মজার বিষয়, সরফরাজ অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড—দুই সফরেই ভারত ‘এ’ দলের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু মূল টিমে জায়গা হয়নি।

শামা মহম্মদ
শেষ আপডেট: 22 October 2025 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের মাঠের বাইরের রাজনীতিতে উত্তপ্ত ভারতীয় ক্রিকেট। গৌতম গম্ভীরকে (Gautam Gambhir) নিশানা করে আক্রমণ শানালেন কংগ্রেসের (Congress) জাতীয় মুখপাত্র শামা মহম্মদ (Shama Mohamed)। অভিযোগ, ধর্মের ভিত্তিতে পক্ষপাত দেখাচ্ছেন দলের হেডকোচ। যে কারণে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরও সুযোগ পাচ্ছেন না সরফরাজ খান (Sarfaraz Khan)।
বিতর্কের শুরুয়াত ভারতের ‘এ’ দল ঘোষণার পর। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের (India A vs South Africa A) জন্য ঘোষিত টিমে নাম নেই সরফরাজের। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মুম্বইয়ের (Mumbai) ব্যাটার বাদ পড়ায় ফুঁসে ওঠেন অনেকেই। তাঁদেরই একজন শামা। কংগ্রেস মুখপাত্র সরাসরি এক্স–এ (X) লেখেন, ‘সরফরাজ কি কেবল নামের শেষে ‘খান’ আছে বলেই বাদ পড়ছেন? আমরা জানি, গম্ভীর কী ভাবছেন!’ ইঙ্গিত স্পষ্ট—বিজেপির (BJP) রাজনীতির সঙ্গে গম্ভীরের নিবিড় যোগ।
তাঁর মন্তব্যে মুহূর্তে ঝড় ওঠে। কারণ, টিম ইন্ডিয়ার কোচ এখন নির্বাচক কমিটির সিদ্ধান্তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। শামার প্রশ্ন—যে ক্রিকেটারের গত মরশুম ঘরোয়া ক্রিকেটে গড় ছিল ৬৫-র উপর, যিনি নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) বিরুদ্ধে শেষ সিরিজে করেছিলেন ১৫০ রান—তাঁকে কেন বারবার উপেক্ষা করা হচ্ছে?
সরফরাজ শেষবার ভারতীয় দলে সুযোগ পান ২০২৪ সালের নভেম্বরে। কিউয়িদের বিরুদ্ধে টেস্টে খেলেন, করেছিলেন রানও। তারপর বর্ডার–গাভাসকর ট্রফিতে (Border-Gavaskar Trophy) অস্ট্রেলিয়ায় গেলেও মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। ইংল্যান্ড সফরেও জায়গা পাননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের (West Indies Series) দলে না থাকা নিয়েও তখন ক্ষোভ বাড়ে। এমনকি, ঘরোয়া দলে ফিরে শতরান করেও ‘ইন্ডিয়া এ’-তে ব্রাত্য!
যে কারণে একই প্রশ্ন তুলেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস–ই–ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি (Asaduddin Owaisi)। তাঁর দলের মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান (Waris Pathan) বলেন, ‘একজন খেলোয়াড়, যাঁর গড় এত বেশি, তাঁকে কেন জায়গা দেওয়া হচ্ছে না? নিশ্চয়ই এর পেছনে অন্য কিছু আছে!’ অন্যদিকে, যোগী আদিত্যনাথ সরকারের প্রাক্তন সংখ্যালঘু কল্যাণমন্ত্রী মহসিন রাজা (Mohsin Raza) কংগ্রেস ও এআইএমআইএম–এর বিরুদ্ধে পালটা ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর কথায়, ‘ক্রিকেটের নির্বাচনে রাজনীতি টানার দরকার নেই। সামি (Mohammed Shami), সিরাজ (Mohammed Siraj) তো খেলছেন। তাই ধর্মের প্রসঙ্গ টানা হাস্যকর। এটা খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা!’
বিসিসিআইয়ের (BCCI) নির্বাচক কমিটি অবশ্য সরফরাজকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছে। চেয়ারম্যান অজিত আগরকর (Ajit Agarkar) জানিয়ে দেন, সরফরাজ সাম্প্রতিক সময়ে চোট–আঘাতের সমস্যায় ভুগছিলেন। দলীপ ট্রফি ও ইরানি কাপ—দুটি টুর্নামেন্টই খেলতে নামেননি। সেই কারণেই নাকি বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এখানেই প্রশ্ন—পরিবর্তে ডাকা হয়েছে যে করুণ নায়ারকে (Karun Nair), তিনি একসময় টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেও দীর্ঘদিন ধরে ফর্মে নেই। নায়ার নাকি অভিজ্ঞতার জোরে সুযোগ পেয়েছেন। আগরকরের যুক্তি, বিরাট (Virat Kohli) না থাকায় অভিজ্ঞতা দরকার ছিল। করুণের ঘরোয়া ও কাউন্টি ক্রিকেটে ভালো রান রয়েছে। তাই ওকে বেছে নেওয়া! কিন্তু সরফরাজের ঘরোয়া পারফরম্যান্স তো আরও ধারাবাহিক! তাহলে যুক্তি ধোপে টিকছে কই?
মজার বিষয়, সরফরাজ অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড—দুই সফরেই ভারত ‘এ’ দলের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু মূল টিমে জায়গা হয়নি। ইংল্যান্ডে (England Lions) তাঁর ৯২ রানের ইনিংস নজর কাড়ে। কিন্তু নির্বাচকরা অনড়। নায়ার ব্যর্থ হওয়ার পরও সরফরাজকে ফেরানো হয়নি। এই আবহে শামার সাম্প্রতিকতম মন্তব্য চলতি বিতর্কের আঁচ নিশ্চিতভাবে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।