সেওয়াগের ছেলে আর্যবীরও বাবার পথ ধরেই বাইশ গজকে বেছে নিয়েছেন। তবে তিনি বাবার থেকে কিছুটা হলেও আলাদা। আর্যবীর হলেন শান্ত মনের মানুষ। ব্যাট করার সময় তাঁর সমস্ত মনোযোগ থাকে বলের উপর।

সেওয়াগ ও তাঁর পুত্র আর্যবীর
শেষ আপডেট: 30 August 2025 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরেন্দ্র সেওয়াগ (Virender Sehwag) যখন বাইশ গজে ব্যাট হাতে নামতেন, তখন কোন বোলার বল করছেন সে দিকে তাকাতেন না। বলিউডের ক্ল্যাসিকসগুলি (Bollywood classics) গাইতেন আর চার-ছক্কা হাঁকাতেন। তাঁর সতীর্থ শচীন তেন্ডুলকর ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বারবার এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এই প্রসঙ্গে সেওয়াগের মতামত হল, এটা তিনি করতেন নিজেকে চাপ মুক্ত রাখতে। আর এই ভাবেই তিনি খেলেছেন টেস্টে ত্রিশতক-সহ বড় বড় ইনিংস। পাশাপশি সময় পেলেই নজফগড়ের নবাব দেখতেন বলিউড ক্ল্যাসিকস। এগুলি তাঁর কাছে ছিল নিজেকে চাপমুক্ত রাখার প্রক্রিয়া।
সেওয়াগের ছেলে আর্যবীরও (Aaryavir Sehwag) বাবার পথ ধরেই বাইশ গজকে বেছে নিয়েছেন। তবে তিনি বাবার থেকে কিছুটা হলেও আলাদা। আর্যবীর হলেন শান্ত মনের মানুষ। ব্যাট করার সময় তাঁর সমস্ত মনোযোগ থাকে বলের উপর। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে এবার অভিষেক হয়েছেন বীরুর পুত্রের। আর অভিষেকেই তাঁর ব্যাটিং সকলের নজর কেড়ে নিয়েছে।
বাবার মতোই বিধ্বংসী ব্যাট করতে পছন্দ করেন আর্যবীর। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে তিনি খেলছেন সেন্ট্রাল দিল্লি কিংসের হয়ে। ইস্ট দিল্লি রাইডার্সের বিরুদ্ধে ১৬ বলে ২২ রান করেন আর্য, যার মধ্যে ছিল চারটি বাউন্ডারি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে নবদীপ সাইনির মতো আন্তর্জাতিক বোলারের মুখোমুখি হয়ে এরকম একটা ইনিংস খেলা রীতিমতো দুঃসাহসের পরিচয়।
অভিষেক ম্যাচের প্রথম রানটি আসে চতুর্থ বলে। বাবার পদবি আর্যবীরের কাছে সবসময়ই একটা আলাদা চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। সবাই আশা করেন, বীরুর মতোই বিধ্বংসী ইনিংস খেলবেন তাঁর পুত্র। আর্যবীর স্বীকার করে নিয়েছেন, প্রথম তিন বলে রান না আসায় তিনি নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন। প্রতিটি বলের সময় আর্যবীরের মনে পড়ছিল তাঁর বাবার দেওয়া পরামর্শ।
আর্যবীর বলেছেন, “এটা ছিল আমার প্রথম ম্যাচ। তাই নার্ভাস ছিলাম। আমার বাবাও নার্ভাস ছিলেন। আমার আসলে কোনও নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। বাবা আমাকে মনে মনে বারবার বলতে বলেছেন, বলের দিকে তাকাও, সোজা খেল। একবার তুমি দুই বা তিনটি বাউন্ডারি মারলে, তুমি সহজাতভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করবে। আর মাঠেও সেটাই হয়েছে।” আর্যবীরের বোঝাতে বেশিক্ষণ সময় লাগেনি যে, তাঁর শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত রক্তে বাবার মতোই চাপ বলে কোনও শব্দ নেই।
Classy batting! Aaryavir Sehwag smashes consecutive fours. 💥 🏏
Aaryavir Sehwag | East Delhi Riders | Central Delhi Kings | Anuj Rawat | Jonty Sidhu | #DPL2025 #DPP #AdaniDPL2025 #Delhi pic.twitter.com/08KwyxqPeK— Delhi Premier League T20 (@DelhiPLT20) August 27, 2025
আর্যবীরের প্রথম বাউন্ডারিটি আসে এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে মারা শট থেকে। এরপরই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে কভার দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন বাউন্ডারির বাইরে। প্রতিটি শট মারছিলেন ব্যাটের মাঝখান দিয়ে। ১৬ বলে ২২ রান করার পর টাইমিংয়ে সমস্যা হওয়ায় ফিরে যেতে হয় তাঁকে। বড় রান না এলেও তাঁর এই ইনিংস নজর কেড়ে নিয়েছে। তবে আউট হওয়ার পর প্যাভিলিয়নে ফেরার সময় রীতিমতো হতাশ দেখাচ্ছিল আর্যবীরকে।
আর্যবীরের ইনিংস দীর্ঘায়িত না হলেও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছে। সেওয়াগ পুত্র অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন, দু’টি বাউন্ডারি এসে যাওয়ার পর তাঁর ওরকম একটি শট খেলা উচিত হয়নি। শটটি পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় ছিল। আর্যবীর বলেছেন, “নিশ্চিত ভাবেই আমি আরও ভাল করতে পারতাম। আউট হওয়ার পর খুবই হতাশ হয়েছি। আমার শট নির্বাচন ঠিক হয়নি। ওই ওভারে আমি দু’টি বাউন্ডারি মেরেছিলাম, তাই ওরকম একটি শট খেলার কোনও দরকারই ছিল না। তবে আগামী ম্যাচগুলিতে ভাল খেলার বিষয়ে আমি আশাবাদী।”
বাবার কোন রেকর্ড ভাঙতে চান?
এই প্রসঙ্গে আর্যবীর বলেছেন, “বাবার নামে অনেক রেকর্ড আছে, আমি চেষ্টা করব নিজের অনেক রেকর্ড তৈরি করার।”