এই সহায়তা কাঠামো কার্যকর হলে দৃষ্টিহীন ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব বাড়বে। আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি ও সুযোগ জুটবে নিয়মিত। বার্তাটা স্পষ্ট—ক্রিকেট সবার জন্য। শুধু চোখে দেখা নয়, প্রতিভা আর সংকল্পই শেষ কথা।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 22 February 2026 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রিকেটের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল বিসিসিআই (BCCI)। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ব্লাইন্ড ইন ইন্ডিয়া-র (Cricket Association for the Blind in India বা CABI) জন্য গঠনমূলক সাহায্যের কাঠামো ঘোষণা করল বোর্ড। লক্ষ্য—দৃষ্টিহীন ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও সুযোগ পাওয়া, পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও পেশাদার পরিবেশে খেলবার সুবিধা বাড়ানো। এই সিদ্ধান্তের আওতায় পুরুষ ও মহিলা—দুই জাতীয় দলই সুবিধা পাবে। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ, স্থায়ী বাসস্থান থেকে শুরু করে বিসিসিআই-স্বীকৃত স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ—সব দিকেই সরাসরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বোর্ড।
মিলবে কোন ধরনের সুবিধা?
ঘোষণা অনুযায়ী, বছরে অন্তত দু’টি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য বিদেশ সফরের খরচ বহন করবে বিসিসিআই। এছাড়া ভারতে আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হোম ও ভিজিটিং দলের আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মিলবে বিসিসিআই-অনুমোদিত স্টেডিয়াম ও গ্রাউন্ডে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগও। ফলে পেশাদার পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা বাড়বে। ম্যাচ আয়োজন থেকে লজিস্টিক সাপোর্ট—সংগঠিত কাঠামোয় রয়েছে সবই।
বোর্ডের সভাপতি মিঠুন মানহাস (Mithun Manhas) বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন আমাদের দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু। এই সহায়তা দৃষ্টিহীন ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, আরও অনেকে খেলায় আগ্রহী হবে।’ সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়ার (Devajit Saikia) মতে, ‘ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক—দুই স্তরেই প্রতিযোগিতার মান বাড়াতে পরিকাঠামোগত সহায়তা জরুরি। এই উদ্যোগ সেই দিকেই বড় পদক্ষেপ!’
জয়ের ধারায় দৃষ্টিহীন দল
ভারতের পুরুষ দৃষ্টিহীন দল ইতিমধ্যে বিশ্বমঞ্চে দাপট দেখিয়েছে। জিতে নিয়েছে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ওডিআই ব্লাইন্ড বিশ্বকাপ। ২০১২, ২০১৭ ও ২০২২ সালে টি-২০ ব্লাইন্ড বিশ্বকাপেও শিরোপা দলের ঝুলিতে।
পাশাপাশি মহিলা টিম ২০২৫ সালে প্রথম উইমেন্স টি-২০ ব্লাইন্ড বিশ্বকাপ হাতে তুলে ইতিহাস গড়েছে। নেপালকে হারিয়ে শিরোপা ছিনিয়ে ভারত প্রমাণ করেছে—অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রিকেটে তারা পথপ্রদর্শক।
অন্তর্ভুক্তির দীর্ঘমেয়াদি বার্তা
বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই দেখছেন বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে। বোর্ডের প্রাক্তন সেক্রেটারি ও বর্তমান আইসিসি (International Cricket Council বা ICC) নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মুখ জয় শাহের (Jay Shah) সময় থেকেই অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিতে জোর দেওয়া হয়েছে। এই সহায়তা কাঠামো কার্যকর হলে দৃষ্টিহীন ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব বাড়বে। আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি ও সুযোগ জুটবে নিয়মিত। বার্তাটা স্পষ্ট—ক্রিকেট সবার জন্য। শুধু চোখে দেখা নয়, প্রতিভা আর সংকল্পই শেষ কথা।