Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশু

পেস-মন্ত্রের আড়ালে স্পিনারদের সাধনা! ইডেন-বধের আসল কারণ মেলে ধরলেন প্রোটিয়া কোচ

বার্তা স্পষ্ট—দক্ষিণ আফ্রিকা আর সেই পুরোনো দল নেই, যারা উপমহাদেশে এসে পিচ দেখে কাঁপবে। এখন তারা জানে, স্পিনই অস্ত্র।

পেস-মন্ত্রের আড়ালে স্পিনারদের সাধনা! ইডেন-বধের আসল কারণ মেলে ধরলেন প্রোটিয়া কোচ

ছবি: গুগল

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 17 November 2025 17:11

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতকে তার ঘরের মাঠে স্পিন-অস্ত্রে বধ? লিখতে সহজ, বাস্তবে প্রায় দুর্লভ। কিন্তু গতকাল রবিবাসরীয় দুপুরে ইডেন গার্ডেন্সে যা হল, তা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট–ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের শুরু বলেই মনে করছেন প্রধান কোচ শুকরি কনরাড (Shukri Conrad)। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি সোজা কথায় জানালেন—এটাই দক্ষিণ আফ্রিকার ‘স্পিন বিপ্লবে’র (spin revolution) প্রমাণ। আর এই পরিবর্তনই নাকি ভারতকে তার নিজস্ব অস্ত্রে ঘায়েল করার মূল চাবিকাঠি।

দক্ষিণ আফ্রিকা মানেই পেস বোলারদের রাজপাট। রাবাডা, স্টেইন, ডোনাল্ড, এনতিনি—এমন সব নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সবুজ উইকেটে আগুন-ঝরানো একদল সিমারের (fast bowlers) ছবি। কিন্তু কনরাড গদিতে বসেই বুঝলেন, বোঝালেন, এই ধ্যানধারণা বদলাতে হবে। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা এখন শুধু ‘ফাস্ট বোলিং কান্ট্রি’ নয়। খোলাখুলি বললেন, ‘সবসময় উপমহাদেশে এসে স্পিনের সামনে অসহায় হয়ে পড়তাম। এবার প্রথমবার মনে হল—আমরাও পারি!’

এবারের জয় ৩০ রানের, কিন্তু গুরুত্ব অনেক বড়। কারণ এই জয় ১৫ বছরের খরা ভেঙেছে। কোহলি–অশ্বিন–জাদেজাদের দেশে দাঁড়িয়ে স্পিনে ভারতকে হারানো—এটা দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। কনরাডের কথায়, এখন দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণরাও দেখবে যে জাতীয় দলে জায়গা শুধু পেসারদের জন্যই নয়—স্পিনারদেরও সমান রাস্তা খোলা।

স্পিন–বিপ্লবের শিকড় খুঁজতে গেলে যেতে হবে পাকিস্তান সফরে (Pakistan tour)। সেখানেই প্রথম তিন স্পিনারের সংমিশ্রণ আনল প্রোটিয়ারা। সেনুরান মুথুসামির ১১ উইকেট, সাইমন হার্নারের (Simon Harmer) দাপট—সব মিলিয়ে পরিষ্কার হয়ে গেল: দক্ষিণ আফ্রিকা চাইলে স্পিনে ভরসা করেই ম্যাচ জেতাতে পারে।

ইডেনে সেটা আরও স্পষ্ট হল। হার্নার বল হাতে ৮ উইকেট নিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত যখন ১২৪ তাড়া করতে নামল, ভারতীয় ব্যাটারদের অস্থিরতা আর হার্নারের ধৈর্য—দুটো মিলে একেবারে দিশেহারা অবস্থা তৈরি হল। কনরাড বলছেন, ‘হার্নার কয়েক মাস আগে ফোন করে বলেছিল সে মরিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলতে। আমি বলেছিলাম—আমার দরকার ওর মতো লোক।’

কিন্তু শুধু স্পিন নয়, তেম্বা বাভুমার (Temba Bavuma) কথা উঠতেই কনরাড দাঁত বের করে হাসলেন। আঘাত সারিয়ে ফেরার পর অধিনায়কের ৫৫* তো ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে। কনরাডের মন্তব্য, ‘আমাদের সেরা খেলোয়াড় ফিরে এসেছে—এটাই দলকে শান্ত করেছে!’ কাঁপতে থাকা পিচে সবাই যেখানে ভুগল, সেখানে বাভুমা নিজের পদ্ধতি বদল না করে ধৈর্য আর বিচারবুদ্ধিতে ম্যাচ টেনে নিয়ে গেলেন। কোচের মতে—‘ওর এই ব্যাটিংটাই দুই দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান!’

ফলে বার্তা স্পষ্ট—দক্ষিণ আফ্রিকা আর সেই পুরোনো দল নেই, যারা উপমহাদেশে এসে পিচ দেখে কাঁপবে। এখন তারা জানে, স্পিনই অস্ত্র। পেসের আড়ালে বহু বছর ধরে যে সাধনা চলেছে, তারই ফল ইডেন-বিজয়! কনরাডের কথাই আপাতত সবটুকু বলে দিচ্ছে—‘পাকিস্তানে জিতেছি, এখন ভারতে জিতলাম। কিন্তু কাজ শেষ নয়। সিরিজ জেতাই আসল!’ অর্থাৎ, প্রোটিয়ারা বুঝিয়ে দিল, ইডেন শুধু শুরু। মূল লড়াই গুয়াহাটিতে—আর সেখানে স্পিনই তাদের তুরুপের তাস।


```