শুভমান গিলের রেকর্ড ভাঙাগড়ার ইনিংস ক্রিকেটের লোককথায় ঠাঁই পাবে। যে ধৈর্য ও সংযমের দৃষ্টান্ত মেলে ধরেছেন, তা যে কোনও উঠতি ক্রিকেটারের কাছে শিক্ষণীয়।

শুভমান গিল
শেষ আপডেট: 4 July 2025 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সফর শুরুর আগে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন: ‘আমি সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান হতে চাই!’
প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে শতরানের পর নিজের সামনে টার্গেট বেঁধে দেন: ‘আরও বেশি সময় ক্রিজে থাকতে হবে। ভাল নয়… আরও ভাল ইনিংস খেলতে হবে!’
এই দুটো ইচ্ছে পরপর জুড়লে যা দাঁড়ায়, এজবাস্টনের জনতা, ভারতীয়-ইংরেজ দু’পক্ষ মিলে তা প্রত্যক্ষ করলেন, করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানালেন… সেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি পেরিয়ে ডবল সেঞ্চুরির পর স্ট্যান্ডিং ওভেশন স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে এল!
শুভমান গিলের রেকর্ড ভাঙাগড়ার ইনিংস ক্রিকেটের লোককথায় ঠাঁই পাবে। যে ধৈর্য ও সংযমের দৃষ্টান্ত মেলে ধরেছেন, তা যে কোনও উঠতি ক্রিকেটারের কাছে শিক্ষণীয়। উইকেটে যখন ‘প্রাণ’ নেই, তখন বোলারকে অহেতুক ভয় পাওয়ার প্রয়োজনও নেই। স্রেফ বেসিকে আস্থা রাখো। ব্যাকরণ, যেটা অনূর্ধ্ব পনেরো-ষোলোর জমানা থেকে শিখে এসেছ, সেটাকে হাতেকলমে করে দেখাও।
এজবাস্টনে সেটাই করেছেন শুভমান। ভারতীয় অধিনায়কের জীবন নিয়ে নাড়াঘাঁটা করেছেন যাঁরা, তাঁরা অবশ্য এই সাফল্যের আড়ালে একজনের নাম নেবেন, স্বীকৃতি দেবেন। তিনি লখীন্দর সিং। শুভমানের বাবা। ঠাট পাঞ্জাবি। চলনে-বলনে, আদরে-শাসনে অহেতুক আবেগাতুর নন। কোনওদিনই নন। পাঞ্জাবের স্থানীয় ক্রিকেটে যখন ছেলেবেলায় খেলতে নামতেন শুভমান গিল, সেঞ্চুরি হাঁকানোর পরেও বাবার কানমলা জুটত। ‘কেন শতরান দ্বিতশরান হল না?’ বাড়ি ফেরার সঙ্গে সঙ্গে ধেয়ে আসত প্রশ্নবাণ। ডবল সেঞ্চুরি বানালে ট্রিপল না করার খেদ তাড়া করে বেড়াত। বাড়িতে কোনও সেঞ্চুরির সেলিব্রেশন হয়েছে? মনে পড়ে না শুভমানের।
অর্থাৎ, ‘সন্তুষ্টি’র বদলে নিজেকে আরও নিংড়ে যাওয়া, আরও ভাল, আরও সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার তাড়না, আরও শাণিত করে তোলার বাসনা পরিবার-প্রদত্ত! নয়তো কেন গত বছর ভাইজাগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শতরানের পর অহেতুক রিভার্স সুইপ মারতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসার জন্য বাবার বকাঝকার ভয়ে সিঁটিয়ে থাকবেন?
এই ভয় আরও পরিণত, আরও সংযত করেছে শুভমানকে। বেন স্টোকসের পাতা ফাঁদে পা দেননি। মনঃসংযোগ তুঙ্গ স্পর্শ করেছে। বিভিন্ন বোলারের জন্য বিভিন্ন রণকৌশল বেছে নিয়েছেন। ক্রিস ওকসের বলে ক্রিজের বাইরে বেরিয়ে ব্যাট করেছেন, ব্রাইডন কার্সের বিরুদ্ধে খেলতে ক্রিজের গভীরতাকে কাজে লাগিয়েছেন। অলি পোপের হাতে ক্যাচ তুলে ড্রেসিং রুমে ফিরে যাওয়ার আগে পর্যন্ত একটাও শট রুলবুকের বাইরে বেরিয়ে খেলেননি। একশো বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড়শো… দেড়শো দুশোয়। কিন্তু লক্ষ্যচ্যুত হননি শুভমান। ব্যাট প্যাডের কাছাকাছি আসছিল, ফ্রন্টফুটে আত্মবিশ্বাস ঠিকরে বেরোচ্ছিল আর ডিফেন্সে দার্ঢ্যভাবের এতটুকু খামতি ছিল না।
তিনশো হয়নি ঠিকই। কিন্তু ভারতকে লড়াই জেতার মঞ্চ গড়ে দিয়েছেন শুভমান।
খুব সম্ভবত গতকাল রাতে শোয়ার আগে লখীন্দর গিলের ফোনে বকাবকি নয়, শাবসি আর বাহবাই ধ্বনিত হচ্ছিল।