কাটাছেঁড়া করার ফাঁকে উঠে আসছে ফিল্ডিং বিপর্যয়—দফায় দফায় ক্যাচ ফস্কানো। একা যশস্বী জয়সওয়ালই চারখানা সহজ সুযোগ ছেড়েছেন।

মহম্মদ কাইফ
শেষ আপডেট: 26 June 2025 11:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের পরাজয়ের কেন্দ্রে তিনি। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েও খলনায়ক। দুই ইনিংস মিলিয়ে এন্তার ক্যাচ ছেড়েছেন। যা ঘুরিয়ে দিয়েছে ম্যাচের মোড়। প্রায় সমস্ত সেশনে এগিয়ে থেকেও কোথায় লড়াই থেকে হারিয়ে গেল ভারত আর দিনের শেষে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিলেন বেন স্টোকসরা, এজবাস্টনের প্রস্তুতি শুরুর আগে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
আর কাটাছেঁড়া করার ফাঁকে উঠে আসছে ফিল্ডিং বিপর্যয়—দফায় দফায় ক্যাচ ফস্কানো। একা যশস্বী জয়সওয়ালই চারখানা সহজ সুযোগ ছেড়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে, সুনীল গাভাসকারের মতো প্রাক্তনীরাও তেড়ে সমালোচনা করছেন। কোচ গম্ভীর ও অধিনায়ক শুভমান পাশে দাঁড়ালেও ক্ষোভের আঁচ এড়াতে পারছেন না যশস্বী।
হিসেব বলছে, দুই ইনিংস মিলিয়ে সাকুল্যে ভারতীয় ফিল্ডাররা দশখানা ক্যাচ মিস করেছেন। যার মধ্যে যশস্বীর চারটি সুযোগই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হাতছাড়া হয়েছে।
১. প্রথম ইনিংসে: বেন ডাকেটকে ১১ রানে (যিনি শেষমেশ ৬২ করেন)।
২. অলি পোপকে ৬০ রানে (যিনি ১০৬ করে আউট হন)।
৩. হ্যারি ব্রুককে ৮৩ রানে (৯৯ রান করেন)।
৪. দ্বিতীয় ইনিংসে বেন ডাকেটকে ৯৭ রানে (যিনি ১৪৯ তোলেন)।
যদিও এই দুর্দিনে তাঁর পাশে দাঁড়ান প্রাক্তন অফস্পিনার আর অশ্বিন। তাঁর যুক্তি, ডিউক বল বাকি বলের চাইতে আলাদা। তার উপর ইংল্যান্ডের পরিবেশও ফিল্ডিংয়ের প্রতিকূল। ফলে ক্যাচ মিস করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অশ্বিন বলেন, ‘স্লিপে ক্যাচ নিয়ে কিছু কথা বলি। আমাদের একটা বিষয় বুঝতে হবে। এখন ইংল্যান্ডে ঠান্ডা। তার উপর ডিউক বলে খেলা হচ্ছে। এই দুই বিষয় ধাতস্থ হতে সময় প্রয়োজন। এসজি বল যেমন হাতে সুন্দর গ্রিপ হয়। কোকাবুরা বেশ ছোট। কিন্তু ডিউক বল বেশি শক্ত এবং ফিল্ডিংয়ের নজরে বড়ও বটে। ফলে ক্যাচ ধরা সহজ নয়।’
এবার একই তত্ত্বকে আরও কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গেলেন মহম্মদ কাইফ, টিম ইন্ডিয়ার আরও এক প্রাক্তন খেলোয়াড়। যিনি নিজের জমানায় বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিল্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পয়েন্টে দাঁড়িয়ে পাখির মতো ছোঁ মেরে উড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন, বাঁচিয়েছেন নিশ্চিত চার। কাইফ অশ্বিনের সুরে কিছুটা সুর মিলিয়ে জানান, ডিউক বলে ক্যাচ ধরাটা কঠিন। কিন্তু সেটা বল বড় বলে নয়। যেহেতু ক্যাচ ধরতে গিয়ে হাতে চোট পান অনেকে আর আঘাতপ্রাপ্ত আঙুলে বেঁধে ফেলেন ব্যান্ডেজ, তাই আঙুল নাড়াচাড়া করাটা দুষ্কর হয়ে ওঠে।
কাইফের কথায়, ‘আমরাও ডিউক বলে প্র্যাকটিস করেছি। আর যখন চোট পেয়েছি, হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধেছি। আর তাতে আঙুল গিয়েছে আটকে। তাতে হাত স্বচ্ছন্দে নাড়ানো যায় না, ক্যাচও ধরা যায় না। জড়ানো ফিতে স্পঞ্জ হয়ে ওঠে। আর তাতে লাগামাত্র বল বাউন্স খায়। তাই এটা সমস্যার। বলের সঙ্গে হাতের স্বাভাবিক যোগাযোগ কখনওই কেটে যাওয়া উচিত নয়।’