এখান থেকে দাঁড়িয়েই বোঝা যাচ্ছে, এটা ১০ ওভার বয়স হয়েছে, এরকম বল নয়। এই বলে অন্তত ২০ ওভার খেলা হয়েছে। যদি এ ঘটনা ভারতে হতো, যদি দেখা যেত বদলি বল আগেরটার মতো না, তাহলে ব্রিটিশ মিডিয়া তো ব্যাপারটা নিয়ে সোরগোল শুরু করে দিত।

বল নিয়ে অভিযোগ জানাচ্ছে ভারত
শেষ আপডেট: 12 July 2025 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ড-ভারত চলতি টেস্ট সিরজের তৃতীয় টেস্ট (England vs India Third Test) চলছে ঐতিহাসিক লর্ডসে। সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে দুই দিন। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে জো রুটের অনবদ্য শতকের উপর ভিত করে ইংল্যান্ড তোলে ৩৮৭ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিন ভারত শেষ করেছে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানে।
তৃতীয় দিন অপরাজিত অবস্থায় শুরু করবেন লোকেশ রাহুল (৫৩) ও ঋষভ পন্থ (১৯)। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের স্কোরকে বেঁধে রাখার কাজটা করেছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ। তবে বাকি বোলারদের কাছ থেকে তিনি সেভাবে সাফল্য পাননি।
যদিও এই সব কিছু ছাপিয়ে লর্ডস টেস্টের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন ডিউকস বল (Duke Balls)। অবশ্য চলতি সিরিজের শুরু থেকেই এই বল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শুক্রবার লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিন সকালে মাত্র ১০.৩ ওভার পর দ্বিতীয় নতুন বল বদলে দেওয়া হয়। আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তুষ্ট হয় ভারত। দিন শুরুতে নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করছিলেন যশপ্রীত বুমরা। প্রথম ১৪ ডেলিভারিতে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। কিন্তু বল বদলের পর পুরো সেশনেই ইংল্যান্ডের ৭ ও ৯ নম্বর ব্যাটারের বিপক্ষে আর কোনও উইকেট নিতে পারেনি ভারত।
টিম ইন্ডিয়ার অভিযোগ, বদলে দেওয়া বলটি কার্যকারিতাতেও ছিল অনেকটাই পিছিয়ে। ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, পুরোনো বলটি গড়পড়তা ১.৮৬৯ ডিগ্রি সুইং ও ০.৫৭৯ ডিগ্রি সিম মুভমেন্ট করছিল। যেখানে বদলি বলের সুইং ছিল মাত্র ০.৮৫৫ ডিগ্রি, যদিও সিম কিছুটা বেশি ছিল—০.৫৯৪ ডিগ্রি।
তবে বলটি নরম হয়ে গিয়েছিল বলে ভারত। এই নিয়ে মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন টিম ইন্ডিয়া অধিনায়ক শুবমান গিল। ভারতের দাবি, আম্পায়ারদের বেছে নেওয়া বলটি ব্যবহার হওয়া বলের চেয়ে বেশি পুরনো ছিল। ৮ ওভার পর এই বলও পরিবর্তন করা হয়।
বারবার বল পরিবর্তন নিয়ে ক্ষুব্ধ দুই দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও। বল পরিবর্তনের সময় কমেন্ট্রি বক্স থেকেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিশ্ব-ক্রিকেটের কিংবদন্তি ওপেনার সুনীল গাভাসকর। টেস্ট ক্রিকেটে রানের দিক থেকে দশ হাজারি ক্লাবের প্রথম সদস্য বলেন, “এখান থেকে দাঁড়িয়েই বোঝা যাচ্ছে, এটা ১০ ওভার বয়স হয়েছে, এরকম বল নয়। এই বলে অন্তত ২০ ওভার খেলা হয়েছে। যদি এ ঘটনা ভারতে হতো, যদি দেখা যেত বদলি বল আগেরটার মতো না, তাহলে ব্রিটিশ মিডিয়া তো ব্যাপারটা নিয়ে সোরগোল শুরু করে দিত।”
সানি পাশাপাশি বলেন, “ডিউকস বলের সত্যিই একটা সমস্যা আছে, ওদের এটা ঠিক করতে হবে। একটা বল ৮০ ওভার টিকে থাকার কথা, ১০ ওভার নয়।”
ভারতের এই প্রবাদপ্রতিম ওপেনারই শুধু নন, ডিউকস বল নিয়ে এর আগে অভিযোগ জানিয়েছিলেন অনেক ক্রিকেটারই। ২০২০ সালেও এরকম অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় ক্রিকেটারদের অভিযোগ ছিল, এই বল দ্রুত নরম হয়ে ওঠে ও তার ফলে আকৃতির পরিবর্তন হয়ে যায়।
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড এক্সে ডিউক বল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “আমরা এখন খুব বেশি বল নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি। এটা এত বড় একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, প্রায় প্রতিটি ইনিংসেই বল বদলাতে হচ্ছে। এটা একেবারেই গ্রহণীয় নয়। আমার মনে হয়, গত পাঁচ বছর ধরে এই সমস্যা চলছে। ডিউকসকে এই সমস্যার নিরসন করতে হবে।”
স্কাই স্পোর্টসে প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেনও একই সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেছেন, “এটা বাস্তব যে, এই বল নিয়ে গুরুতর সমস্যা আছে। ম্যাচ শুরুর আগেই দুই অধিনায়ক বিষয়টা তুলেছিলেন। লর্ডসেও দেখলাম, এক সেশনেই বল দুই বার বদলানো হয়েছে। কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, ডিউকস বলের খুব তাড়াতাড়ি আকার পরিবর্তন হচ্ছে। আমি মনে করি, এখন খুব সহজেই আমরা বল বদলে ফেলি। বল পুরোনো হয়, নরম হয়ে যায়—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার মনে হয় এমন এক পারফেক্ট বল প্রয়োজন, যা ৮০ ওভার অবধি একদম একই রকম থাকবে। ”
লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিন প্রসঙ্গে নাসের বলেছেন, “ওরা যখন প্রথম ঘণ্টায় বল করছিল, তখন বুমরাহ একেবারে অপ্রতিরোধ্য ছিল। আমি তখন স্কাইয়ের কমেন্ট্রি বক্সের পেছনে ল্যাপটপে কাজ করছিলাম। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি, বল বদলানো হচ্ছে। তখন মনে হল, বলটা দিয়ে এত ভাল বোলিং হচ্ছে, সেটা রেখে এলোমেলো একটা বাক্স থেকে নতুন বল নেওয়ার কী দরকার? সত্যিই বিষয়টি নিয়ে এবার ভাবার সময় এসেছে।”