পাঠানের সতর্কবার্তা হাওয়ায় উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। এখন প্রশ্ন একটাই—ফাইনালে সূর্যকুমারদের ব্যাট-বলের দাপটের মতোই ফিল্ডিং কি সেই মানে পৌঁছবে? না কি ছন্নছাড়া হাতই শেষমেশ ট্রফির পথ আটকে দেবে?

সঞ্জু স্যামসন
শেষ আপডেট: 25 September 2025 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) ফাইনালে ওঠা ইতিমধ্যে নিশ্চিত। টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটে-বলে আগুন ঝরছে। তবু একটা জায়গা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে—ফিল্ডিং। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুপার ফোর, তার পর বাংলাদেশের (Bangladesh) বিরুদ্ধে ম্যাচ—বারবার ধরা পড়ছে একই দুর্বলতা। সহজ ক্যাচ পড়ছে, সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে। যে কারণে অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান (Irfan Pathan) সরাসরি সতর্ক করেছেন। তাঁর কথায়, ‘এভাবে ফিল্ডিং করলে বড় ম্যাচে খেসারত দিতে হবে!’
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জয় এল ৪১ রানে। কিন্তু ম্যাচ শেষে আলোচনা হল অন্য জায়গায়। পাঁচটা ক্যাচ পড়ল। তার মধ্যে চারবার বেঁচে গেলেন ওপেনার সাইফ হাসান (Saif Hassan)। শেষমেশ খেললেন ৬৯ রানের ইনিংস। পাঠানের ভাষায়, ‘একটা-দুটো ক্যাচ পড়তেই পারে, কিন্তু এভাবে ছ-সাতটা সুযোগ হাতছাড়া করলে কোনও দল আপনাকে ছেড়ে দেবে না। সাইফকে দু’বার ফেলে দিলেন, যে ব্যাটার তখন ৫০ পেরিয়ে গিয়েছে! অন্য কোনও দল হলে ওখানেই ম্যাচ হাত থেকে বেরিয়ে যেত!’
প্রশ্ন উঠছে, সমস্যা আসলে কোথায়? কারণ, ভারতীয় দলকে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিল্ডিং ইউনিট বলা হয়। কোচিং স্টাফ হিসেবে টি. দিলীপ (T. Dilip) ফেরার পর নতুন করে উন্নতি হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর একদা তাঁকেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আবার ইংল্যান্ড সফর থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। অথচ তাঁর প্রত্যাবর্তনের পরই ধারাবাহিকভাবে ফিল্ডিং নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রবি শাস্ত্রী (Ravi Shastri) অবশ্য খানিক দায় চাপালেন দুবাইয়ের কন্ডিশনের উপর। তাঁর মতে, স্টেডিয়ামের চারপাশের আলো ব্যাটসম্যান-ফিল্ডারের চোখে লাগছে। ফলে দৃশ্যমানতা কমে যাচ্ছে। কিন্তু দলের তরুণ স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy) কোনও অজুহাত মানতে নারাজ। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২৯ রানের বিনিময়ে দু’উইকেট নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে খোলাখুলি বললেন, ‘এই লেভেলে দাঁড়িয়ে অজুহাত দেওয়া চলে না। হ্যাঁ, আলো একটু বিরক্ত করছে ঠিকই, কিন্তু ক্যাচ মিস করলে তো জেতা যায় না। আমাদের এখন ফাইনাল খেলতে হবে। সেই ম্যাচে এই সব সুযোগ ছেড়ে দিলে কপাল পুড়বেই!’
অর্থাৎ, রোগটা চেপে রাখার সুযোগ নেই। ভারতের ব্যাটিংয়ে অভিষেক শর্মার (Abhishek Sharma) মতো তরুণরা ঝড় তুলছেন। বোলিংয়ে বুমরাহ, কুলদীপরা ছন্দে। কিন্তু ফিল্ডিংয়ের ভুল গোটা টিমের পরিশ্রমে জল ঢেলে দিতে পারে। ছোট ফরম্যাটে এক ক্যাচই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে যথেষ্ট।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে দিলীপের উপর। ফিল্ডিং কোচ হিসেবে তাঁকে এখনই সমালোচনার জবাব দিতে হচ্ছে। ফাইনালে প্রতিপক্ষ যদি হয় পাকিস্তান, তবে আরও বাড়তি চাপ। সেখানে একটিমাত্র ক্যাচ মিস মানেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়া। ইতিহাস সাক্ষী, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে কোনও ফাঁকই শত্রুপক্ষ ক্ষমা করে না।
সব মিলিয়ে, পাঠানের সতর্কবার্তা হাওয়ায় উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। এখন প্রশ্ন একটাই—ফাইনালে সূর্যকুমারদের ব্যাট-বলের দাপটের মতোই ফিল্ডিং কি সেই মানে পৌঁছবে? না কি ছন্নছাড়া হাতই শেষমেশ ট্রফির পথ আটকে দেবে?