বোর্ডের চোখে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জরুরি আত্মসমালোচনা। পাকিস্তানের কাছে এমন হারের পর বিসিসিআইয়ের কড়া মনোভাব স্পষ্ট করে দিচ্ছে—নাম, আইপিএল-পরিচিতি বা অপরাজেয় যাত্রা—কোনওকিছুই ঢাল হতে পারে না।

ফাইনালে ব্যর্থ বৈভব
শেষ আপডেট: 23 December 2025 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপের যাত্রাটা প্রায় নিখুঁতই ছিল। গ্রুপ পর্ব থেকে সেমিফাইনাল—একটাও ম্যাচ না হেরে ফাইনালে পৌঁছেছিল ভারত। দলে একাধিক আইপিএল–খেলা ক্রিকেটার। বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi), আয়ুষ মাত্রেদের (Ayush Mhatre) ঘিরে প্রত্যাশার পাহাড়। কিন্তু শেষ রাতে, দুবাইয়ে, সব ভেঙে চুরমার। পাকিস্তানের কাছে ১৯১ রানে হারের পর শুধু ট্রফিই নয়, ভারতীয় শিবির খুইয়েছে আত্মবিশ্বাস। কিন্তু এহেন মর্মান্তিক পরাজয়ের জ্বালা এমনি এমনি উবে যাক—চাইছে না বিসিসিআই (BCCI)।
যে কারণে বোর্ড শুধু রুটিন রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয়। সূত্রের খবর, ফাইনাল হারের পর অনূর্ধ্ব–১৯ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ‘বিয়ন্ড ইউজুয়াল’রিভিউ প্রক্রিয়ায় যেতে চলেছে বিসিসিআই।
ফাইনালের ধাক্কা: কোথায় ভাঙল ভারত?
পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে তোলে ৩৪৭/৮। ওপেনার সমীর মিনহাসের (Sameer Minhas) ১১৩ বলে ১৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস ম্যাচ কার্যত একপেশে করে দেয়। জবাবে ভারতীয় দল শুরু থেকেই চাপে। পাকিস্তানের পেস ত্রয়ী—আলি রাজা (Ali Raza), মহম্মদ সাইয়াম (Mohammad Sayyam) ও আবদুল সুভান (Abdul Subhan)—হার্ড লেংথে একের পর এক ধাক্কা দেন।
২৬.২ ওভারেই গুটিয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া, মাত্র ১৫৬ রানে। টুর্নামেন্টের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে ১৭১ করা বৈভব সূর্যবংশী ফাইনালে ২৬। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএল খেলা আয়ুষ মাত্রে ফেরেন মাত্র ২ রানে। বড় ম্যাচে টপ অর্ডারের এই ব্যর্থতাই বিসিসিআইয়ের মাথাব্যথার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন কড়া হচ্ছে বিসিসিআই?
সাধারণত, যে কোনও টুর্নামেন্ট শেষে দলের ম্যানেজার একটি রিপোর্ট জমা দেন বোর্ডের কাছে। কিন্তু এক্ষেত্রে তাতে সন্তুষ্ট নয় বিসিসিআই। ক্রিকবাজের (Cricbuzz) রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় হওয়া অনলাইন অ্যাপেক্স কাউন্সিল বৈঠকে (Apex Council Meeting) সিদ্ধান্ত, টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে সামগ্রিক বিপর্যয়ের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
এই রিভিউতে শুধু কাগুজে রিপোর্ট নয়, সরাসরি আলোচনায় বসতে পারেন অনূর্ধ্ব–১৯ দলের হেড কোচ হৃষিকেশ কানিতকর (Hrishikesh Kanitkar) এবং অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে। বোর্ডের একাংশের মতে, এত বড় ব্যবধানে ফাইনাল হার শুধু ‘একটি খারাপ দিন’ বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
ফাইনালে উত্তপ্ত মুহূর্তও নজর কেড়েছে। ম্যাচ চলাকালীন আয়ুষ মাত্রে ও বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বাদানুবাদ হয়। খেলোয়াড়দের আচরণও রিভিউয়ের আওতায় আসবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সামনে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ, তাই বাড়তি সতর্কতা
এই ভারতীয় দলটাই আগামী জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে হতে চলা অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের (U-19 World Cup) জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই কারণেই বোর্ড কোনও ঢিলেমি রাখতে চাইছে না। ফাইনাল হারের পর অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে স্বীকার করেছেন, বোলিংয়ে লাইন–লেংথে সমস্যা ছিল। তাঁর কথায়, ‘আমরা ৫০ ওভার খেলার পরিকল্পনাই করেছিলাম। টুর্নামেন্টটা আমাদের জন্য ভাল অভিজ্ঞতা।’
কিন্তু বোর্ডের চোখে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জরুরি আত্মসমালোচনা। পাকিস্তানের কাছে এমন হারের পর বিসিসিআইয়ের কড়া মনোভাব স্পষ্ট করে দিচ্ছে—নাম, আইপিএল-পরিচিতি বা অপরাজেয় যাত্রা—কোনওকিছুই ঢাল হতে পারে না। ফল না এলে প্রশ্ন উঠবেই। আর সেই প্রশ্নের উত্তর এবার মাঠের বাইরেও দিতে হবে ভারতের অনূর্ধ্ব–১৯ দলকে।