পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি হয়নি। কিন্তু বড় ম্যাচে চাপ সামলে ইনিংস গড়ার ক্ষমতা—এই গুণ অ্যারন জর্জকে আলাদা করে দিচ্ছে।

অ্যারন জর্জ
শেষ আপডেট: 14 December 2025 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত–পাকিস্তান মানেই চাপ। বয়স অনূর্ধ্ব–১৯ (U-19 Asia Cup) হলেও যা একচুল কমে না। দুবাইয়ে রবিবার ঠিক সেই পরীক্ষাতেই পাশ নম্বর নিয়ে উঠে এলেন অ্যারন জর্জ (Aaron George)। সেঞ্চুরি আসেনি। কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৮৫ রানের ইনিংস এমন ছাপ ফেলল, যা শুধু স্কোরকার্ডে আটকে নেই। মাঠের বাইরেও শুরু হয়ে গিয়েছে তুলনা, আলোচনা, প্রত্যাশা… নতুন কোনও উজ্জ্বল তারকা কি ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দিগন্তে উঁকি দিচ্ছে?
আজ ম্যাচের শুরুটা ভারতের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi) মাত্র ৫ রানে ফিরলেন। কিছুক্ষণ পর অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে (Ayush Mhatre) ৩৮ করে সাজঘরে। বড় ম্যাচে পরিচিত মুখদের দ্রুত বিদায়ে দল যখন চাপে, তখন একপ্রান্ত আগলে রাখলেন অ্যারন জর্জ। না বাড়তি ঝুঁকি, না অযথা তাড়াহুড়ো—পুরো ইনিংসটাই খেললেন ঠান্ডা মাথায়।
৮৮ বলে ৮৫ রান। একটি ছয়, বারোটি চার। কিন্তু সংখ্যার চেয়েও বেশি চোখে পড়ল তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন। সময় নেওয়া, গ্যাপ খোঁজা, বোলারের ভুলের অপেক্ষা। পাকিস্তানের পেসার মহম্মদ সাইয়াম (Mohammad Sayyam) ও আলি রাজা (Ali Raza) যখন আঁটসাঁট লাইন–লেন্থে চেপে ধরছেন, তখনও অ্যারনের ব্যাটে নিখুঁত টাইমিং। শক্তির জোর নয়, নিখাদ ক্রিকেটীয় বোধে ছাপ রাখলেন।
আয়ুষের সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি, তারপর অভিজ্ঞান কুণ্ডুর (Abhigyan Kundu) সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ৬০ রান। ১১৩/৪ অবস্থায় এই জুটিই টিম ইন্ডিয়ার ইনিংসকে ভেঙে পড়া থেকে বাঁচায়। আর এখানেই অ্যারনের ইনিংস আলাদা। তিনি শুধু রান করেননি, ম্যাচে ভারতের কামব্যাকের জায়গাটুকু গড়ে দিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুতই ভেসে ওঠে তুলনা। অনেকেই তাঁর স্ট্রোকপ্লে-তে দেখেছেন সঞ্জু স্যামসনের (Sanju Samson) ছায়া—হাই ব্যাট লিফট, মসৃণ ফুটওয়ার্ক, অপ্রয়োজনীয় স্লগিং ছাড়া বাউন্ডারি বের করার ক্ষমতা। বৈভব বা আয়ুষ যেখানে আগ্রাসনের পথে হাঁটেন, অ্যারন সেখানে বেছে নেন নিয়ন্ত্রণের রাস্তা!
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই সেঞ্চুরি আর এল না। আবদুল সুবহানের (Abdul Subhan) শর্ট বলে হুক শট। কভারে ক্যাচ। ঝুঁকিপূর্ণ শটে থামল ইনিংস। মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর মুখে হতাশা, কিন্তু ইনিংসের মূল্য কমেনি একটুও। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শতরান না হলেও, এটি টুর্নামেন্টে তাঁর দ্বিতীয় টানা পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) বিরুদ্ধে ৬৯ রান করেছিলেন অ্যারন, যে ম্যাচে ভারত তুলেছিল পাহাড়প্রমাণ ৪৩৩। সেই ধারাবাহিকতাই এবার এল বড় ম্যাচে। ফলে এই ইনিংস কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ধারাবাহিক উন্নতিরই অংশ।
কেরালায় জন্ম হলেও অ্যারনের ক্রিকেটীয় পরিচয় হায়দরাবাদের (Hyderabad cricket) সঙ্গে। অনূর্ধ্ব–১৯ স্তরে রাজ্যের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার তিনি। ভিনু মাঁকর ট্রফিতে (Vinoo Mankad Trophy) পরপর দুই মরশুমে ৩৪১ ও ৩৭৩ রান। নেতৃত্ব দিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলকে—৩৮ বছর পর হায়দরাবাদের বয়সভিত্তিক ট্রফি জয়। এই সাফল্যই জাতীয় নির্বাচকদের নজরে আনে।
এ বছর বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) ত্রিদেশীয় সিরিজে ইন্ডিয়া ‘বি’ দলের অধিনায়কত্বও করেছেন। অর্থাৎ, ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্বের রেকর্ডও ঝুলিতে। মাঠের বাইরে তাঁর আদর্শ এবি ডি ভিলিয়ার্স (AB de Villiers)। নিজের কথায়, ‘একটা বলের একাধিক উত্তর থাকা—এই জিনিসটাই আমাকে টানে।’
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি হয়নি। কিন্তু বড় ম্যাচে চাপ সামলে ইনিংস গড়ার ক্ষমতা—এই গুণ অ্যারন জর্জকে আলাদা করে দিচ্ছে। অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে এখনও অনেকটা পথ বাকি। তবে এই মুহূর্তে এ কথা বলাই যায়—ভারতের পরবর্তী ব্যাটিং প্রজন্মে এই নামটা আর উপেক্ষা করার জায়গায় নেই।