লক্ষ্য ছিল মাত্র ২০৫। কিন্তু সেই একই ২২ গজে প্রথম ১১৩ ওভারে ব্যাটারদের হাঁসফাঁস দশা দেখার পরও স্টিভ স্মিথরা সিদ্ধান্ত নিলেন, পাল্টা আক্রমণ করতে হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 November 2025 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পারথ টেস্টে যেন রূপকথা! কঠিন বাউন্স, দাগ কাটা সবুজ পিচ - যেখানে দুই দল মিলিয়ে ৩০টি উইকেট পড়ে গেল দু’দিনও না পেরোতেই, সেই জায়গাটাকেই ব্যাট হাতে সব হিসেব উল্টে দিলেন ট্রেভিস হেড। দক্ষিণ আফ্রিকার বাভুমার ইডেন কীর্তির মতোই পারথে অস্ট্রেলিয়ার মুখরক্ষা করলেন তিনি।
৮৩ বলে বিস্ফোরক ১২৩ রানের ইনিংস খেলে হেড অস্ট্রেলিয়াকে এনে দিলেন অনায়াস জয়। দ্বিতীয় দিনের চা বিরতির আগেই ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে অ্যাশেজ সিরিজে ১-০ লিড নিল তাঁরা।
লক্ষ্য ছিল মাত্র ২০৫। কিন্তু সেই একই ২২ গজে প্রথম ১১৩ ওভারে ব্যাটারদের হাঁসফাঁস দশা দেখার পরও স্টিভ স্মিথরা সিদ্ধান্ত নিলেন, পাল্টা আক্রমণ করতে হবে। ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’ দর্শনের ধারেই পাল্টা বাজি খেল অস্ট্রেলিয়া। আগ্রাসনেই চাপ তৈরি করা। পরিকল্পনা ফলও দিল। ২৮.২ ওভারের মধ্যেই লক্ষ্য টপকে ম্যাচ পকেটে পুরে ফেলল অজিরা।
হেডের ইনিংস ছিল নিখাদ টি-টোয়েন্টির ঝড়। ৬৯ বলে শতরান, মোট ১৬টি বাউন্ডারি ও ৪টি ছক্কা - একাই ম্যাচটাকে একপেশে করে দিলেন তিনি। অন্য প্রান্তে মার্নাস লাবুশেন ৪৯ বলে অবিচ্ছিন্ন ৫১ রানে সঙ্গ দিলেন। স্মিথও থেকে গেলেন ২ রানে অপরাজিত। ইংল্যান্ডের হয়ে দু’টি উইকেট নিলেন ব্রাইডন কার্স।
এর আগে ব্যাটে-বলে দাপট ছিল প্রায় একতরফা। প্রথম দিনে পড়েছিল ১৯টি উইকেট। দ্বিতীয় দিন ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে নামতেই আবার ধস। ওপেনার জ্যাক ক্রলি দু’বারই শূন্য। কিছুটা লড়াই করেছিলেন বেন ডাকেট (২৮) ও অলি পোপ (৩৩)। সবচেয়ে বেশি রান আসে গাস অ্যাটকিনসনের ব্যাট থেকে, ৩৭। কার্সের সঙ্গে তাঁর ৫০ রানের জুটি না হলে অবস্থা আরও করুণ হতে পারত। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড থামে ১৯৯ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল স্কট বোল্যান্ড—৩৩ রানে ৪ উইকেট। মিচেল স্টার্ক নেন দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট, ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে মোট ১০ শিকার। ব্রেনডন ডগেটেরও ৩টি উইকেট।
ইডেনে আড়াই দিনে ম্যাচ শেষ হওয়ার স্মৃতি এখনও টাটকা। পার্থে সেই সময়ও আরও কম লাগল - দু’দিনেই নিষ্পত্তি। আর শেষ দৃশ্যে ভেসে থাকল একটাই নাম - ট্রেভিস হেড। তাঁর ব্যাটিং-ঝড়েই ইংল্যান্ডের ১১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জয়ের আশা উড়ে গেল।