বাংলাদেশের অনুপস্থিতি, পাকিস্তানের বয়কট, আইসিসির অনড় অবস্থান—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের পরিবেশ আদৌ ‘শুধু ক্রিকেটে’ আবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে বাড়ছে সংশয়।

সলমন আলি আঘা
শেষ আপডেট: 5 February 2026 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি–২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) আগে নতুন করে রাজনৈতিক ছায়া পড়ল ক্রিকেটের মঞ্চে। কলম্বোয় অধিনায়ক দিবসের সাংবাদিক বৈঠকে বাংলাদেশ–আইসিসি (ICC) বিতর্ক ফের উসকে দিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আলি আঘা (Salman Ali Agha)। বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল—ক্রিকেটের মাঠে রাজনীতি আদৌ এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে কি?
বাংলাদেশের বাদ পড়া ও আইসিসির অবস্থান
আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের (Bangladesh) অংশগ্রহণ নিয়ে নাটক শুরু হয় নিরাপত্তা প্রশ্নে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে ভারতে যেতে অস্বীকার করে বিসিবি (Bangladesh Cricket Board)। তাদের দাবি ছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে সূচি বদলানো হোক। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (International Cricket Council) স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, টুর্নামেন্টের সূচিতে কোনও পরিবর্তন হবে না। সেই অবস্থানে শেষ পর্যন্ত অটল থাকে আইসিসি। যে কারণে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে বাংলাদেশ।
এই সিদ্ধান্তের পরেই নতুন মোড়। বাংলাদেশ না খেললেও পাকিস্তান (Pakistan) অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, জুড়ে দেয় শর্ত—ভারতের (India) বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচ তারা বয়কট করবে। যা হওয়ার কথা ১৫ ফেব্রুয়ারি।
আঘার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক
কলম্বোয় সাংবাদিক বৈঠকে আলোচ্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আঘা বলে দেন, ‘বাংলাদেশিরা আমাদের ভাই। পাকিস্তানের প্রতি তাদের সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ওরা এই টুর্নামেন্টে নেই—এটা সত্যিই দুঃখজনক।’তাঁর এই মন্তব্য মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়া ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় তুলেছে। একদিকে যেখানে আইসিসি বারবার আর্জি জানাচ্ছে ক্রিকেটকে রাজনীতির বাইরে রাখার, সেখানে পাক দলনেতার এই বক্তব্য অনেকের কাছে ‘স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা’ বলে মনে হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের আগে এহেন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত, ঢাকার প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের এই অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ। সে দেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল (Asif Nazrul) সামাজিক মাধ্যমে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে (Shehbaz Sharif)। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ পাকিস্তান!’ বক্তব্যে স্পষ্ট—মুস্তাফিজুরদের বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।
আসিফ নজরুল আরও উদ্ধৃত করেন পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেওয়া শরিফের বক্তব্য। যেখানে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদেই ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত। খেলাধুলোর ময়দানে রাজনীতি থাকা উচিত নয়। এই সিদ্ধান্ত খুব ভেবেচিন্তেই নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য।’
ক্রিকেটের মাঠে রাজনীতির ছায়া
এই মুহূর্তে বিশ্বকাপ শুরুর আগে বড় প্রশ্ন—এই পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্ট কতটা নির্বিঘ্নে এগোবে? বাংলাদেশের অনুপস্থিতি, পাকিস্তানের বয়কট, আইসিসির অনড় অবস্থান—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের পরিবেশ আদৌ ‘শুধু ক্রিকেটে’ আবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে বাড়ছে সংশয়।