পিএসএল আর পুরনো পথে হাঁটতে রাজি নয়। আইপিএলের ফর্মুলা ধার করে হলেও নিজেদের বাজার, প্রতিযোগিতা আর গ্ল্যামার নতুনভাবে সাজাতে চাইছে পাকিস্তান সুপার লিগ।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 19 January 2026 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিনের চেনা কাঠামোয় ইতি টানল পাকিস্তান সুপার লিগ। ড্রাফট নয়, এবার খেলোয়াড় বাছাই হবে সরাসরি নিলামে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan Cricket Board) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, ২০২৬ মরশুম থেকে পাকিস্তান সুপার লিগ (Pakistan Super League) আইপিএলের ধাঁচে অকশন বা নিলাম পদ্ধতিতে ঢুকছে। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করার পর এই প্রথম এত বড় কাঠামোগত বদলের পথে হাঁটল পিএসএল।
এই সিদ্ধান্ত শুধু খেলোয়াড় বাছাইয়ের নিয়ম বদলাচ্ছে না। বরং, লিগের চরিত্র, ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষমতা এবং ক্রিকেটারদের বাজারমূল্য—সবকিছুতেই বড় প্রভাব পড়তে চলেছে।
কেন ড্রাফট ছেঁটে নিলামের পথে পিএসএল?
এতদিন পিএসএলে খেলোয়াড় বাছাই হত ড্রাফট পদ্ধতিতে। অনেকটা এনএফএল (NFL), এনবিএ (NBA) বা এমএলবি-র (MLB) মতো লটারিভিত্তিক সিস্টেমে। বোর্ডের যুক্তি—এতে ভারসাম্য থাকে, ধনী ফ্র্যাঞ্চাইজি সব তারকা তুলে নিতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে সেই মডেল নিয়ে ক্রমেই অসন্তোষ বেড়ে চলেছিল।
পিসিবি-র (PCB) দাবি, নিলাম পদ্ধতি লাগু করলে স্বচ্ছতা বাড়বে, দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও সমান হবে এবং খেলোয়াড়রা নিজের পারফরম্যান্স অনুযায়ী বাজারদর পাবেন। আইপিএলের (Indian Premier League) সাফল্যই এই পরিবর্তনের মূল অনুপ্রেরণা।
সংস্কারের অংশ হিসেবে খেলোয়াড় কেনার জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মোট বাজেটও বাড়ানো হয়েছে। আগের ১৩ লক্ষ মার্কিন ডলার থেকে নিলামের পার্স বেড়ে হয়েছে ১৬ লক্ষ ডলার। বোর্ডের মতে, এতে বিদেশি ও ঘরোয়া দুই ধরনের ক্রিকেটারই বেশি আর্থিক সুবিধা পাবেন।
কী কী বদলাচ্ছে নিয়মে?
নতুন কাঠামোয় সবচেয়ে বড় বদল—রিটেনশন নীতি। আগে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ আটজন খেলোয়াড় রেখে দিতে পারত। তার সঙ্গে থাকত মেন্টর, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর এবং ‘রাইট টু ম্যাচ’ (RTM) অপশন। সব মিলিয়ে পুরনো দল ধরে রাখার সুযোগ ছিল অনেক বেশি।
নতুন নিয়মে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ চারজন খেলোয়াড় রাখতে পারবে, তাও আবার প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে মাত্র একজন করে। মেন্টর, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর এবং আরটিএম—সব বাতিল।
পিসিবি-র সিইও সালমান নাসির (Salman Naseer) স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই বদলের লক্ষ্য লিগের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য। তাঁর কথায়, ‘নিলাম পদ্ধতি স্বচ্ছতা বাড়াবে, প্রতিযোগিতার ভারসাম্য ফেরাবে এবং খেলোয়াড়দের উপার্জনের সুযোগও মিলবে!’
পাশাপাশি নবনিযুক্ত দুই দল—হায়দরাবাদ (Hyderabad) ও শিয়ালকোট (Sialkot)—নিলামের আগে খেলোয়াড় তালিকা থেকে চারজন করে ক্রিকেটার তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবে। এতে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো একেবারে শূন্য হাতে নামবে না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন—প্রতিটি দল একজন বিদেশি ক্রিকেটার, যিনি আগের পিএসএল সংস্করণে খেলেননি, তাঁকে সরাসরি সই করাতে পারবে। অর্থাৎ, নতুন মুখ আনার রাস্তা খোলা থাকছে।
ভবিষ্যৎ কতটা বদলাবে?
এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে পিএসএলকে আরও ‘আইপিএল-ঘেঁষা’করে তুলছে। নিলাম মানেই বড় দর হাঁকা, কৌশলী বিড, শেষ মুহূর্তের নাটক—সব মিলিয়ে দর্শক আকর্ষণ বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের কাছেও পিএসএল হয়ে উঠতে পারে আরও লোভনীয়।
তবে ঝুঁকিও আছে। নিলাম মানে ধনী ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রভাব বাড়া, ভুল বিডে দল গঠনের সমস্যা, এবং স্থানীয় ক্রিকেটারদের উপর অতিরিক্ত চাপ। পিসিবি এই ভারসাম্য কতটা রাখতে পারে? সেটাই বড় প্রশ্ন। ২০২৬ সালের মার্চ ২৬ থেকে শুরু হতে চলা পিএসএলের একাদশ সংস্করণে এই নতুন অধ্যায় শুরু। নতুন ভেন্যু হিসেবে ফয়সালাবাদ (Faisalabad) যুক্ত হওয়ায় লিগের ভৌগোলিক বিস্তারও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট—পিএসএল আর পুরনো পথে হাঁটতে রাজি নয়। আইপিএলের ফর্মুলা ধার করে হলেও নিজেদের বাজার, প্রতিযোগিতা আর গ্ল্যামার নতুনভাবে সাজাতে চাইছে পাকিস্তান সুপার লিগ। এই ঝুঁকি শেষমেশ সাফল্যে বদলাবে কি না, তার উত্তর মিলবে নিলামের হাতুড়ির শব্দে।