ইংল্যান্ডের অস্বাভাবিক গরম আবহাওয়া এবং বর্তমানে ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক খেলার কথা মাথায় রেখে, তাঁর সংস্থা সর্বদা উন্নতি করতে প্রস্তুত।

ডিউকস বল সংস্থার মালিক দিলীপ জাজোদিয়া
শেষ আপডেট: 12 July 2025 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ড-ভারত চলতি টেস্ট সিরিজে (England vs India Test Series) ডিউকস বল (Dukes Ball) একরাশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দ্বিতীয় টেস্ট থেকেই ভারত এই বল নিয়ে জানিয়ে আসছে, যা তীব্র আকার ধারণ করে লর্ডসে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে।
শুক্রবার টেস্টের দ্বিতীয় দিন শুরুর মাত্র ১০ ওভারের পরে বল পরিবর্তন করতে হয়। এর পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন টিম ইন্ডিয়ার ক্রিকেটাররা। অধিনায়ক শুভমান গিল এবং মহম্মদ সিরাজ রীতিমতো তর্কে জড়িয়ে পড়েন আম্পায়ারের সঙ্গে। এই বল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করে দেন ভারত ও ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও।
বিতর্ক চরমে ওঠায় এবার অবশেষে মুখ খুললেন ডিউকস বল প্রস্তুতকারক সংস্থার মালিক দিলীপ জাজোদিয়া (Dilip Jajodia)। এই বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়ে তিনি বলেছেন, ইংল্যান্ডের অস্বাভাবিক গরম আবহাওয়া এবং বর্তমানে ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক খেলার কথা মাথায় রেখে, তাঁর সংস্থা সর্বদা উন্নতি করতে প্রস্তুত।
লর্ডসে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে সকালের সেশনে দু’বার বল পরিবর্তন করা হয়। মাত্র ১০ ওভার খেলার পর আবার বল পরিবর্তন করায় ভারতীয় খেলোয়াড়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। জাজোদিয়া সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, "বিশ্ব ক্রিকেটে মাত্র তিনটি স্বীকৃত নির্মাতা (ডিউকস, এসজি এবং কুকাবুরা) আছে। ক্রিকেট বল তৈরি করা সহজ নয়। যদি এটি সহজ হত, তাহলে বিশ্বজুড়ে শত শত নির্মাতা থাকত। তাই আমার মনে হয় খেলোয়াড়দের বুঝতে হবে যে আমরা অলস বসে নেই। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যদি কোনও সমস্যা হয়, তবে তা পর্যালোচনা করা হবে এবং আমরা সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। এটি চামড়ার ত্রুটি হোক বা অন্য কিছু। আমরা এটি তদন্ত করব। আমি আরামে বসে সিগারেট টানছি না।"
তিনি বলেন, "খেলোয়াড়রা আমার ক্রিকেট বলের সমালোচনা করতে পারে। আমি খারাপ শট বা খারাপ বলের জন্যও তাদের সমালোচনা করতে পারি। তুমি জানো আমি কী বলতে চাইছি? তোমাকে বিচক্ষণ হতে হবে।"
চলতি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের পর, ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক শুভমান গিল এবং সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থ বল নরম হয়ে যাওয়া এবং এত দ্রুত আকৃতি পরিবর্তন করায় হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ফাস্ট বোলার স্টুয়ার্ট ব্রড ডিউকস বলের মাধ্যমে তাঁর টেস্ট কেরিয়ারে ৬০৪ উইকেটের বেশিরভাগই নিয়েছিলেন। তিনিও বল দ্রুত ক্ষয় হওয়ার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এই বিষয়ে জাজোদিয়া বলেন, "সুপারস্টাররা (বড় খেলোয়াড়রা) তর্ক করতেই পারেন। আমাকে তাঁরা যা চায় তা করতে হবে। আমি এটুকুই বলতে পারি। সমালোচনা করা খুব সহজ।"
জাজোদিয়াকে যখন এই বলের দ্রুত অবনতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি বলেন, "আবহাওয়ার উপর এর বড় প্রভাব রয়েছে। ক্রিকেট খেলার ধরন এবং ব্যাটের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। খেলোয়াড়রা শটে আরও বেশি শক্তি ব্যবহার করছেন। বলটি সময়ে সময়ে সীমানার বাইরে শক্ত জিনিসগুলিতে আঘাত করে। এমন পরিস্থিতিতেও, এই বলটি ৮০ ওভার পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং এটি একটি অলৌকিক ঘটনা।"
ডিউকস বলের প্রতি ইসিবির অসন্তোষ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "না, তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। আমরা একটি টেস্ট সিরিজের মাঝামাঝি সময়ে আছি। আমি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধার সঙ্গে বলছি যে, চলতি সিরিজে দু’টি ফলাফল হয়েছে। এর মধ্যে ভারত একটি ম্যাচ জিতেছে। অধিনায়ক গিল অন্য যেকোনও খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি রান করেছেন। দু’জন বোলার ছয়টি উইকেট নিয়েছেন। তাই আমি কেবল এটুকু বলতে পারি যে অসুবিধার জন্য আমি দুঃখিত।"
ভারতে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় স্তরেই এসজি টেস্ট বল ব্যবহার করা হয়। জাজোদিয়া বিশ্বাস করেন যে, ভারতের মতো একটি বিশাল ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের আরও বল বিকল্পের প্রয়োজন এবং ক্রমবর্ধমান বাজারের চাহিদা মেটাতে তাঁর কোম্পানি আরও ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাবে। কোম্পানিটি মিরাটে অবস্থিত, তবে তাদের সমস্ত বল ইংল্যান্ডে চূড়ান্ত করা হয়। এবার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে চলেছে। কারণ জাজোদিয়া গত সপ্তাহে বেঙ্গালুরু সফরের সময় ভারতে একটি অফিস খুলেছেন। তিনি বল পরীক্ষা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এমন বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। অভিজ্ঞ প্রশাসক ব্রিজেশ প্যাটেল ডিউকসের ভারত পরিচালনার নেতৃত্ব দেবেন। জাজোদিয়া বলেন, "আমি মিরাট থেকে বল কিনে এখানে (ইংল্যান্ড) সেগুলি চূড়ান্ত করছিলাম। কিন্তু এখন আমরা ভারতেও সেগুলি চূড়ান্ত করব। আমরা আমাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে, ভারতে এখন সঠিক সময়। আমি বলতে চাইছি, অর্থনীতি, উৎসাহ, ক্রিকেটে বিসিসিআই যে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে, বেঙ্গালুরুতে সুযোগ-সুবিধা, সবই এর জন্য সহায়ক।"