টেম্বা বাভুমার সাফল্য।‘
কোথায় তিনি বাকিদের থেকে আলাদা? চলনে বিনম্র, বলনে শান্ত এই ক্রিকেটারের জীবন যেন সংগ্রামের অন্য নাম। বেড়ে উঠেছেন ছোট শহরতলির অখ্যাত কলোনিতে। তারপর বর্ণবৈষম্যের আগল ঘুচিয়ে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরেছেন। যখন যা দায়িত্ব পেয়েছেন, পুরোদস্তুর দায়বদ্ধতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেছেন।
এখানেই আলো ফেলেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর। বলেছেন, ‘একফালি রাস্তায় খালি পায়ে যারা ক্রিকেট খেলে, টেম্বা বাভুমা তাদের প্রতীক। যে সমস্ত বাবা-মা তাদের সন্তানের স্বপ্নপূরণের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেন, বাভুমা তাঁদের প্রতিনিধি। ও আসলে লাঙ্গার স্পিরিটের মুখ: সাহসী, প্রতিভাবান এনং অপ্রতিরোধ্য!’
এরপর উদযাপনের ধরন নিয়ে বলতে গিয়ে রসিকতার সুরে তিনি জুড়ে দেন, ‘এই কথাটা সাফ সাফ জেনে রাখুন: কাউন্সিলর হিসেব নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু আমি উৎসবকেও খুব গুরুত্বের চোখে দেখে থাকি। তাই টেম্বা যখন ঘরে ফিরবে, ওর জন্য লাল কার্পেট পাতা থাকবে। লাঙ্গার সমস্ত স্তরের মানুষ অবিস্মরণীয় উৎসব আয়োজন করছে। নিজেদের কেউ যখন বিশ্ব দখল করে, তাকে বিজয়ীর বেশে বরণ করা আমাদের কর্তব্য!’