Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

Eng vs Ind: বুমরাহ বনাম আর্চার: রকেট ভার্সেস রকেট! আজ আগুন-ঝরানো দ্বৈরথের মঞ্চ লর্ডস

ছোট পায়ে খাটো রান আপে আপাতনির্বিষ বোলিং অ্যাকশন। কিন্তু বল ছাড়ার মুহূর্তে অদ্ভুত ভঙ্গি আর সুনির্দিষ্ট লাইন-লেংথে গতির মিশেল বুমরাহকে একাধারে আশ্চর্য ও শক্তিশালী বোলার করে তোলে।

Eng vs Ind: বুমরাহ বনাম আর্চার: রকেট ভার্সেস রকেট! আজ আগুন-ঝরানো দ্বৈরথের মঞ্চ লর্ডস

বুমরাহ-আর্চার

শেষ আপডেট: 10 July 2025 12:53

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “লুক আউট ফর দ্য রকেট।”

২০১৮ সালের জানুয়ারি। ভেন্যু: কেপটাউন। ভারতীয় দলের হোটেলে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কানে ফিসফিস করে কথাটা বলেছিলেন রবি শাস্ত্রী। পরদিনই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হতে চলেছে এক তরুণ পেসারের। বাইরে তখন কেউ জানতেও পারেনি, ঠিক কীসের পূর্বাভাস, কীসের সংকেত দিয়ে গেলেন শাস্ত্রী।

পরদিন, ৫ জানুয়ারি। টেস্ট ক্যাপ মাথায় মাঠে নামলেন এক তরুণ পেসার। জসপ্রীত বুমরাহ। ছোট রান আপ, ছকভাঙা বোলিং অ্যাকশন। ভারতের ২৯০তম টেস্ট ক্রিকেটার। কিন্তু সেটা তো পরিসংখ্যানের হিসেব। ২৯০ শুনতে বড়। কিন্তু ধারেভারে তিনিই যে এক নম্বর বোলার, দুনিয়াসেরা পেসার হবেন, লাল বলের ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের ঘুম ওড়াবেন… তার ইঙ্গিত আর কেউ পাক না পাক রবি শাস্ত্রী পেয়েছিলেন ঠিক। নয়তো কেন রকেটের উপমা আনবেন? যা কালক্রমে হয়ে উঠবে জসপ্রীতের অভিধা… ‘বুম বুম বুমরাহ’!

কোচ ভুল বলেননি। তার প্রমাণ প্রথম ইনিংসের চার উইকেট। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে তুলে নিলেন কেরিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট। তারপর?

তারপর শুধুই উত্থান। রকেটের বেগে দিকচক্র ভেদ করে আকাশ ফুঁড়ে চলা।

টেস্ট ক্রিকেটে ভারতীয় পেস আক্রমণের নকশা একা হাতে পাল্টে ফেলেন বুমরাহ। চওড়া রান আপ নেই, কাঁধে বাড়তি জোর?... উঁহু, সেটাও বাকিদের মতো নয়। ছোট পায়ে খাটো রান আপে আপাতনির্বিষ বোলিং অ্যাকশন। কিন্তু বল ছাড়ার মুহূর্তে অদ্ভুত ভঙ্গি আর সুনির্দিষ্ট লাইন-লেংথে গতির মিশেল বুমরাহকে একাধারে আশ্চর্য ও শক্তিশালী বোলার করে তোলে।

স্রেফ আবেগ আর চোখে দেখা অনুভব নয়। পরিসংখ্যানও পালে হাওয়া দিচ্ছে। ৪৬ টেস্ট। ২১০ উইকেট। গড় ১৯.৬০। স্ট্রাইক রেট: ৪২.৩। ১০ বার পাঁচ উইকেট। একমাত্র ভারতীয় পেসার যিনি দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া—এই তিন দেশেই পঞ্চবাণ বিদ্ধ করেছেন।

যদিও এই উত্থান আকস্মিক নয়। অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও কোচ রবি শাস্ত্রী শুরু থেকেই জানতেন, তিনি কেবল সাদা বলের বোলার নন। ২০১৮ সালে ভারতের টেস্ট সফর জুড়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। সেই কঠিন পরীক্ষার জন্য তাঁকেই তুরুপের তাস হিসেবে গড়ে তোলা হয়।

আর এরই বছর দেড়েক পর, লর্ডসে টেস্ট অভিষেক হয় আরেক ‘রকেটে’র। বার্বাডোজে জন্ম, কিন্তু পাসপোর্ট মতে, ব্রিটিশ নাগরিক… জোফ্রা আর্চার। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ জেতার ঠিক পরে, মাত্র তিন মাসের মাথায় টেস্ট টিমে জায়গা পান। ভেন্যু: ক্রিকেটের মক্কা লর্ডস।

প্রথম টেস্টে চার উইকেট নিয়ে সবার নজর আর নিশানায় এসেছিলেন বুমরাহ। আর ইংরেজ বোলার স্পটলাইটে এলেন দ্রুত গতির বাউন্সার মেরে। স্টিভ স্মিথের হেলমেটে আছড়ে পড়ল আর্চারের বিষাক্ত ডেলিভারি। অজি ব্যাটারদের প্রাণে ভয় ধরিয়ে সেই ম্যাচেই ছিনিয়ে নিলেন পাঁচ উইকেট।

পরের টেস্ট, হেডিংলিতে। দাপট ফিকে হল না। হাতে এল ছয় উইকেট।

ওভাল। প্রতাপ অক্ষুণ্ণ। আবার ছয়!

মাত্র চার টেস্টে ২২ উইকেট তুলে নিয়ে জোফ্রা আর্চার হয়ে উঠলেন ইংল্যান্ডের নতুন ত্রাতা। ঠিক বুমরাহর মতো। দলের দুই মহাতারকা। ধারাবাহিকতায় আপোষহীন। পারফরম্যান্সে তুলনারহিত। উঠল গুঞ্জন—‘যদি বুমরাহ না পারেন, আর্চার পারবে!’

কিন্তু এরপরই তালভঙ্গ। চোট। একবার নয়। বারবার। কনুইয়ে স্ট্রেস ফ্র্যাকচার। অস্ত্রোপচার। মাঠের বাইরে দিন পেরিয়ে মাস, মাস পেরিয়ে বছর। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিরুদ্ধে আহমেদাবাদে তাঁর শেষ টেস্ট। সেই ম্যাচে আর্চার ও বুমরাহ, দু’জনেই মিলে বল করেন মাত্র ১১ ওভার! তারপর তিন বছরের বিরতি। অবশেষে প্রত্যাবর্তন।

চলতি বছরের গোড়ায় নিজের মতো করে প্রস্তুতি শুরু করেন আর্চার। কাউন্টি ক্রিকেটে নামলেন সাসেক্সের হয়ে। ১৮ ওভারের স্পেলেই বুঝিয়ে দেন, তিনি তৈরি। এজবাস্টনেই সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট প্রথম একাদশে জায়গা দেয়নি। সময় নিয়েছেন। দল ব্যাকফুটে, পেস ব্যাটারি নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে… এই জটিলতাই গড়ে দিয়েছে মঞ্চ। প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ। এবং সেটাও এমন ময়দানে যেখানে আর্চারের টেস্ট অভিযাত্রার শুরুয়াত। ভেন্যু: লর্ডস। প্রতিপক্ষ: টিম ইন্ডিয়া। ভুল বললাম, আরও স্পষ্ট করে বললে (ক্রিকেট আদতে টিম গেম—এই বাঁধা বুলিকে শিরোধার্য করেও) জসপ্রীত বুমরাহ!

একজন এখন বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট বোলার। আর একজন দীর্ঘদিন পর টেস্টে ফিরছেন।

যদিও দু’জনেই ‘রকেট’। দু’জনেই সেরা স্পিডস্টার।

এই ম্যাচ কেবল দু’জনের নয়। এই লড়াই টেস্ট ক্রিকেটেরও। যেখানে গতি, আগুন, প্রতিশ্রুতি আর প্রত্যাবর্তন—একসঙ্গে হাত হাত মিলে রণাঙ্গন শাসন করবে।

বুমরাহ বনাম আর্চার। রকেট বনাম রকেট।

লর্ডসে আজ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।


```