আইপিএল ২০২৬ নিলামে নজর কাড়লেন আনক্যাপড ভারতীয় ক্রিকেটাররা, একের পর এক দল খরচ করল মোটা টাকা। কেন অভিজ্ঞতার চেয়েও ফর্ম ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি?

শেষ আপডেট: 19 December 2025 08:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় আইপিএল নিলাম মানেই বিদেশি তারকাদের জন্য হুড়োহুড়ি। মিনি নিলামে তো আরও বেশি করে সেই ছবি দেখা যেত। বড় নাম, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা—এই ছিল দলের প্রথম পছন্দ। কিন্তু আবু ধাবিতে বসা আইপিএল ২০২৬ নিলাম (IPL 2026 Auction) সেই পুরনো ছবিটাই ভেঙে দিল। ক্যামেরন গ্রিনের (Cameron Green) রেকর্ড দর যেমন শিরোনাম কুড়িয়েছে, তেমনই নিলামের ভিতরে ভিতরে সবচেয়ে বড় বদলটা এসেছে আনক্যাপড ভারতীয় ক্রিকেটারদের ঘিরে।
বিদেশি তারকা থেকে দেশি বাজি—বদলে যাওয়া নিলামের চরিত্র
এবারের নিলামে মোট বিক্রি হওয়া ৭৯ জন ক্রিকেটারের মধ্যে ৩৯ জনই আনক্যাপড ভারতীয়। এই সংখ্যাটা নিজেই বলে দিচ্ছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি-দৃষ্টিভঙ্গি কতটা পাল্টেছে। আগে যেখানে দলগুলো নিশ্চিত নামের উপর ভরসা রাখত, এখন সেখানে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগই মূল লক্ষ্য। তরুণ, ক্ষুধার্ত, আর তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ-এই তিন সমীকরণেই বাজি ধরল সবাই।
চেন্নাই সুপার কিংসের (Chennai Super Kings) সিদ্ধান্ত এই বদলের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। প্রাশান্ত বীর (Prashant Veer) ও কার্তিক শর্মাকে (Kartik Sharma) নিতে ১৪ কোটি ২০ লক্ষ টাকা করে খরচ করেছে তারা। সহজ কোনও ডিল নয়—একাধিক দলের সঙ্গে দরযুদ্ধ করেই এই দুই আনক্যাপড ক্রিকেটারকে দলে এনেছে সিএসকে।
ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগই এখন আইপিএলের পাঠশালা
এই বদলের নেপথ্যে ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের বিস্তার। একসময় তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগ বা মহারাষ্ট্র প্রিমিয়ার লিগের মতো কয়েকটি টুর্নামেন্টেই নজর থাকত। এখন দিল্লি প্রিমিয়ার লিগ, কেরালা প্রিমিয়ার লিগ, মধ্যপ্রদেশ লিগ, ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগ—একের পর এক মঞ্চ তৈরি হয়েছে।
এই লিগগুলোই কার্যত আইপিএলের নিজস্ব অ্যাকাডেমি হয়ে উঠেছে। প্রিয়াংশ আর্য, দিগ্বেশ রাঠি, তেজস্বী সিং দাহিয়ার মতো নামগুলো মূলত এই লিগ থেকেই উঠে এসেছে। কেকেআর (Kolkata Knight Riders) বিদেশি উইকেটকিপার না খুঁজে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের তেজস্বী দাহিয়ার উপর ভরসা রেখেছে। একই সঙ্গে সার্থক রঞ্জনকেও দলে নিয়েছে, যিনি ওই লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
সংখ্যাই বলছে কেন এত দাম
প্রাশান্ত বীরের পরিসংখ্যানই ধরুন। ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগে নয়ডা সুপার কিংসের হয়ে আট ম্যাচে ৩২০ রান, গড় ৬৪। সঙ্গে আটটি উইকেট, ইকোনমি ৬.৬৯। ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই অবদান রাখার ক্ষমতা এমন ক্রিকেটারদের দাম বাড়বেই।
কার্তিক শর্মাও পিছিয়ে নন। শের-এ-পাঞ্জাব লিগে ১০ ইনিংসে ৪৫৭ রান, স্ট্রাইক রেট ১৬৮-এর বেশি। এই পারফরম্যান্সগুলো হঠাৎ নয়—স্কাউটদের দীর্ঘদিনের নোটবুকেই ছিল এই নামগুলো।
কৌশলগত বদল আর ভবিষ্যতের ভারত
এই প্রবণতার আরেক দিক হল জাতীয় দলের প্রয়োজন। বাঁ-হাতি পেসার, অলরাউন্ডার, ফিনিশার—কিছু নির্দিষ্ট প্রোফাইলের খেলোয়াড় খুঁজছে ভারতীয় ক্রিকেট। মঙ্গেশ যাদবের মতো বাঁ-হাতি পেস অলরাউন্ডারদের উপর তাই বাড়তি নজর। ঘরোয়া লিগগুলোই এখন সেই শূন্যস্থান পূরণের পরীক্ষাগার।
প্রাক্তন ক্রিকেটার প্রিয়াঙ্ক পাঞ্চালের কথায়, ‘এখন স্টেট লিগগুলিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্কাউটরা সব সময় মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এখান থেকেই ভবিষ্যতের ভারতীয় ক্রিকেটার উঠে আসবে।’
সব মিলিয়ে আইপিএল ২০২৬ নিলাম বুঝিয়ে দিল—চমক আর বিস্ময়ের জায়গাটা আর নেই। আনক্যাপড ভারতীয় ক্রিকেটাররা এখন আর অচেনা নন। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চোখে তাঁরা ভবিষ্যতের সম্পদ। তাই নিলামের মঞ্চে তাঁদের জন্য হটকেকের মতো দর ওঠাই এখন নতুন স্বাভাবিক।