ভারত ওভালে জেতার পর যেন নতুন অবতার রূপে ধরা দিলেন। তখন কোথায় তাঁর সেই গম্ভীর মুখ! একে-তাঁকে জড়িয়ে ধরছেন, কখনও উঠে পড়ছেন দলের বোলিং কোচ মর্নি মরকেলের কোলে। এ যেন এক অপরিচিত গম্ভীর।

টিম ইন্ডিয়া ড্রেসিংরুম
শেষ আপডেট: 5 August 2025 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ড-ভারত পাঁচ টেস্টের সিরিজ শেষ হয়েছে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে। শেষ টেস্টে ওভালে (England vs India Oval Test) দুরন্ত পারফর্ম করে সিরিজ ২-২ অবস্থায় শেষ করেছে টিম ইন্ডিয়া। বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা উত্তর যুগে নতুন অধিনায়ক শুভমান গিলের ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে, ভারতের পরবর্তী প্রজন্ম প্রস্তুত।
গোটা সিরিজই পেন্ডুলামের মতো দুলেছে। কোনও সেশনে এগিয়ে ভারত তো পরবর্তী সেশনেই ম্যাচের রাশ চলে গিয়েছে ইংল্যান্ডের হাতে। ওভালে শেষ টেস্টে ভারত নেমেছিল ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে। এই টেস্টে হার মানেই ইংল্যান্ডের পকেটে চলে যেত সিরিজ। কিন্তু ভারতীয় দলে রয়েছেন হায়দরাবাদের এক অটো চালকের ছেলে মহম্মদ সিরাজ। যিনি চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে জানেন। ব্রিটিশদের রক্তচক্ষুর পাল্টা দিতে পারেন। অসম্ভবকে সম্ভব করে ভারতকে জেতাতে প্রধান ভূমিকা নিলেন সিরাজ। পঞ্চম টেস্টের প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন চারটি উইকেট। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে নিলেন পাঁচটি। আর শেষ দিন তিনটি উইকেট নিয়ে ভেঙে দিলেন ইংরেজদের দর্প। শেষ টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও তিনি।
ওভাল টেস্টের শেষ দিনে ইংল্যান্ডের জিততে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩৫ রান। হাতে ছিল চারটি উইকেট। তবে ভারত যে বিনা যুদ্ধে মাটি ছাড়বে না, সেটা বোঝা গিয়েছিল বৃষ্টি বিঘ্নিত চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে। সিরাজ আর প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা প্রায় হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া ম্যাচে ভারতের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল দেশবাসী।
পঞ্চম দিনে মাত্র ৫৬ মিনিটেই খেলা শেষ। সিরাজ নিলেন তিন উইকেট আর প্রসিদ্ধ একটি। পাঁচ রানে জিতলে ভারত। ১৭৫৭ সালের পলাশী যুদ্ধে ব্রিটিশদের কাছে হেরে গিয়েছিলেন বাংলার নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লা। আর ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট ব্রিটিশ ভূমে ইংল্যান্ড ধরাশায়ী হল নিজামদের শহরের মহম্মদ সিরাজের হাতে।
ভারতীয় দলের হেড স্যার গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) সাধারণত একজন আবেগ বহির্ভূত মানুষ। অনেকেই বলে থাকেন, গৌতিকে হাসতে দেখা মানে অমাবস্যায় চাঁদ দেখা। সেই গম্ভীর ভারত ওভালে জেতার পর যেন নতুন অবতার রূপে ধরা দিলেন। তখন কোথায় তাঁর সেই গম্ভীর মুখ! একে-তাঁকে জড়িয়ে ধরছেন, কখনও উঠে পড়ছেন দলের বোলিং কোচ মর্নি মরকেলের কোলে। এ যেন এক অপরিচিত গম্ভীর।
𝗕𝗲𝗹𝗶𝗲𝗳. 𝗔𝗻𝘁𝗶𝗰𝗶𝗽𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻. 𝗝𝘂𝗯𝗶𝗹𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻!
Raw Emotions straight after #TeamIndia's special win at the Kennington Oval 🔝#ENGvIND pic.twitter.com/vhrfv8ditL— BCCI (@BCCI) August 4, 2025
ইংল্যান্ডের তখনও শেষ উইকেট পড়েনি। গ্যাস অ্যাটকিনসন মরিয়া লড়াই চালাচ্ছেন হাত ভাঙা ক্রিস ওকসকে সঙ্গে নিয়ে। ওভারের শেষ বলে একটি করে রান নিচ্ছেন, যাতে ওকসকে ব্যাট না করতে হয়। ক্রমশ কমছে ভারতের সঙ্গে ব্যবধান। মাঠের সেই উত্তেজনা গ্রাস করেছে দর্শক ভর্তি স্টেডিয়ামকেও। ভারতের ড্রেসিংরুমেও তখন চাপা উত্তেজনা। এর মধ্যেই মহম্মদ সিরাজের বলে উড়ে গেল অ্যাটকিনসনের স্টাম্প। ভারত জিতল পাঁচ রানে।
ভারত জিততেই তার রেশ ছড়িয়ে পড়ল টিম ইন্ডিয়া ড্রেসিংরুমে। প্রতিটি খেলোয়াড় ছুটে যাচ্ছেন তাঁদের হেড স্যারের কাছে। অনেক সমালোচনা হচ্ছিল ভারতীয় দলের চাণক্যকে নিয়ে। তাঁর দল নির্বাচন, রণকৌশল, সব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। তাই আবেগ হয়তো চেপে রাখতে পারলেন না গম্ভীর। চিৎকার করে উঠলেন। জড়িয়ে ধরতে শুরু করলেন সকলকে। মরকেল তাঁকে কোলে তুলে নিলেন। মাঠে নেমে সিরাজকে জড়িয়ে ধরলেন গম্ভীর।
গম্ভীরের ভিডিওটি (Video) বিসিসিআই (BCCI) তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছে, যেখানে তারা ক্যাপশনে লিখেছে, 'বিশ্বাস, সম্ভাবনা এবং উত্তেজনা...'। ভিডিওতে গম্ভীরকে অধিনায়ক শুভমান গিলকেও জড়িয়ে ধরতে দেখা গিয়েছে।