সাইকিয়া আরও জানান, সোশ্যাল মিডিয়া আর কিছু রিপোর্টে ‘আজগুবি’ কথাবার্তা লেখা হয়। বোর্ড সেই সব ভিত্তিহীন গুঞ্জনকে এড়িয়ে যায়।
.jpeg.webp)
ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 8 February 2026 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেটে কোনও ইস্যু নিয়েই গুঞ্জন নতুন নয়। কিন্তু গত কয়েক মাসে যে জল্পনাটা সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে, তার কেন্দ্রে একটাই প্রশ্ন—হেডকোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) আর প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলি-র (Virat Kohli) সম্পর্ক আদৌ কতটা স্বাভাবিক? আইপিএলের অতীত সংঘাত, মাঠে মুখোমুখি বাক্যবিনিময়, নেট সেশনে দূরত্ব—সব মিলিয়ে গল্পটা এতটাই ফুলেফেঁপে উঠেছে, যে শেষমেশ মুখ খুলতে হল খোদ বিসিসিআইকে!
'আমি কখনও ওদের লড়াই করতে দেখিনি’
এই বিতর্কে প্রথমবার প্রকাশ্যে অবস্থান স্পষ্ট করলেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া (Devajit Saikia)। এক পডকাস্টে স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, কোহলি ও গম্ভীরের মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত বিবাদ তাঁর চোখে পড়েনি। সাইকিয়ার কথায়, ‘আমি কখনও দেখিনি ওরা লড়াই করছে। ওদের মধ্যে খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক।’
এই বক্তব্যের পর তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় আইপিএল ২০২৩-এর সেই আলোচিত ঝামেলার কথা। উত্তরে সাইকিয়া কার্যত বিষয়টা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘আইপিএল? হয়তো সেই ম্যাচটা আমি দেখিনি। জাতীয় দলের সঙ্গে থাকাকালীন সব ম্যাচ দেখা সম্ভব নয়।’ এই মন্তব্যেই পরিষ্কার, বোর্ডের চোখে আইপিএল আর জাতীয় দল এক নয়। বোর্ডের ভিতরে অন্তত গম্ভীর-কোহলি দ্বন্দ্ব নিয়ে কোনও ‘রেড ফ্ল্যাগ’ নেই—এই বার্তা দিতে চেয়েছেন সাইকিয়া।
‘কোহলিকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই নেই’
সবচেয়ে তীব্র যে অভিযোগটা ঘুরছে—গম্ভীর নাকি কোহলিকে দলে চান না—সেই ধারণারও সাফ জবাব দিয়েছেন বিসিসিআই সচিব। সাইকিয়ার বক্তব্য, ‘এই ধরনের ধারণা থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তব দেখুন—বিরাট কোহলি দলে আছে। গৌতম গম্ভীরও আছে। ফলাফল দেখুন। কখনও কি দেখেছেন কোহলি দল থেকে বাদ পড়েছে?’ এই বক্তব্যে বোর্ডের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। কোচের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ দিয়ে জাতীয় দলের নির্বাচন চলে না। পারফরম্যান্সই শেষ কথা।
চর্চিত সূত্রে উঠে এসেছে রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) প্রসঙ্গও। কোহলি ও রোহিত—দু’জনেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর জল্পনা ছড়িয়েছিল, ওয়ানডেতেও তাঁদের ভবিষ্যৎ নাকি অনিশ্চিত। কিন্তু ব্যাট হাতে মাঠে নেমেই সেই সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন দুই সিনিয়র।
‘কোহলিকে কেউ জোর করতে পারে না’
সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়—বিরাট কোহলির টেস্ট অবসর। অনেক মহলের অভিযোগ ছিল, ব্যর্থ বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশের পর নাকি তাঁকে অবসরের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগও একেবারে নস্যাৎ করেছেন সাইকিয়া। তাঁর সাফ কথা, ‘বিরাট কোহলির মতো মাপের একজন খেলোয়াড়কে কেউ কোনও সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে না। তিনি কিংবদন্তি। বোর্ড এমনিতেও কখনও কোনও খেলোয়াড়ের কেরিয়ারে হস্তক্ষেপ করে না।’
পাশাপাশি সাইকিয়া আরও জানান, সোশ্যাল মিডিয়া আর কিছু রিপোর্টে ‘আজগুবি’ কথাবার্তা লেখা হয়। বোর্ড সেই সব ভিত্তিহীন গুঞ্জনকে এড়িয়ে যায়। তাঁর মন্তব্য, ‘এই ধরনের বিষয় কোনও বৈঠকেই ওঠেনি!’ দেবজিতের কথা সত্যি হলে বোঝাই যাচ্ছে, গম্ভীর বনাম কোহলি বিতর্কটা মূলত বাইরের তৈরি।
সব মিলিয়ে বিসিসিআইয়ের বার্তা স্পষ্ট। কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) বনাম তারকা বিরাট কোহলি (Virat Kohli)—এই লড়াইয়ের গল্প বিসিসিআইয়ের ‘নথি’তে নেই। বাস্তবে যা আছে, তা প্রধানত পারফরম্যান্স, ফলাফল আর দলের প্রয়োজন। বাকি সবটাই অনুমান, জল্পনা আর চর্চার খোরাক।