আজ ভারতের ১৩৬ ‘ফাইনাল স্কোর’ নয়। বরং, ডিএলএস–এর সমতুল্য স্কোরে সেটি নেমে এসেছে ১৩১। ন্যায়–অন্যায় নিয়ে বিতর্ক চলবেই, কিন্তু বই–বিধি মেনেই কাটছাঁটটা হয়েছে।
.jpeg.webp)
অস্ট্রেলিয়া বনাম ভারত
শেষ আপডেট: 19 October 2025 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাথায় হাত! ২৬ ওভারে ১৩৬ তুলল ভারত (India)। অথচ অস্ট্রেলিয়ার (Australia) সামনে লক্ষ্য দাঁড়াল ১৩১। কিন্তু কী কারণে? রহস্য কোথায়? উত্তরটা এক লাইনে—ডাকওর্থ–লুইস–স্টার্ন (Duckworth–Lewis–Stern Method) পদ্ধতি। ‘মনমতো কাটছাঁট’ নয়; দু’দলের সমান ‘রিসোর্স’, মানে ওভার (Overs) ও উইকেট (Wickets)—নিশ্চিত করতে এই গাণিতিক সমন্বয়।
সহজ করে বলা যাক। ক্রিকেটে রান আসে এই দুই রিসোর্স খরচ করে। বৃষ্টি (Rain) এলে দু’দলের রিসোর্স সমান থাকে না। তখন ডিএলএস হিসেব করে, যত ওভার–উইকেট হাতে ছিল, তার তুলনায় কত রান ‘ন্যায্য’? তার একটা সমতুল্য স্কোর দাঁড় করানো হয়।
তাহলে আজকে ১৩৬ কেন হল? আসলে ভারত শুরুতে ৫০ ওভার ধরে এগোচ্ছিল। তাই পাওয়ারপ্লেতে (Powerplay) টিম ইন্ডিয়া রক্ষণশীল খেলে, উইকেট বাঁচাতে চায়—ধরে নেয় পরে অনেক ওভার আছে। কিন্তু বৃষ্টি–বিরতিতে ম্যাচ কমে আসে ২৬ ওভারে। তখন ডিএলএস ভারতের শেষ স্কোরটাকে ধরে সমন্বয় করে এভাবে—‘যদি শুরু থেকেই ২৬ ওভার জানতেন শুভমানরা, তাহলে স্কোর কত হত?’ অর্থাৎ তাকেই সমতুল্য ইনিংস (Equivalent Innings) হিসাবে কনভার্ট করা হয়।
টিম ইন্ডিয়ার ইনিংসের শুরুয়াত শ্লথ হওয়ায়—আসল ২৬–ওভারের ম্যাচে যতটা আক্রমণের ঝাঁঝ থাকতে পারত, ততটা ছিল না। মডেল বলল, এই ১৩৬ একটি আদর্শ ২৬–ওভারের ইনিংসের তুলনায় একটু নিচু মানের। তাই ৫ রান কেটে ১৩১ করা, যাতে দুই দলের রিসোর্স–পরিস্থিতি সমান ধরা যায়।
একটা পকেট–ক্যালকুলেটর উদাহরণ: ধরুন, ৫০ ওভারে রিসোর্স = ১০০ ইউনিট। ২৬ ওভারে (১০ উইকেট হাতে) রিসোর্স ৬৫–৬৭ ইউনিটের মতো। ভারত ২৬ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ তুলেছে। ডিএলএস দেখে বলল, যদি দলটা শুরু থেকেই জানত, যে ২৬ ওভার পাবে, তাহলে আক্রমণ বাড়ত, স্কোরের সমতুল্য মান পড়ত প্রায় ১৩১। তাই টার্গেট (Target) এটাই।
তবে মনে রাখা দরকার—ডিএলএস কখনও বোলারের ওভার বণ্টন দেখে না; শুধু ওভার ও উইকেটকে ধরে। ফলে অস্ট্রেলিয়া স্টার্ক (Mitchell Starc) ও হ্যাজেলউডকে (Josh Hazlewood) আগেভাগে করিয়ে নেওয়ার যে কৌশল নিল, তা হিসেবের মধ্যে পড়ে না। এই কারণেই অনেকের চোখে নিয়মটা বেমানান লাগছে। দল–১ প্রথমে ৫০–ওভারের ছক নিয়ে শুরু করে, পরে ওভার কমে যায়। কিন্তু ডিএলএস ধরে নেয়, তারা শুরু থেকেই যদি জানত ২৬ ওভারই পাবে, তবে খেলত কীভাবে? অর্থাৎ, চেষ্টা চলে সমান জমিতে প্রতিযোগিতা (Equal Competition Base) দাঁড় করানোর। উল্টো দিকও হতে পারে—যদি প্রথম ইনিংসে দারুণ টেম্পো থাকে, ডিএলএস টার্গেট বাড়িয়ে দেয়।
এত কথার মর্ম একটাই—আজ ভারতের ১৩৬ ‘ফাইনাল স্কোর’ নয়। বরং, ডিএলএস–এর সমতুল্য স্কোরে সেটি নেমে এসেছে ১৩১। ন্যায়–অন্যায় নিয়ে বিতর্ক চলবেই, কিন্তু বই–বিধি মেনেই কাটছাঁটটা হয়েছে।