দেশের হয়ে ৬৭টি টেস্ট ও ২০৮টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৯৯ এবং ২০০৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলে তাঁর উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ড্যামিয়েন মার্টিন
শেষ আপডেট: 8 January 2026 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে জিতলেন। কোমা থেকে জেগে উঠলেন। সবই ধাপে ধাপে। সবশেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরতে চলেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ব্যাটার ড্যামিয়েন মার্টিন (Damien Martyn)। গুরুতর মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউ-তে কোমায় চলে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা—এই প্রত্যাবর্তনকে তাঁর সতীর্থরা ‘অলৌকিক’ বলতেই দ্বিধা করছেন না।
৫৪ বছর বয়সি মার্টিনকে ২৬ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হঠাৎ শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে এবং তারপর চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়। মেনিনজাইটিস এমন একটি সংক্রমণ, যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর আবরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে প্রাণঘাতী হতে পারে। যে কারণে মার্টিনের অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটজনক।
কয়েকদিন আইসিইউ-তে থাকার পর গত সপ্তাহে ধীরে ধীরে জ্ঞান ফেরে মার্টিনের। কথা বলতে শুরু করেন, সাড়া দিতে থাকেন চিকিৎসকদের প্রশ্নে। সেখান থেকেই পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধবদের আশার আলো দেখা শুরু। অবশেষে সব দুর্ভাবনার ইতি টেনে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে সন্তোষজনক উন্নতির পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হল। আপাতত তিনি বাড়িতে থাকবেন। পুনর্বাসন ও বিশ্রামের মধ্যে দিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া চলবে।
এই খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটমহল। প্রাক্তন উইকেটকিপার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (Adam Gilchrist) অ্যাশেজ টেস্টের সম্প্রচারে (Ashes Test) জানান, মার্টিনের পরিবার অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁর মন্তব্য, ‘খবরটা সত্যিই দারুণ। ও এখন বাড়িতে। পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, অ্যাম্বুল্যান্স কর্মীরা প্রথম মুহূর্তে যেভাবে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন, সেটাই হয়তো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে।’
পাশাপাশি তিনি এটাও স্পষ্ট করে দেন, মার্টিন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার পথে থাকলেও এখনও তাঁর সামনে একটা দীর্ঘ রিহ্যাবিলিটেশন পর্ব রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা, বিপদ কেটে গিয়েছে।
একই সম্প্রচারে প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় ব্যাটার মার্ক ওয়াহ (Mark Waugh) বলেন, ‘আইসিইউ-তে ওর অবস্থা যখন দেখেছিলাম, তখন সত্যিই খুব খারাপ লাগছিল। সেখান থেকে এভাবে ফিরে আসা প্রায় অলৌকিক বললেও কম বলা হয়।’
ড্যামিয়েন মার্টিন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্বের সদস্য। দেশের হয়ে ৬৭টি টেস্ট ও ২০৮টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৯৯ এবং ২০০৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলে তাঁর উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক—পাঁচ ইনিংসে ২৪১ রান, গড় ৮০.৩৩। ভারতের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়েও মার্টিনের ব্যাট বড় ভূমিকা নেয়।