ক্রিকেটে এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি। এক ওভারে সাকুল্যে ১৮ বল--১২টি ওয়াইড, একটি নো-বল!

জন হেস্টিংস
শেষ আপডেট: 30 July 2025 16:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেটে এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি। এক ওভারে সাকুল্যে ১৮ বল--১২টি ওয়াইড, একটি নো-বল!
অবিশ্বাস্য লম্বা ওভার বোলিংয়ের এমন ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ রেকর্ড গড়েছেন প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার জন হেস্টিংস (John Hastings)। বিদঘুটে ঘটনাটি ঘটেছে ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ লেজেন্ডসে’ (World Championship of Legends-WCL) অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন্স (Australia Champions) বনাম পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্সের (Pakistan Champions) ম্যাচে।
বেসরকারি টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার (Australia) ছুড়ে দেওয়া ৭৫ রানের টার্গেট তাড়া করছিল পাকিস্তান। জবাবে ওপেনিংয়ে শারজিল খান (Sharjeel Khan) এবং সোহেব মাকসুদের (Sohaib Maqsood) ব্যাটেই ৫৫ রান উঠে যায়। সেই সময় বল করতে আসেন জন হেস্টিংস। আর তখনই নাটকের শুরু!
ওভারের প্রথম পাঁচটি বলই ওয়াইড (wide)। তার পর একটি নো-বল (no-ball)। এভাবে চলতে থাকে একের পর এক অতিরিক্ত বলের ধারাবাহিকতা। সব মিলিয়ে ওভারে মোট ১৮ বার দৌড়ে আসতে হয় হেস্টিংসকে। তার চেয়েও মজাদার হচ্ছে, পাঁচটি বৈধ বল শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তানের ম্যাচ জিতে যাওয়া। যে কারণে হেস্টিংসকে এমন দুঃস্বপ্নের ‘ওভার’ শেষ করতে হয়নি।
অতিরিক্ত রান ছাড়াও স্ট্রাইক বদলের উইকেটের এ প্রান্তে আসা শারজিল একটি চার হাঁকান। তবুও হেস্টিংসের বিপর্যয় থামেনি। একসময় হতাশ হয়ে তিনি ধার বদলে যান রাউন্ড দ্য উইকেট (round the wicket)। কিন্তু তাতেও ফল হয়নি। আবার চালু ওয়াইডের বন্যা! শেষমেশ ব্যাটে বল না ছুঁইয়েই পাকিস্তান লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
হিসেব বলছে, ক্রিকেট ইতিহাসে (cricket history) এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে লম্বা ও ব্যয়বহুল ওভার। সামাজিক মাধ্যমে (social media) এই ঘটনা ঘিরে বিদ্রূপ ও মশকরার ঝড় উঠেছে।
ম্যাচ জিতে পাকিস্তান উঠেছে সেমিফাইনালে (semi-final)। প্রতিপক্ষ ভারত। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া (Australia) ও দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa)। যদিও ভারত-পাক লড়াই নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধোঁয়াশা। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে (Pahalgam, Jammu & Kashmir) সন্ত্রাসবাদী হামলার (terrorist attack) প্রেক্ষিতে প্রধান স্পনসর (sponsor) ‘ইজ মাই ট্রিপ’ (EaseMyTrip) ম্যাচ বয়কটের (boycott) সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিশান্ত পিট্টি (Nishant Pitti) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ লেজেন্ডসে (WCL) ভারতের অসাধারণ পারফরম্যান্সে আমরা গর্বিত। কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল কেবল আরেকটা ম্যাচ নয়। সন্ত্রাস আর ক্রিকেট (terror and cricket) একসাথে চলতে পারে না। ইজ মাই ট্রিপ এমন কোনও ম্যাচে যুক্ত থাকতে অপারগ!’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের মানুষ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, আমরা তা শুনেছি। ইজ মাই ট্রিপ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে যুক্ত থাকছে না। দেশ আগে, ব্যবসা পরে (nation first, business later)!’ ফলে এই অবস্থায় ভারত-পাকিস্তান সেমিফাইনাল আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা (speculation) তুঙ্গে।