ঋষভ পন্থকে নিয়ে সমালোচনা ফিকে হল না। এবার অবশ্য তাঁর ঘাড়ে ভর দিয়ে নিশানা করা হল দলের অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরকে। সমালোচক গম্ভীরের একদা সতীর্থ, প্রাক্তন ক্রিকেটার দীনেশ কার্তিক।

ঋষভ পন্থ
শেষ আপডেট: 22 June 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি সেঞ্চুরি হাঁকালেন। হাঁকিয়ে সামারসল্ট দেখালেন। ডিগবাজি মেরে উচ্ছ্বাস বোঝালেন। একদা ‘স্টুপিড! স্টুপিড! স্টুপিড!’ বলা সুনীল গাভাসকারও ধারাভাষ্য দিতে বসে উল্লাসে চেঁচিয়ে উঠলেন: ‘সুপার্ব! সুপার্ব! সুপার্ব!’
কিন্তু তাতেও ঋষভ পন্থকে নিয়ে সমালোচনা ফিকে হল না। এবার অবশ্য তাঁর ঘাড়ে ভর দিয়ে নিশানা করা হল দলের অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরকে। সমালোচক গম্ভীরের একদা সতীর্থ, প্রাক্তন ক্রিকেটার দীনেশ কার্তিক। যাঁর পর্যবেক্ষণ: ১৩৪ রান করে আউট হওয়ার কথা ছিল না ঋষভের। দলের মারকুটে ব্যাটার আরও অনেক দূর তাঁর ইনিংস নিয়ে যেতে পারতেন। জশ টাঙ্গয়ের ইনসুইং বলে এলবিডব্লু হলেও, দীনেশের অনুমান: ড্রেসিং রুম থেকে কোনও না কোনও বার্তা এসেছিল। যে কারণে আচমকা দ্রুত গতিতে রান তোলা ঋষভ তাঁর খেলার মেজাজ পালটে ফেলেন। নিজেকে গুটিয়ে নেন। ডিফেন্সিভ ধাঁচে ব্যাটিং আরম্ভ করেন। যার মাশুল গুনে ড্রেসিং রুমে ফিরতে হয় দলের উইকেটকিপারকে।
এখানেই না থেমে দীনেশ জুড়ে দেন, এই নির্দেশ সম্ভবত গৌতম গম্ভীরের থেকেই এসেছিল। তাঁর কথাতেই হঠাৎ ইনিংসের মাঝপথে নিজেকে বদলে ফেলেন ঋষভ। চলতি সিরিজে স্কাই স্পোর্টসের হয়ে কমেন্ট্রি করছেন দীনেশ। এদিন পন্থের আউট দেখার পর তিনি বলেন, ‘এটা খুব কৌতুহলের বিষয়। হঠাৎ-ই ঋষভের কাছে একটি মেসেজ পাঠানো হল। যেটা কিনা ওর খেলার ধরনকে বদলে দিল। শুরুতে চিরাচরিত মেজাজে পরোয়া না করে চালিয়ে খেলছিল। কিন্তু মনে হয় ওকে শান্ত করতে ড্রেসিং রুম থেকে কোনও না কোনও বার্তা আসে।’
চলতি আইপিএলে আরসিবির ডাগ আউটে বসেছেন কার্তিক। কোচিংয়ের ভাল-মন্দ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তাই বলেছেন, ‘একজন কোচ হিসেবে আমি এটা বুঝি যে, একজন ব্যাটারের কানে কখনও কখনও বার্তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে বার্তা দিতে হয়, এটা বুঝে নেওয়াটাও একই রকমভাবে প্রয়োজনীয়। শিখতে হয়: কোন সুরে, কোন ভাষায় নির্দেশ পাঠাচ্ছ, যাতে ব্যাটসম্যান নিজের সেরাটা দিতে পারে।’
এরপর ঋষভের প্রসঙ্গ টেনে কার্তিক বলেন, ‘হয়তো ঋষভের জন্য আলাদা ধরনের রাস্তা বেছে নিতে হত।’
সবমিলিয়ে লড়াই থেকে ধীরে ধীরে পিছু হটছে টিম ইন্ডিয়া। অথচ দিনের শুরুতে ছবিটা এত মলিন ছিল না। দলের তিন জন ব্যাটার সেঞ্চুরি করেন। এক সময় মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৩০ রানে পৌঁছে যায় ভারতীয় দল। কেরিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স দেখান ঋষভ পন্থ। করেন ১৪৭ রান। অধিনায়ক শুভমান গিলও নায়কের মেজাজে ছিলেন। ১৩৪ রানে আউট হন। কিন্তু এই দুই ব্যাটসম্যান ড্রেসিং রুমে ফিরতেই চাপে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। মাত্র ৪১ রান জুড়ে ৭ উইকেট খুইয়ে ফেলে দল।
ইনিংস ব্রেকের পর বৃষ্টি নামে। যার জেরে দেরিতে শুরু হয় ইংল্যান্ডের ইনিংস। গোড়ায় যশপ্রীত বুমরাহ বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন ঠিকই। কিন্ত শান্ত মাথায় দ্বিতীয় উইকেটে ১২২ রানের জুটি গড়েন ওলি পোপ ও বেন ডাকেট। ডাকেট ৬২ রানে আউট হলেও, পোপ কেরিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকান। তিনি শেষ সেশনের শুরুতেই ৬৪ বলে লেট কাটে হাফ সেঞ্চুরি করেন। তবে এরপর পালটা আঘাত হানে ভারত। বুমরাহর বল স্টাম্পে টেনে ডাকেট ফেরেন সাজঘরে। ৬০ রানের মাথায় পোপ আবার ক্যাচ তুলেছিলেন, কিন্তু তৃতীয় স্লিপে দাঁড়ানো যশস্বী জয়সওয়াল ধরতে পারেননি, সহজ সুযোগ ফের হাতছাড়া!
অন্তিম সেশনে কিছুটা হলেও ছন্দ ফিরে পান মহম্মদ সিরাজ। তখন তিনি লেন্থ বুঝে বল করছেন। ফাঁদে ফেলেন জো রুটকে। আম্পায়ার এলবিডব্লু ঘোষণা করলেও রিভিউ রুটের পক্ষে যায়। প্রাণ ফিরে পান। অন্যদিকে, পোপ আত্মবিশ্বাসের জোরে বাজবলের ফর্মুলা মেনে প্রতি আক্রমণ শুরু করেন। জাদেজা, প্রসিদ্ধ ও শার্দুলকে বিশেষভাবে টার্গেট করেন। মারতে থাকেন করে টানা বাউন্ডারি। যার ফল: ১২৫ বলে দুর্দান্ত শতরান।
যদিও পোপের সেঞ্চুরির ঠিক পরেই রুটকে আউট করে ফের একবার ইংল্যান্ডকে ধাক্কা দেন বুমরাহ—এই নিয়ে দশবার টেস্ট ক্রিকেটে রুটকে আউট করলেন তিনি। দুপুরের ঠিক আগে হ্যারি ব্রুককে ড্রেসিং রুমে ফিরিয়েছিলেন, কিন্তু ওভারস্টেপের কারণে আউট বাতিল হয়ে যায়—ওভারে সেটা ছিল বুমরাহর তিন নম্বর নো বল!
দিনশেষে ঘরের ছেলে ব্রুক ও সেঞ্চুরি হাঁকানো পোপ মাঠ ছাড়েন। রিপোর্ট বলছে: প্রথম দিনে না পারলেও ইংল্যান্ড কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আর ভারতের বোলারদের হয়ে কার্যত একা লড়লেন বুমরাহ। আজ টেস্টের তৃতীয় দিন। প্রসিধ কৃষ্ণ, মহম্মদ সিরাজরা সাহায্য না করলে ভারত লড়াই থেকে পুরোপুরি ছিটকে যেতে পারে।