পাকিস্তান ব্যাট করতে নেমে খুব একটা চাপে পড়েনি। ভারতের বোলিং কিছুটা চেষ্টা করলেও তার ধার ছিল না। মাত্র দুই উইকেট হারিয়েই পাকিস্তান টার্গেট ছুঁয়ে ফেলে। ফলে ম্যাচটি একতরফা হয়ে যায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 November 2025 01:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ (India-Pakistan) মানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বড়দের এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে মহিলাদের বিশ্বকাপ- দুই দেশের ক্রিকেটারদের ‘নো হ্যান্ডশেক’ (No Handshake) নীতি বারবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এবার সেই একই দৃশ্য দেখা গেল যুব এশিয়া কাপেও। ম্যাচ শুরুর আগের মতোই শেষেও করমর্দন এড়িয়ে গেলেন ভারত ‘এ’ দলের অধিনায়ক জিতেশ শর্মা (Jitesh Sharma)। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার ছায়া এবারও ঢেকে দিল মাঠের সম্পর্ককে।
রবিবার ‘এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার ২০২৫’-এ (Asia Cup Rising Stars 2025) মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান (India-Pakistan Match)। টসে জিতে পাকিস্তান ‘এ’ দলের অধিনায়ক ইরফান খান নিয়াজি ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান। শুরুটা ভালই করেছিল ভারত। কিন্তু এরপর হঠাৎ ছন্দপতন। বৈভব সূর্যবংশীর ৪৫ রান ও নমন ধীরের ঝুলিতে ৩৫ রান, এছাড়া আর কেউই পিচে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। ফলে ভারত বড় রান গড়তে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রানের লক্ষ্যই ছুড়ে দিতে পারে ভারতীয় দল।
পাকিস্তান ব্যাট করতে নেমে খুব একটা চাপে পড়েনি। ভারতের বোলিং কিছুটা চেষ্টা করলেও তার ধার ছিল না। ফলে ম্যাচটি একতরফা হয়ে যায়। মাত্র দুই উইকেট হারিয়েই পাকিস্তান টার্গেট ছুঁয়ে ফেলে।
কিন্তু ম্যাচের ফলাফলের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে আসে ম্যাচের শেষের দৃশ্য। বড়দের এশিয়া কাপে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচেই হ্যান্ডশেক করেননি। সেই সময় ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। মহিলাদের ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপেও হরমনপ্রীত কৌর সেই নীতিতে অটল ছিলেন, এবারও সবাই নজর রাখছিলেন- যুব দলের ক্রিকেটাররা কি এই প্রথা ভাঙবে?
জিতেশ শর্মা সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট করে দেন মাঠেই। ম্যাচ শেষে কোনও হাত হ্যান্ডশেক হয়নি দুই দলের অধিনায়কের মধ্যে। জিতেশ পরিষ্কার বুঝিয়ে দেন, ভারতীয় ক্রিকেটে এখন পাকিস্তানের সঙ্গে ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতি চলছে এবং এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনও পরিকল্পনাও নেই।
পহেলগাম হামলার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। এরপর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় দলের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক দলগুলিও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে হ্যান্ডশেক করবে না। এই নিয়মেরই পুনরাবৃত্তি দেখা গেল যুব এশিয়া কাপেও।
যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেটমহলের একটা অংশ সমালোচনা করেছে। তাঁদের মতে, মাঠের খেলাকে রাজনৈতিক টানাপড়েন থেকে দূরে রাখা উচিত। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, হ্যান্ডশেক না করলে কি খেলোয়াড়দের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়বে? ক্রীড়ামহলের একাংশের দাবি, পহেলগাম হামলার প্রভাব দেশজুড়ে রয়েছে। বয়স কম হলেও জিতেশ-বৈভবরা এর গুরুত্ব জানে। তাই বড়দের দেখেই শিখল, কীভাবে নিঃশব্দে জবাব দিতে হয়।
তবুও ভারতীয় দলের অবস্থান পরিষ্কার, যা পরিস্থিতি, তাতে পাকিস্তান দলের সঙ্গে বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়া সম্ভব নয়। সেই বার্তাই এদিন আরও একবার দিলেন দিলেন জিতেশ শর্মা। মাঠে লড়াই যেমন হয়েছে, মাঠের বাইরে দূরত্বও ততটাই নজর কেড়েছে।