গ্রুপ বদলের প্রস্তাব আপাতদৃষ্টিতে ‘মাঝামাঝি সমাধান’ মনে হলেও, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন লাখ টাকার সওয়াল। কারণ, একবার গ্রুপ পাল্টালে তার প্রভাব পড়বে অন্য দলগুলোর সূচিতেও।

বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম
শেষ আপডেট: 18 January 2026 11:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি–২০ বিশ্বকাপ (ICC Men’s T20 World Cup 2026) শুরুর আগে অস্বস্তি কমানোর বদলে কয়েক দফা বাড়িয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ‘ছকভাঙা’ প্রস্তাব। ভারতের মাটিতে খেলতে অনিচ্ছুক পড়শি দেশ এবার সরাসরি গ্রুপ বদলের কথা তুলে ধরল। ভেন্যু পালটানো না হলে অন্তত গ্রুপ বদলে দেওয়া হোক—যাতে ভারতে পা রাখতেই না হয়! এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board)।
আইসিসির (International Cricket Council) সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর শনিবার একটি প্রেস বিবৃতি দিয়ে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিসিবি। সম্মিলিত দাবি, নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের উদ্বেগ যেমন আছে, তেমনই খেলোয়াড়, সমর্থক ও মিডিয়ার নিরাপত্তা নিয়েও তারা কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ।
কেন গ্রুপ বদলের প্রস্তাব তুলল বাংলাদেশ?
বিসিবির বক্তব্য অনুযায়ী, আইসিসি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় তারা আবারও স্পষ্ট জানিয়েছে—বাংলাদেশের সমস্ত ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) সরিয়ে নেওয়াই প্রথম পছন্দ। তবে সেই অনুরোধ যদি মানা না হয়, সেক্ষেত্রে ‘লজিস্টিক্যালি কম ঝামেলার’বিকল্প হিসেবে গ্রুপ বদলের প্রস্তাবও টেবিলে রাখা হয়েছে।
প্রেস বিবৃতিতে বিসিবির বক্তব্য, ‘আলোচনা ছিল গঠনমূলক ও পেশাদার। বিভিন্ন সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে খোলামেলা কথা হয়েছে। তার মধ্যে একটি—গ্রুপ বদলে দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা।’যার সারমর্ম: পুরো টুর্নামেন্টের কাঠামো না ভেঙে, শুধুমাত্র গ্রুপ পুনর্বিন্যাস করেই বাংলাদেশকে ভারতে না খেলানোর রাস্তা খোঁজার মরিয়া চেষ্টা।
নিরাপত্তা বনাম রাজনীতি: আড়ালের গল্প
বাংলাদেশের এই অবস্থান হঠাৎ তৈরি হয়নি। সম্প্রতি মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলেছে। বিসিসিআই (Board of Control for Cricket in India) তাঁর আইপিএল (Indian Premier League) চুক্তি বাতিল করার পর থেকেই দুই দেশের ক্রিকেট-সম্পর্কে টানাপড়েন স্পষ্ট। বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানায়, ভারতে খেলতে গেলে দলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যদিও ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সেই আশঙ্কাকে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং বিসিবির অভিযোগ, তাদের উদ্বেগ ‘যথাযথ গুরুত্ব’ পাচ্ছে না।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কূটনৈতিক উত্তেজনাও। সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে। সেই আবহে বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রীর কিছু কড়া মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে!
আইসিসির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
সব মিলিয়ে আইসিসির হাতে সময় খুব কম। টি–২০ বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি। এর আগে গ্রুপ, ভেন্যু ও সূচি নিয়ে কোনও বড় বদল মানে টুর্নামেন্ট পরিচালনায় বড় ধাক্কা। একদিকে, বাংলাদেশকে ছাড় দিলে ভবিষ্যতে অন্য দেশও একই যুক্তি দেখিয়ে দাবি তুলতে পারে। অন্যদিকে, জোর করে খেলতে বাধ্য করলে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার জোর সম্ভাবনা—যা বিশ্বকাপের জন্য অস্বস্তিকর।
এই আবহে গ্রুপ বদলের প্রস্তাব আপাতদৃষ্টিতে ‘মাঝামাঝি সমাধান’ মনে হলেও, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন লাখ টাকার সওয়াল। কারণ, একবার গ্রুপ পাল্টালে তার প্রভাব পড়বে অন্য দলগুলোর সূচিতেও। আপাতত সারসত্য হচ্ছে, বাংলাদেশ কোনওভাবেই ভারতে খেলতে রাজি নয়। আর আইসিসির সিদ্ধান্ত যত দেরি হবে, ততই বিশ্বকাপের আগে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনাবে।