এই বিতর্ক এমন একটা সময়ে উঠছে, যখন অস্ট্রেলিয়া তাদের পেসারদের ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সতর্ক। অগস্ট থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা, তারপর ভারত সফর, ঘরে অ্যাশেজ ও ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপ—এই চাপের কথা মাথায় রেখেই তারা তারকাদের কাউকে আটকে রেখেছে, কাউকে সীমিত ভূমিকা পালনের কড়া নির্দেশ দিয়েছে।

অশ্বিন ও গ্রিন
শেষ আপডেট: 22 March 2026 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপিএলে (IPL 2026) কোনও খেলোয়াড় লিখিত চুক্তিতে যে ভূমিকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন, সেই দায়িত্বটুকু পালন না করলে কি তাঁর পারিশ্রমিক কেটে নেওয়া উচিত নয়?
প্রশ্নটা তুললেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin), নিজের ইউটিউব চ্যানেলে। উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করালেন যাঁকে, ঘটনাচক্রে তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ক্যামেরন গ্রিন (Cameron Green)। অজি ক্রিকেটারের প্রসঙ্গ টেনে শুধু একজন-দু’জন নয়, গোটা সিস্টেমের খোলনলচে পালটে ফেলার পক্ষেই মত দিলেন ভারতের প্রাক্তন স্পিনার।
গ্রিনের বোলিং নিয়ে প্রশ্ন
গ্রিনকে কেকেআর কিনেছে ২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকায়—আইপিএল ইতিহাসে বিদেশি খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। নাইট-ম্যানেজমেন্টের লক্ষ্য ছিল আন্দ্রে রাসেলের মতো ‘ডুয়াল ইম্প্যাক্ট’, অর্থাৎ ব্যাটে ও বলে সমান দক্ষ খেলোয়াড়কে সই করানো, মাঠে কাজে লাগানো। কিন্তু পিঠের চোট সারিয়ে ফেরার পর অস্ট্রেলিয়া তাঁর বোলিং লোড সীমিত রেখেছে। অ্যাশেজে মাত্র ৬১.৫ ওভার বোলিং করেছেন, তাও ন’ইনিংসে। টি-২০ বিশ্বকাপে চার ম্যাচে মাত্র ৩.১ ওভার। তাহলে আইপিএলে কি তিনি আদৌ ৪ ওভার করে হাত ঘোরাবেন? ঘনিয়েছে সংশয়।
আর এখানেই আপত্তি অশ্বিনের—ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যদি গ্রিনকে বলে ‘আইপিএল খেলো, কিন্তু বোলিং কম করো’, তাহলে কি সেটা কেকেআরের প্রদেয় মূল্য ও চুক্তির উল্লঙ্ঘন নয়?
‘শাহরুখ ২৫ কোটি দিয়েছেন…’
গ্রিনকে নিশানা করে অশ্বিনের সাফ বক্তব্য—‘নিলামে আসার সময় প্রতিশ্রুতি ছিল চার ওভার বোলিং ও ব্যাটিং। যদি বল করায় বিধিনিষেধ থাকে, তাহলে দলের চুক্তি থেকে টাকা কাটারও অধিকার থাকা উচিত!’ এখানেই না থেমে যোগ করেন, ‘ভাবুন শাহরুখ খান ২৫ কোটি দিয়েছেন। সেই খেলোয়াড় এসে বলছেন, আজ এক ওভার করব বা ১০ বল করব। শুনে কেমন লাগবে?’ প্রাক্তন সিএসকে তারকার মতে, নিলামে বিড করার সময় একজন অলরাউন্ডারের পুরো মূল্য ধরা হয়—ব্যাট ও বল মিলিয়ে। কিন্তু পরে যদি বোলিং সীমিত হয়, তাহলে সেটা ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি তঞ্চকতার সামিল।
উল্লেখ্য, এই বিতর্ক এমন একটা সময়ে উঠছে, যখন অস্ট্রেলিয়া তাদের পেসারদের ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সতর্ক। অগস্ট থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা, তারপর ভারত সফর, ঘরে অ্যাশেজ ও ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপ—এই চাপের কথা মাথায় রেখেই তারা তারকাদের কাউকে আটকে রেখেছে, কাউকে সীমিত ভূমিকা পালনের কড়া নির্দেশ দিয়েছে। গ্রিনও (Cameron Green) সেই পরিকল্পনার অংশীদার। আর তাই নিয়েই ক্ষিপ্ত অশ্বিন। পয়সা উসুল হল কি হল না—তাই নিয়ে চিন্তিত প্রাক্তন স্পিনার। কেকেআর কী ভাবছে?