রোহিতের মতো ‘ড্রেসিংরুম নেতা’-কে সরিয়ে দেওয়া মানে দলের ভারসাম্য নষ্ট করা। যাঁর অধীনে ভারত সাদা বলের ক্রিকেট নতুন সাফল্য পেয়েছিল, তাঁর নেতৃত্বই নাকি দলের ‘সংস্কৃতির’ জন্য হুমকি—এই ব্যাখ্যা সবদিক দিয়ে অস্বস্তিকর।

রোহিত শর্মা
শেষ আপডেট: 6 October 2025 11:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) যে ভারতের ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব হারাচ্ছেন, সেটা অনুমেয় ছিল। কিন্তু কেন হারাচ্ছেন, সেটাই এখন ক্রিকেট মহলের সবচেয়ে বড় কৌতূহল। কারণ, এশিয়া কাপ জেতা, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়, স্থিতিশীল পারফরম্যান্স—সবই তো রোহিতের অধিনায়কত্বে! তবু শনিবার বিসিসিআইয়ের (BCCI) ঘোষণায় স্পষ্ট হল, তিনি টিমে থাকবেন, খেলবেন। সবই সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে। তাঁর জায়গায় দলের হার ধরবেন শুভমান গিল (Shubman Gill)। শুধু তাই নয়, ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র একটি বিস্ফোরক রিপোর্টে উঠে এল আরও চমকে দেওয়া দাবি—বোর্ডের অন্দরে নাকি ‘ভয়’ ছিল, রোহিত অধিনায়ক থাকলে দলের ‘সংস্কৃতি’-ই নষ্ট হয়ে যাবে!
রিপোর্টে বিসিসিআই সূত্রের উদ্ধৃতি: ‘রোহিতের মতো বড় মাপের খেলোয়াড় নেতৃত্বে থাকলে, স্বাভাবিকভাবেই নিজের দর্শনই সাজঘরে চাপিয়ে দিতেন। কিন্তু তিনি এখন কেবল ওয়ানডে খেলছেন—যে ফরম্যাটে সবচেয়ে কম খেলা হয়। ফলে তাঁর প্রভাব অন্য দুই ফরম্যাটে নামা দলের সংস্কৃতি বদলে দিতে পারত!’ অর্থাৎ, মূল উদ্বেগ একটাই—অল্প ম্যাচ খেলে রোহিত যেন পুরো কাঠামোর ‘দিকনির্দেশক’ না হয়ে ওঠেন।
প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর (Ajit Agarkar) শনিবার বলেন, ‘তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক রাখা বাস্তবসম্মত নয়।’কিন্তু বোর্ডের ভেতরের ছবিটা যে পুরোপুরি আলাদা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রোহিতের বদলে শুভমানকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত তাই কেবল ‘পরিবর্তন’ নয়, একরকম ‘কনট্রোল স্ট্রাটেজি’ বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল।
এখানেই শেষ নয়। ওই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) ভূমিকাও এই রদবদলের বড় কারণ। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসে দলের নবাগত কোচ টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই ফরম্যাটেই পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পরপর সিরিজ হারের পর থেকে তিনি টিম ম্যানেজমেন্টে ‘আরও সরাসরি’ হস্তক্ষেপ শুরু করেন। তারপর থেকেই অভ্যন্তরীণ রূপরেখায় আসে বড় বদল। নেতৃত্বের পরিবর্তন এরই অংশ।
রিপোর্ট বলছে, গম্ভীর ও আগরকর যৌথভাবে বুঝে যান, রোহিত–বিরাটের (Virat Kohli) মতো দুই সিনিয়র খেলোয়াড়ের ফর্ম দু’বছর পর পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। সূত্রের ভাষায়, ‘ওরা তিরিশের শেষ প্রান্তে। দু’বছর বাদে হঠাৎ যদি পারফরম্যান্স পড়ে যায়, তাহলে নেতৃত্বে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। দল সেই অবস্থা দেখতে চায়নি!’
অর্থাৎ, সবকিছুর মূলেই একটাই ভাবনা—‘অগ্রিম প্রস্তুতি’। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় কিংবা ইংল্যান্ডে টেস্ট জেতার পরও রোহিতকে সরিয়ে দিয়ে বিসিসিআই স্পষ্ট করেছে, এখন থেকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাই অগ্রাধিকার পাবে। এই নীতি মেনেই শুভমানের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া।
তবে সমালোচকদের একাংশের যুক্তি ভিন্ন। তাঁদের চোখে, রোহিতের মতো ‘ড্রেসিংরুম নেতা’-কে সরিয়ে দেওয়া মানে দলের ভারসাম্য নষ্ট করা। যাঁর অধীনে ভারত সাদা বলের ক্রিকেট নতুন সাফল্য পেয়েছিল, তাঁর নেতৃত্বই নাকি দলের ‘সংস্কৃতির’ জন্য হুমকি—এই ব্যাখ্যা সবদিক দিয়ে অস্বস্তিকর।
আসল কারণ যাই হোক না কেন, রোহিতের অধিনায়কত্ব হারানো এখন শুধু এক ক্রিকেটিং সিদ্ধান্ত নয়, বিসিসিআইয়ের ভেতরের নতুন পাওয়ার স্ট্রাকচারের প্রতীক। সওয়াল তাই স্পষ্ট—‘সংস্কৃতি’ বাঁচাতে গিয়ে, টিম ইন্ডিয়া কি সেই স্থিতিকে খুইয়ে ফেলল, যা একসময় রোহিতই নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন?