আপাতত ঠিক হয়েছে: সুদর্শন ও নীতীশ ফোর্থ স্লিপ ও গালির মধ্যে যে কোনও জায়গায় ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দাঁড়াবেন।

যশস্বী জয়সওয়াল
শেষ আপডেট: 1 July 2025 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যবস্থা নিল টিম ইন্ডিয়া ম্যানেজমেন্ট। একটি ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইটের রিপোর্ট অনুযায়ী, যশস্বী জয়সওয়ালকে এজবাস্টন টেস্টে আর স্লিপে দাঁড় করানো হবে না। বদলে করুণ নায়ার, সাই সুদর্শনরা বাড়তি দায়িত্ব পেতে চলেছেন।
লিডস টেস্টে চারজন ব্যাটসম্যান মিলিতভাবে পাঁচটি সেঞ্চুরি হাঁকানোর পরেও ভারত টেস্ট হারে। পাঁচ উইকেট প্রথম ম্যাচ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। এই পরাজয়ের জন্য বিশেষজ্ঞদের অনেকেই লাগাতার ক্যাচ মিসকে কারণ হিসেবে দেগে দেন। শতরানের পরেও সহজ সুযোগ হারানোর জেরে ‘খলনায়ক’ বনে যান যশস্বী জয়সওয়াল। যিনি দু’ইনিংস মিলিয়ে মোট চারটি ক্যাচ ছাড়েন।
দ্বিতীয় ইনিংসে নামার আগে নেট সেশনে আলাদা করে ক্যাচিং প্র্যাকটিস চলে। কিন্তু তাতেও সুরাহা মেলেনি। ফের বাউন্ডারির ধারে ক্যাচ ফস্কান তরুণ ওপেনার।
আগামিকাল দ্বিতীয় টেস্ট। তার আগে যশস্বীকে স্লিপে দাঁড় না করানোর সিদ্ধান্ত নিলেন গৌতম গম্ভীর। গতকাল ট্রেনিং সেশনে দায়িত্ব ন্যস্ত হয় সাই সুদর্শন, করুণ নায়ার, নীতীশ কুমার রেড্ডি ও শুভমান গিলের উপর। এই চারজনকে কাল ভারত ফিল্ডিং করলে স্লিপে দাঁড়াতে দেখা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন পজিশনে কে থাকবেন—সেটা স্থির না হলেও আপাতত ঠিক হয়েছে: সুদর্শন ও নীতীশ ফোর্থ স্লিপ ও গালির মধ্যে যে কোনও জায়গায় ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দাঁড়াবেন। করুণ প্রথম স্লিপে। কে এল রাহুল ও শুভমান গিলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্লিপে থাকার কথা।
যদিও যশস্বীকে ব্রাত্য করা হয়নি। ফ্ল্যাট ক্যাচ ধরা নিয়ে ঘা ঘামিয়েছেন রায়ান টেন দুশখাতে। সাহায্য করেছেন গম্ভীরও। তরুণ ওপেনারকে হয় ফরোয়ার্ড শর্ট লেগ কিংবা সিলি পয়েন্টের মধ্যে যে কোনও একটা জায়গায় রাখা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, গ্রেগ চ্যাপেলের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটার যশস্বীর ক্যাচ মিসের কারণ প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসের অভাবকে সামনে টানলেও আর অশ্বিন, মহম্মদ কাইফ পাশে দাঁড়ান। প্রাক্তন রবিচন্দ্র অশ্বিনের স্পিনারের যুক্তি, ডিউক বল বাকি বলের চাইতে আলাদা। তার উপর ইংল্যান্ডের পরিবেশও ফিল্ডিংয়ের প্রতিকূল। ফলে ক্যাচ মিস করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অশ্বিন বলেন, ‘স্লিপে ক্যাচ নিয়ে কিছু কথা বলি। আমাদের একটা বিষয় বুঝতে হবে। এখন ইংল্যান্ডে ঠান্ডা। তার উপর ডিউক বলে খেলা হচ্ছে। এই দুই বিষয় ধাতস্থ হতে সময় প্রয়োজন। এসজি বল যেমন হাতে সুন্দর গ্রিপ হয়। কোকাবুরা বেশ ছোট। কিন্তু ডিউক বল বেশি শক্ত এবং ফিল্ডিংয়ের নজরে বড়ও বটে। ফলে ক্যাচ ধরা সহজ নয়।’
একই তত্ত্বকে আরও কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গেলেন মহম্মদ কাইফ, টিম ইন্ডিয়ার আরও এক প্রাক্তন খেলোয়াড়। যিনি নিজের জমানায় বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিল্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পয়েন্টে দাঁড়িয়ে পাখির মতো ছোঁ মেরে উড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন, বাঁচিয়েছেন নিশ্চিত চার। কাইফ অশ্বিনের সুরে কিছুটা সুর মিলিয়ে জানান, ডিউক বলে ক্যাচ ধরাটা কঠিন। কিন্তু সেটা বল বড় বলে নয়। যেহেতু ক্যাচ ধরতে গিয়ে হাতে চোট পান অনেকে আর আঘাতপ্রাপ্ত আঙুলে বেঁধে ফেলেন ব্যান্ডেজ, তাই আঙুল নাড়াচাড়া করাটা দুষ্কর হয়ে ওঠে।
কাইফের কথায়, ‘আমরাও ডিউক বলে প্র্যাকটিস করেছি। আর যখন চোট পেয়েছি, হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধেছি। আর তাতে আঙুল গিয়েছে আটকে। তাতে হাত স্বচ্ছন্দে নাড়ানো যায় না, ক্যাচও ধরা যায় না। জড়ানো ফিতে স্পঞ্জ হয়ে ওঠে। আর তাতে লাগামাত্র বল বাউন্স খায়। তাই এটা সমস্যার। বলের সঙ্গে হাতের স্বাভাবিক যোগাযোগ কখনওই কেটে যাওয়া উচিত নয়।’