আমরা এটা খুব কাছ থেকে দেখেছি। সেখানে হুক্কা সেশন চলছিল, এবং অধিনায়কের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন। সেই সময়কার কিছু খেলোয়াড় যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছিলেন। তাঁরা সবসময় অধিনায়কের অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য তাঁকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করতেন।

মনোজ তিওয়ারি ও এমএস ধোনি
শেষ আপডেট: 18 September 2025 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির আমলের টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিংরুম সংস্কৃতি নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের একটি পুরনো বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়েছে। সম্প্রতি, প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইরফান পাঠানের (Irfan Pathan) একটি পুরনো বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি ধোনির ঘরে হুক্কা পান (Dhoni hookah controversy) করতে যেতে চাইনি বলেই আমাকে দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে।” এবার এই বিতর্ক ঘি ঢাললেন প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি (Manoj Tiwary)।
বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি এই প্রসঙ্গে বলেছেন, সেই সময় কিছু খেলোয়াড় ধোনির ঘরে হুক্কা সেশনে অংশ নিতেন যাতে তাঁরা অধিনায়কের ঘনিষ্ঠ হতে পারেন।
মনোজ তিওয়ারি একটি স্পোর্টস ওয়েবসাইটের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, "আমরা এটা খুব কাছ থেকে দেখেছি। সেখানে হুক্কা সেশন চলছিল, এবং অধিনায়কের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন। সেই সময়কার কিছু খেলোয়াড় যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছিলেন। তাঁরা সবসময় অধিনায়কের অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য তাঁকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করতেন।"
তিওয়ারি স্পষ্ট করে বলেন, এটি অবশ্য কারও উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। তিওয়ারি বলেন, "সকলের জন্য সেখানে যাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল না। যাঁরা জানতেন, হুক্কা ধূমপানের জন্য ঘরটি খোলা আছে কেবল তাঁরাই সেখানে যেতেন।"
প্রাক্তন বঙ্গ ক্রিকেটার মনোজ বলেছেন, ধোনির দরজা সবসময় সবার জন্য খোলা ছিল, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেবল তাঁর কাছের খেলোয়াড়রাই সেখানে যেতেন। তিওয়ারি বলেন, "যাঁরা অধিনায়কের কাছের ছিলেন অথবা বুদ্ধিমান ছিলেন, কেবল তাঁরাই জানতেন, দরজা সবার জন্য খোলা।"
মনোজের এই মন্তব্য সম্প্রতি ইরফান পাঠানের তোলা বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে। পাঁচ বছর আগে, পাঠান টিম ইন্ডিয়ার হুক্কা সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, "আমি এমন ব্যক্তি নই যে, কারও ঘরে গিয়ে হুক্কা জ্বালাব এবং তাঁদের খুশি করব।" ধোনির নাম না করেই পাঠান বলেছিলেন, ২০১২ সালে তিনি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন, কারণ তৎকালীন অধিনায়কের তিনি কাছের লোক ছিলেন না। টিম ইন্ডিয়ার এই প্রাক্তন অলরাউন্ডার বলেছিলেন, "কারও ঘরে হুক্কা পান করা বা অপ্রয়োজনীয় কথা বলার অভ্যাস আমার নেই। সবাই এটা জানে। মাঝে মাঝে চুপ থাকাই ভাল। আমার কাজ ছিল মাঠে পারফর্ম করা, এবং আমি সেটাই করেছি।"
পাঠান শেষবার ২০১২ সালে ভারতের হয়ে খেলেছিলেন। সেই ম্যাচে তিনি পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও, তাঁকে দলে রাখা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছে কেন তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।