রবীন্দ্র জাদেজা আর শার্দূল ঠাকুরের কথা না বলাই ভাল। বিশ্ব টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের সেরা অলরাউন্ডার হেডিংলে টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট ও বল দুটোতেই চরম ব্যর্থ।

জসপ্রীত বুমরাহ
শেষ আপডেট: 23 June 2025 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্টের (England vs India First Test) তৃতীয় দিন সময়ের আগেই শেষ হয়েছে বৃষ্টির কারণে। প্রথম ইনিংসে শতরানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ হয়েছেন যশস্বী জয়সওয়াল (৪ রান)। এদিক প্রথম ইনিংসে শূন্য করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৮ বলে ৩০ রান করে জয়সওয়াল আউট হওয়ার পর ফার্স্ট ডাউনে নেমে প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে দিয়েছেন সাই সুদর্শন।
ভারত চতুর্থ দিন শুরু করবে ২ উইকেট হারিয়ে ৯০ রানে। অপরাজিত অবস্থায় রয়েছেন কেএল রাহুল (৪৭) ও অধিনায়ক শুভমান গিল (৬)।
প্রথম ইনিংসে ভারত করেছিল ৪৭১ রান। অলি পোপের সেঞ্চুরি (১০৬) এবং হ্যারি ব্রুকের ৯৯ রানের ইনিংসের সুবাদে ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে করেছে ১০ উইকেটে ৪৬৫ রান। ভারতের প্রথম ইনিংসে লিড ছিল মাত্র ছয় রানের।
তবে এখনই বলা যাচ্ছে না ভারত ফ্রন্টফুটে রয়েছে। হেডিংলের পিচ যেরকম আচরণ করছে, তাতে চতুর্থ ইনিংসে ৩০০+ স্কোর ডিফেন্ড করাও কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে টিম ইন্ডিয়ার কাছে। বিশেষত ভারতের বোলিং ব্রিগেডকে (Indian Bowling) দেখে এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। একমাত্র জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) ছাড়া আর কাউকেই ভরসাযোগ্য মনে হচ্ছে না। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ তিন উইকেট পেলেও রান বিলিয়েছেন দেদার। ২০ ওভারে দিয়েছেন ১২৮ রান। অর্থাৎ ওভারপ্রতি গড় ৬-এর বেশি। মহম্মদ সিরাজকেও ভরসাযোগ্য মনে হয়নি। ২৭ ওভার বল করে ১২২ রান দিয়ে নিয়েছেন দু’টি উইকেট। এই দুই বোলার উইকেট পেলেও ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের সেই অর্থে বিব্রত করতে পারেননি।
প্রথম ইনিংসে ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। টেস্টে ১৪তম বারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন ভারতের এই স্পিডস্টার।
রবীন্দ্র জাদেজা আর শার্দূল ঠাকুরের কথা না বলাই ভাল। বিশ্ব টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের সেরা অলরাউন্ডার হেডিংলে টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট ও বল দুটোতেই চরম ব্যর্থ। ব্যাটার জাদেজা করেছিলেন মাত্র ১১ রান। এরপর বল করতে এসে থাকলেন উইকেটহীন। ২৩ ওভারে দিলেন ৬৮ রান। তাঁর এই পারফরম্যান্সের পর প্রশ্ন উঠছে, কেন কুলদীপ যাদব নয়। বিশেষজ্ঞরা যেখানে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে বারবার বলে আসছিলেন, কুলদীপ রিস্ট স্পিনার, জাদেজার মতো অর্থোডক্স নন, হেডিংলের পিচে তিনি কার্যকরী হয়ে উঠতে পারেন।
প্রস্তুতি ম্যাচে শতকের দেখা পেয়েছিলেন শার্দূল ঠাকুর। কিন্তু টেস্টে এসে তিনি করলেন গোল্লা। অলরাউন্ড এবিলিটির জন্যই তাঁকে বেছে নিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর বোলার শার্দূলকে তো ব্যবহারই করা গেল না। ছয় ওভারেই দিয়ে বসলেন ৩৮ রান। ইংল্যান্ডের বাজবল ক্রিকেটের সামনে রীতিমতো অসহায় দেখাল তাঁকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলার পেসার আকাশ দীপের হাতে সুইং আছে। ইংল্যান্ডের আবহাওয়াকে কাজে লাগাতে পারতেন তিনি। শার্দূলের জায়াগয়া অটোমেটিক চয়েজ হওয়া উচিত ছিল তাঁর।
ভারত এই টেস্টে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে তার অন্যতম দুই কারণ ফিল্ডিং ও লোয়ার অর্ডারের ব্যটিং ব্যর্থতা। যশস্বীই ফেললেন তিনটি ক্যাচ। পাশাপাশি মিস ফিল্ড থেকেও উঠেছে বেশ কিছু রান।
এদিকে ২৭৬ রানে পাঁচ উইকেট পড়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের। সেখান থেকে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের স্কোর দাঁড়াল ৪৬৫। ভারতের মিডল বা লোয়ার অর্ডার যেটা করতে পারেননি, সেটাই করে দেখালেন জেমি স্মিথ, ক্রিস ওকসরা।
যদিও এখনও দুই দিন বাকি। ভারত যদি ৩০০-র ওপরে লিড নিতে পারে, আর বুমরাহ যদি তাঁর ম্যাজিক স্পেল অব্যহত রাখতে পারেন, তবে ভারতের জয় নিয়ে সন্দেহ থাকার কোনও কারণ নেই। তবে টিম ম্যানেজমন্টেকে কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টের আগে অনেক কিছু নিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে।