প্রাধান্য ধরে রাখতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। জয়সওয়াল যে চারজন ব্যাটারের সুযোগ ছেড়েছেন, তাঁরা জীবন ফিরে পেয়ে ১৬৫ রান অতিরিক্ত যোগ করেছেন।

টিম ইন্ডিয়া
শেষ আপডেট: 25 June 2025 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে আলো। অন্যদিকে অন্ধকার।
একদিকে দুই ইনিংস মিলিয়ে পাঁচ-পাঁচটি শতরান, ৩৭১ রানের প্রকাণ্ড টার্গেট। অন্যদিকে এন্তার ক্যাচ মিস, লোয়ার অর্ডারের সমূহ ব্যর্থতা।
আর দুইয়ের যোগফল: হেডিংলে টেস্টের প্রায় সমস্ত সেশনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এগিয়ে থেকেও অন্তিম যুদ্ধে পরাজয়। অধিনায়ক হিসেবে এটাই ছিল শুভমান গিলের প্রথম পরীক্ষা। আইপিএলের দুর্যোগ সামলে, সমালোচনার বোঝা মাথায় খেলতে নেমেছিলেন ঋষভ পন্থও। দুজনে হাতে হাত মিলিয়ে বিস্তর রান তুললেন ঠিকই, কিন্তু হার এড়াতে পারলেন না।
কোচ গম্ভীর যতই সাফাই দিন না কেন, দিনের শেষে এটা জলের মতো পরিষ্কার যে, মূলত দফায় দফায়, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচের সু্যোগ ফস্কানো এবং ব্যাটিং সারির নীচের দিকের খেলোয়াড়দের দায়বদ্ধতার অভাবের মাশুল গুনেছে টিম ইন্ডিয়া। অন্তত, পরিসংখ্যান ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে পরাজয়ের ময়নাতদন্তে কারণ হিসেবে এই দুটি বিষয় উঠে এসেছে।
হিসেব বলছে, দুই ইনিংস মিলিয়ে সাকুল্যে দশখানা ক্যাচ মিস করেছে ভারতীয় ফিল্ডাররা। যার মধ্যে যশস্বী জয়সওয়াল একাই ছেড়েছেন চারখানা! চারটি সুযোগই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হাতছাড়া হয়েছে।
১. প্রথম ইনিংসে: বেন ডাকেটকে ১১ রানে (যিনি শেষমেশ ৬২ করেন)।
২. অলি পোপকে ৬০ রানে (যিনি ১০৬ করে আউট হন)।
৩. হ্যারি ব্রুককে ৮৩ রানে (৯৯ রান করেন)।
৪. দ্বিতীয় ইনিংসে বেন ডাকেটকে ৯৭ রানে (যিনি ১৪৯ তোলেন)।
এ ছাড়াও নির্ভরযোগ্য ফিল্ডার হিসেবে পরিচিত রবীন্দ্র জাদেজা, শুভমান গিলও সহজ ক্যাচ মিস করেন। এর ভরপুর ফায়দা তোলে ইংরেজ ব্যাটাররা।
যদিও গৌতম গম্ভীর কাউকেই কাঠগড়ায় তুলতে নারাজ। বলেছেন, ‘ক্যাচ ফস্কাবেই। দুনিয়ার সেরা ফিল্ডাররাও সুযোগ মিস করেন। কেউই কোনও বিশেষ উদ্দেশ্যে হাতছাড়া করেন না।’
এর পাশাপাশি দ্বিতীয় আরও একটি ফ্যাক্টর মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সেটা ব্যাটিং বিপর্যয়। একদিকে টিমের উপরের সারির ব্যাটাররা হাত খুলে রান করেছেন। প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছেন পাঁচটি সেঞ্চুরি, ৭২১ রান। অন্যদিকে শেষ ছ’জনের ব্যাট থেকে এসেছে ৬৫ রান। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি করুণ নায়ার, ব্যর্থ শার্দূল ঠাকুর।
ফিল্ডিং নিয়ে দলের খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ালেও ব্যাটিং ধস নিয়ে অকপট গম্ভীর। তাঁর কথায়, ‘এটা সত্যি দুর্ভাগ্যজনক। কারণ প্রথম ইনিংসে আমরা ৪০ রানে সাত উইকেট হারিয়েছি, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০ রানে ছ’উইকেট। যখন প্রথম ইনিংসে আমাদের ছ’শো তোলার সুযোগ ছিল, আমরা সেই রান দাঁড় করিয়ে লড়াইয়ে ভাল জমি তৈরি করতে পারতাম।’
যদিও পাশপাশি খেলোয়াড়দের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। গম্ভীরর বক্তব্য, ‘এই ধরনের ঘটনা ঘটেই থাকে। আশা করি, আমরা দ্বিতীয় টেস্টে পরাজয়ের শিক্ষাকে কাজে লাগাব। আমাদের কাছে চার বা পাঁচদিনই সুযোগ ছিল টেস্টে আধিপত্য বজায় রাখার।’
সেই প্রাধান্য ধরে রাখতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। জয়সওয়াল যে চারজন ব্যাটারের সুযোগ ছেড়েছেন, তাঁরা জীবন ফিরে পেয়ে ১৬৫ রান অতিরিক্ত যোগ করেছেন। সেই রান যোগ না হলে কি লড়াইয়ের মোড় ঘুরে যেত না? প্রশ্ন উঠছে। উত্তরের সু্যোগ যশস্বীরা পাবেন ২ জুলাই, এজবাস্টন টেস্টে।