রিঙ্কুর বাগদানের পরই জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে তাঁকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

রিঙ্কু সিং
শেষ আপডেট: 1 August 2025 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিঙ্কু সিং (Rinku Singh) মানেই মারকাটারি ব্যাটিং। আইপিএল থেকে উঠে আসা উত্তরপ্রদেশের এই ব্যাটার টিম ইন্ডিয়ার টি-টোয়েন্টি দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আইপিএলে এক ওভারে ৩০ রান তুলে কেকেআর-কে ম্যাচ জেতানোর পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রিঙ্কু। তাঁর ফ্যানবেস লজ্জায় ফেলে দিতে পারে কোনও তারকা ক্রিকেটারকে।
জনপ্রিয়তার কথা ভেবে রিঙ্কুকে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর (Brand Ambassador) করেছিল। এই ক্রিকেটারের কাজ ছিল ভোটারদের সচেতন করা ভোটদানের বিষয়ে। এদিন জানা গেল রিঙ্কুকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসিআই-এর এই সিদ্ধান্তের পিছনে নাকি রয়েছেন রিঙ্কুর বান্ধবী প্রিয়া সরোজ।
আসলে রিঙ্কুর বান্ধবী প্রিয়া হলেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সাংসদ। ইতিমধ্যে রিঙ্কুর সঙ্গে প্রিয়ার বাগদান পর্ব সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। চলতি বছরেই তাঁরা সম্ভবত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন।
রিঙ্কুর বাগদানের পরই জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে তাঁকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রিঙ্কু ও প্রিয়ার অবস্থানকে এখন রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হিসাবে দেখা যেতে পারে, যা সচেতনতা অভিযানের নিরপেক্ষতাকে ঝুঁকির মুখে ফেল দিতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের পর, ইসিআই সমস্ত জেলাকে রিঙ্কুর নাম বা ছবি সম্বলিত প্রচারমূলক উপকরণ- পোস্টার, ব্যানার, ভিডিও এবং ডিজিটাল সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য উত্তর প্রদেশের জেলা প্রশাসনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক বার্তাও পাঠানো হয়েছে।
৮ জুন রিঙ্কু এবং মাছলিশহরেরর (জৌনপুর) সমাজবাদী পার্টির সাংসদ প্রিয়া সরোজ বাগদান সম্পন্ন করেন। হাই-প্রোফাইল সেই অনুষ্ঠানে সমাজবাদী পার্টির প্রধান এবং উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, ডিম্পল যাদব, শিবপাল যাদব, জয়া বচ্চন এবং রামগোপাল যাদব-সহ ২০ জনেরও বেশি সাংসদ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশন বলেছে, “সমস্ত জনসাধারণের প্রচারণায় নিরপেক্ষতা এবং বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একজন সম্মানিত ক্রীড়াবিদ হিসাবে রিঙ্কু সিংয়ের মর্যাদা স্বীকার করে নির্বাচন কমিশন। তবে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বৈধ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখন রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত বলে দেখা যেতে পারে এবং তাঁরা আমাদের প্রচারের প্রচেষ্টার নির্দলীয় প্রকৃতির সঙ্গে আপস করতে পারে।”
রিঙ্কু সিং বা প্রিয়া সরোজ কেউই এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। এদিকে, রাজনৈতিক মহল এই বিষয়ে আলোচনায় উত্তাল, অনেকে এটিকে আসন্ন নির্বাচনের আগে কমিশনের নেওয়া একটি দৃঢ় অবস্থান হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
এই পদক্ষেপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু ব্যবহারকারী এই সিদ্ধান্তকে 'অতিরিক্ত সতর্ক' বলে অভিহিত করলেও, অন্যরা বিশ্বাস করেন যে, প্রচারে নিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য রিঙ্কু সিংকে অপসারণ করা জরুরি ছিল।
পাশাপাশি রিঙ্কুর ফ্যানদের একটি অংশ হতাশা প্রকাশ করে বলেছে, রিঙ্কুর গণ-আবেদন সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করার পরিবর্তে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত ছিল।