উত্তর যাই হোক, একটা বিষয় নিশ্চিত—ভারতের বিরুদ্ধে এই পরাজয় পাকিস্তান ক্রিকেটে গভীর আত্মসমালোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। আর সেই খিড়কি দিয়েই ঢুকে পড়েছে ‘রাজনীতি বনাম ক্রিকেটে’র চড়া সুরের বিতর্ক।

নকভি ও ইউসুফ
শেষ আপডেট: 16 February 2026 16:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের কাছে ৬১ রানের হারের পর শুধু ড্রেসিং রুম নয়, কাঁপছে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভিতও। টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) কলম্বোয় পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এবার কড়া মন্তব্য করলেন প্রাক্তন অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ (Mohammad Yousuf)। তাঁর সোজাসাপটা দাবি—রাজনীতি আর ব্যক্তিগত স্বার্থ দূরে না সরালে পাকিস্তান ক্রিকেটের পতন থামবে না। সাম্প্রতিক অবস্থাকে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের ‘সবচেয়ে অন্ধকার সময়’বলতেও দ্বিধা করেননি প্রাক্তন ব্যাটার।
‘রাজনীতি সরাও, নইলে ফিরবে না পুরনো পাকিস্তান’
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (X) ইউসুফ লেখেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট থেকে রাজনৈতিক প্রভাব আর ব্যক্তিগত এজেন্ডা দূর করতে না পারলে আমরা আর আগের জায়গায় ফিরতে পারব না। এটা আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময়। অযোগ্য ব্যক্তিদের সরাতে হবে—বোর্ড থেকে, দল থেকেও।’
এই মন্তব্যে সরাসরি নাম না নিলেও ইঙ্গিত স্পষ্ট—পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) দিকে। যিনি একই সঙ্গে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। তাঁর নিয়োগের পর থেকেই বোর্ডের একাধিক সিদ্ধান্ত ঘিরে ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে’র অভিযোগ উঠেছে।
নকভি-বিতর্ক: ট্রফি থেকে বয়কট নাটক
এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) ফাইনালে ভারতের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার সময় তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। টিম ইন্ডিয়া নকভির হাত থেকে স্মারক নিতে অস্বীকার করায় তিনি মঞ্চ থেকে সরিয়ে দেন ট্রফি—যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমহলে ব্যাপক সমালোচিত হয়। যদিও দেশে ফিরে সরকারি সম্মান ও ব্যাপক জনাদর পান নকভি।
বছর ঘুরতে না ঘুরতে নতুন টুর্নামেন্ট। এবার টি-২০ বিশ্বকাপ। যা শুরুর আগে ভারত ম্যাচ বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) সঙ্গে বৈঠক করেন নকভি। আইসিসি (ICC) কর্তাদের সঙ্গে একাধিক আলোচনার পর শেষমেশ সেই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। কিন্তু অনেকের মতে, এই বয়কট-নাটক দলের মনোসংযোগে প্রভাব ফেলেছে।
মাঠে পরাজয়, টেবিলে বিতর্ক
কলম্বোয় আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে (R Premadasa Stadium) ভারত ১৭৫/৭ তোলে। জবাবে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১১৪ রানে। এই হারের ফলে সুপার এইটে ওঠা অনিশ্চিত। নেট রান রেট তলানিতে। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ কার্যত ‘করো বা মরো’। এই প্রেক্ষিতে ইউসুফের বক্তব্যে স্পষ্ট—সমস্যা শুধু মাঠে নয়, প্রশাসনিক স্তরেও। প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তান ক্রিকেট সত্যিই রাজনৈতিক প্রভাবের জালে জড়িয়েছে? নাকি এটা কেবল হতাশার বহিঃপ্রকাশ?
উত্তর যাই হোক, একটা বিষয় নিশ্চিত—ভারতের বিরুদ্ধে এই পরাজয় পাকিস্তান ক্রিকেটে গভীর আত্মসমালোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। আর সেই খিড়কি দিয়েই ঢুকে পড়েছে ‘রাজনীতি বনাম ক্রিকেটে’র চড়া সুরের বিতর্ক।