বাস্তবে ভারত একটি বহুভাষিক দেশ, যেখানে কেন্দ্রীয় স্তরে হিন্দি ও ইংরেজি প্রশাসনিক ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই জায়গাতেই বাঙ্গারের মন্তব্য বিভ্রান্তিকর।

সঞ্জয় বাঙ্গার
শেষ আপডেট: 12 January 2026 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম ওয়ানডেতে (IND vs NZ, 1st ODI) মাঠের খেলার চেয়েও বেশি আলোচনা তৈরি হল কমেন্ট্রি বক্সে। সৌজন্যে ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় বাঙ্গারের (Sanjay Bangar) মন্তব্য। প্রাক্তন ক্রিকেটারের মুখে ‘রাষ্ট্রীয় ভাষা হিন্দি’ উচ্চারিত হতেই নেটদুনিয়ায় ছড়াল তীব্র বিতর্ক। ভারতের আদৌ কোনও রাষ্ট্রীয় ভাষা আছে কিনা—মর্মে উস্কে উঠল পুরনো বাদানুবাদ।
কমেন্ট্রিতে ঠিক কী বলেছিলেন বাঙ্গার?
ঘটনাটা ঘটে দ্বিতীয় ইনিংসে। যখন নিউজিল্যান্ডের তিনশো রানের টার্গেট চেজে ব্যাট করছে ভারত। ধারাভাষ্য চলাকালীন সহ-কমেন্টেটর বরুণ অ্যারন (Varun Aaron) জানান, কেএল রাহুল (KL Rahul) চাইলে ওয়াশিংটন সুন্দরের (Washington Sundar) সঙ্গে তামিলে কথা বলতে পারেন। কারণ, সুন্দর হিন্দি বুঝতে একটু অসুবিধায় পড়েন। উদাহরণও দেন—রাহুল আগেও নাকি এমনটা করেছেন।
এই প্রসঙ্গে সঞ্জয় বাঙ্গারের মন্তব্য, ‘আমি তো রাষ্ট্রীয় ভাষায় কথা বলতেই বেশি বিশ্বাসী।’যা সম্প্রচারিত হওয়ামাত্র আগুনে ঘি পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে প্রশ্ন তোলেন—‘জাতীয় ভাষা’বা ‘রাষ্ট্রীয় ভাষা’ বলতে বাঙ্গার ঠিক কোন ভাষার কথা বলছেন? হিন্দি? কিন্তু ভারতের সংবিধান কি তার অনুমোদন দিয়েছে?

‘রাষ্ট্রীয় ভাষা’র আসল বাস্তবতা
ভারতের সংবিধানে কোথাও ‘রাষ্ট্রীয় ভাষা’ বলে কোনও ভাষার উল্লেখ নেই। সংবিধানের অষ্টম তফসিলে (Eighth Schedule) মোট ২২টি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে—যার মধ্যে হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলুগু-সহ একাধিক ভাষা রয়েছে। শুরুতে ছিল ১৪টি, পরে সংশোধনের ফলে সংখ্যা বেড়েছে। এই ভাষাগুলি সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায় ঠিকই, কিন্তু তার মানে এই নয়, যে কোনও একটি ভাষা বাকিদের হটিয়ে ‘রাষ্ট্রীয়’ তকমা পেয়ে গিয়েছে। বাস্তবে ভারত একটি বহুভাষিক দেশ, যেখানে কেন্দ্রীয় স্তরে হিন্দি ও ইংরেজি প্রশাসনিক ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই জায়গাতেই বাঙ্গারের মন্তব্য বিভ্রান্তিকর। যদিও এমন ভুল শুধু তিনি নন। আকছার সাধারণ মানুষদের অনেকে করে থাকেন।
বিতর্কের আড়ালে ম্যাচের গল্প
এই বিতর্কের মধ্যে মাঠে অবশ্য নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক সেরে ফেলেছে ভারত। নিউজিল্যান্ড ৩০০-র গণ্ডি পেরোলেও ড্যারিল মিচেল (Daryl Mitchell), হেনরি নিকোলস (Henry Nicholls) ও ডেভন কনওয়ের (Devon Conway) হাফ-সেঞ্চুরির পরও ম্যাচের রাশ ধীরে ধীরে টিম ইন্ডিয়ার দিকেই ঝুঁকে পড়ে। ব্যাট হাতে বিরাট কোহলি (Virat Kohli) শতরানের কাছাকাছি পৌঁছে যান, শুভমন গিলের (Shubman Gill) অর্ধশতরান ভারতকে জয়ের পথে এগিয়ে দেয়।
তবে দিনের শেষে আলোচনার কেন্দ্রে কমেন্ট্রি বক্সের বিতর্কিত জবানি। ক্রিকেট মাঠে যেমন বহু ভাষার খেলোয়াড় একসঙ্গে খেলেন, তেমনই ভারতের বাস্তবতাও বহুভাষিক—সংবিধান এ কথা স্পষ্ট করে বলে দিলেও বাঙ্গারের মতো অনেকে সেটা জেনেবুঝে কিংবা না জেনেবুঝে করে থাকেন। বিতর্কের আড়ালে আশা একটাই—এবার অন্তত কেউ কেউ ভুলের বদলে ঠিক তথ্যটি জানতে পারলেন।